প্রধান ধর্মগুলোর আলোকে " নারীরা একটা রাষ্ট্রের শাসক হতে পারবে কি? "
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আমি আমার এই লেখাতে ইসলাম, বৌদ্ধ , খ্রিষ্টান, হিন্দু ধর্ম থেকে এই বিষয়ে আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
ইসলাম ধর্ম অনুসারে নারীরা শাসক হতে পারবে না, কেননা হাদীসে বলা হয়েছে যে -
আবূ বকরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ আসলো যে, পারস্যের (ইরানের) অধিবাসীরা কিস্রার কন্যাকে তাদের সম্রাজ্ঞী নিযুক্ত করেছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে জাতি কক্ষনো সফলকাম হতে পারে না, যারা দেশের শাসনভার কোনো মহিলার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে।( সহীহ : বুখারী ৪৪২৫, নাসায়ী ৫৩৮৮, তিরমিযী ২২৬২, সহীহাহ্ ২৬১৩, ইরওয়া ২৪৫৬।)
[মিশকাত -৩৬৯৩ ]
এই হাদীস দ্বারা সাবিত হয় যে ইসলামে নারীর নেতৃত্ব হারাম।
নারীরা যে শাসক হতে পারবে না এই কথাটা আপনারা সরাসরি বৌদ্ধ ধর্মেও পেয়ে যাবেন। স্বয়ং গৌতম বুদ্ধ বলেছেন -
"৩. হে ভিক্ষুগণ, ইহা অসম্ভব, একজন স্ত্রীলোকের পক্ষে রাজ চক্রবর্তী হওয়া কিছুতেই সম্ভব নহে। কিন্তু ভিক্ষুগণ, একজন পুরুষের পক্ষে তাহা সম্ভব"
[ ত্রিপিটক : সূত্রপিটকে অঙ্গুত্তরনিকায় (১). একক নিপাত(১৫). অট্ঠান (অসম্ভব) বর্গ (২). দ্বিতীয় বর্গ, শ্লোক-৩(১৩) ]
গৌতম বৌদ্ধ নিজেই বলেছে নারী রাজ চক্রবর্তী বা একজন শাসক হতে পারবে না, এটা শুধু পুরুষরা হতে পারবে। এখন নাস্তিক নেড়ীবাদীরা গৌতম বুদ্ধকে কি বলবেন?
এখন দেখি খ্রিষ্টান ধর্ম কি বলে। বাইবেলে উল্লেখ আছে যে -
"আমি স্ত্রীলোককে শিক্ষা দিতে বা পুরুষের উপর কর্তৃত্ব করতে অনুমতি দিই না; বরং সে নীরব থাকুক" ( ১ তীমথিয় ২:১২)
এখানে সরাসরি বলা হয়েছে নারী পুরুষের উপর কর্তৃত্ব করতে পারবে না। শাসক হওয়া মানেই সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব, তাই এই আয়াতকে খ্রিস্টান ধর্মতাত্ত্বিকরা নারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রধান দলিল হিসেবে ব্যবহার করে।
সর্বশেষ আমরা দেখব " নারীরা কি শাসক হতে পারবে নাকি পারবে না " এই বিষয়ে হিন্দু বা সনাতন ধর্মের অবস্থানটা আসলে কি। আমি সরাসরি ( প্রত্যক্ষভাবে) এই বিষয়ে কোনো বিধান পাই নি তবে পরোক্ষভাবে আমরা এটা বুঝতে পারি যে হিন্দু ধর্ম অনুসারে নারীরা শাসক হতে পারবে না।
কিছুক্ষণ আগেই খ্রিস্টান ধর্মের ব্যাপারে বলতে গিয়ে এটা বলেছি যে " শাসক সকল কিছুর উপর কৃর্তত্ব করতে পারবে " এছাড়াও একজন শাসক এর বহুবিধ ক্ষমতা থাকবে, অর্থাৎ একজন শাসকের যেসব ক্ষমতা বা বৈশিষ্ট্য থাকবে সেগুলোর বিরুদ্ধে যদি হিন্দু দর্ম অবস্থান নেই তাহলেই আমরা বুঝতে পারব যে হিন্দু ধর্ম অনুসারেও নারীরা শাসক হতে পারবে না, বর মজার ব্যাপার বাস্তবে এটাই হয়েছে....। যেমন -
“বিবাহ সংস্কারই স্ত্রীলোকের বৈদিক উপনয়ন সংস্কার। সেখানে স্বামীর সেবাই হল গুরুকূলে বাস এবং স্বামীর গৃহ কর্মই হল প্রাতঃসন্ধ্যাকালীন হোমরূপ অগ্নি পরিচর্যা।” ( মনুসংহিতা-২/৬৭)
“স্ত্রীলোকের স্বামী ভিন্ন পৃথক যজ্ঞ নেই। স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোনো ব্রত এবং উপবাস নেই। কেবলমাত্র স্