কোন ধর্ম মানুষকে নাজাত দিবে?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আজকে আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে আলোচনা করব, সেটা হলো মানুষকে কোন ধর্ম জাগতিক দুঃখ থেকে মুক্তি দিয়ে পরকালে জান্নাত / স্বর্গ / heaven এতে নিয়ে যেতে পারবে। ইসলাম,খ্রিষ্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মগ্রন্থের আলোকেই আজকে আমরা সমাধানে আসার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
পয়েন্ট টু পয়েন্ট আকারে আলোচনা হবে, তাই ৭ টা পয়েন্টে ভাগ করলাম।
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান
____________________
বাইবেলের আলোকে নাজাত
★ সত্যি কথা বলতে বাইবেল মানুষের নাজাত পাওয়ার জন্য যেসব শর্ত দিয়েছে সেসব শর্ত সাধারণ মানুষ কেন বরং যীশুও পূরণ করার ক্ষমতা রাখে না ( পয়েন্ট সিক্স এতে জিনিসটা বুঝতে পারবেন) । দুটো ভার্স লক্ষ করুন
ভার্স নাম্বার ওয়ান
" আমি তোমায় সত্যি বলছি, সেখান থেকে তুমি ছাড়া পাবে না, যতক্ষণ না তোমার দেনার শেষ পয়সাটা চুকিয়ে দাও৷
মথি 5:26
দ্বিতীয় ভার্স
"ঠিক সেইরকমভাবে তোমাদের মধ্যে য়ে কেউ তার সর্বস্ব ত্যাগ না করে, সে আমার শিষ্য হতে পারে না৷’"
লুক 14:33
মথি এবং লুক এর ভার্স অমুসারে আপনারা বুঝতেই পাচ্ছেন যে কোনো খ্রিষ্টান এর বাপের সাধ্য নেই যে নাজাত পাবে। বাইবেল অনুসারে নাজাত পেতে হলে আগে ফকির হতে হবে, কিন্তু আমরা দেখি যে তারাই বেশি কোটিপতি। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো ফকির হতে গেলেও আপনার সকল সম্পদ ত্যাগ করে হবে, এখন কথা হলো দুনিয়ার সবাই যদি ফকির হতে চাই তাহলে এত সম্পদ দান হিসাবে নিবে কে??? আসলে বাইবেলে এরকম আরও সত্য দেওয়া আছে, যেগুলো অনুসারে নাজাত পেতে গেলে আপনার আমার কেল্লাফতে। তাই বাইবেল অনুসারে নাজাত পাওয়ার কথা বাদ দিন এখন মাথা থেকে ( খ্রিষ্টান ভাইদের উদ্দেশ্য করে বলা + জ্ঞানীদের উদ্দেশ্য) ।
পয়েন্ট নাম্বার টু
_______________
বৌদ্ধদের ত্রিপিটক এর আলোকে নাজাত*****
বৌদ্ধদের ত্রিপিটক অনুসারে আপনি কখনো চরম নাজাত পাবেন না। এই সম্পর্কে পবিত্র ত্রিপিটক এর সূত্রপিটকে দীর্ঘনিকায়; শীলস্কন্ধ বর্গ, শ্রামণ্যফল সূত্র এর শ্লোক ১৬৮ এতে বলা হয়েছে যে
" সংসারে দ্রোণ তুলিত সুখ-দুঃখের পরিবর্তন হয় না; উহার হ্রাসও নাই, বৃদ্ধিও নাই, উৎকর্ষও নাই, অপকর্ষও নাই। যেরূপ সূত্রগুল ক্ষিপ্ত হইলে তাহার গতি বেষ্টনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেইরূপ মূর্খ ও পণ্ডিত সকলেই পুনঃপুন জন্মগ্রহণ করিয়া দুঃখের অন্ত করিবে" ( ১৬৮ এর শেষ অংশ, ত্রিপিটক আ্যপ বাংলা)
অর্থাৎ আপনাকে বার বার এই জগৎ এতে আসতে হবে। কর্মফল ভোগ করার জন্য। আপনি কখনো চরম নাজাত লাভ করতে পারবেন না। । এছাড়াও বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারে বর্তমানে নাজাত পাওয়া মুশকিল কারণ
বৌদ্ধ ধর্মে একটা কথা আছে সেটা হলো " ধর্মের মধ্যে বৈরাগ্য শ্রেষ্ঠ "( ধর্ম্মপদ. বিংশ অধ্যায়, মার্গবর্গ, গাথা-২৭৩)
প্রথম কথা বৈরাগ্য কখনো ধর্ম হতে পারে না বাস্তবতার বিচারে কারণ বৈরাগ্য ধর্ম যদি সবাই পালন করতে চাই বউ - বাচ্চা, বাবা- মা রেখে তাহলে পৃথিবীর থেকে নাম ও নিশান মিটে যাবে মানুষের। সবাই বৈরাগী হলে বাচ্চা জন্ম দিবে কে??? আর প্রজনন না হলে প্রথম শতাব্দী বা পরবর্তী শতাব্দীতে সব মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। স্বর্গ পেতে গিয়ে পৃথিবী তো নরক হয়ে যাবে। আমি বৈরাগ্যে লেগে আমার পিতা- মাতার সেবা করবে কে? বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করতে গেলেও দাতার কাছে অন্ন থাকতে হবে আর দাতার কাছে অন্ন তখনি থাকবে যখন সে চাষ করবে। যদি দাতাও বেরাগী হয়ে যায় তখন চাষ করে অন্নের জোগান দিবে কে?এক কথায় এই বৈরাগ্য এর মাঝে অনেক ভেজাল আছে। তাই বেরাগ্য কখনো ধর্ম হতে পারে না + এই মাধ্যমে মঙ্গল কম অমঙ্গল বেশি । আর যে অমঙ্গল করে সে কখনো স্বর্গপ্রাপ্ত হয় না।
পয়েন্ট নাম্বার থ্রি
_______________
হিন্দু ধর্মে নাজাত***
হিন্দু ধর্মেরও একই দশা । এই ধর্মেও কর্মবাদ( জন্মান্তবাদও আছে) অনুসারে বার বার এই জগৎ এতে আসতে হবে। কোনো মুক্তি নেই। স্বয়ং যোগরাজ শ্রী- কৃষ্ণও বার বার এই ধরাধমে এসেছে এবং কৃষ্ণের ভক্ত অর্জুনও ( গীতা ৪/৫)
[ এটা প্রথমে বলার কারণ হলো, একসময় নাকি মানুষ পূনর্জন্ম হতে মুক্তি লাভ করবে, এটা ভুল ধারণা সেটা গীতার ৪/৫ দ্বারা প্রমাণিত। একটু চিন্তা করুন। যোগিরাজ কৃষ্ণ এরকম ব্যাক্তি হয়েও বার বার জন্ম গ্রহণ করছে আর হিন্দুরা বর্তমানে সব জ্ঞান পাপী। অনেকে বলে যে হরি নাম জপ করলে নাকি মুক্তি। এটাও ভূয়া কথা । বৈদিক শাস্ত্রে হরি নাম এর কোনো নাম- নিশানও নেই। তাই সনাতন শাস্ত্র অনুসারেও আপনি কেল্লাফতে ]
আর এমন করে সবারও পূনর্জন্ম হবে ( গীতা -২/২২) সো বুঝতেই পাচ্ছেন যে হিন্দু ধর্ম অনুসারে No নাজাত।
পয়েন্ট নাম্বার ফর
_________________
ইসলাম ধর্ম অনুসারে নাজাত*
ইসলাম ধর্ম অনুসারেই একমাত্র আপনি নাজাত পাবেন। সেটা চিরকালের জন্য আপনি জান্নাত পাবেন। একবার জান্নাতে প্রবেশ করলে আপনার আর কখনো এই দুনিয়া বা নরকে প্রবেশ করতে হবে না। আর ইসলাম ধর্ম অনুসারে নাজাত প্রাপ্ত অনেক সহজ। তবে আফসোসের বিষয় মানুষ এই সহজ পন্থাকেও কঠিন করে ফেলেছে।
তিনটা কাজ করতে হবে
১. আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস
২. সৎকাজ
৩. সত্য ও ধৈর্য্য ধারণের উপদেশ
( সূরা আছর ১-৩)
ইনাফ। তাহলেই চলবে। আর আপনি এই তিনটা কাজের মাধ্যমেই.........
আপাতত লেখাটা এখানেই শেষ করছি।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে_3_মেহেদী
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।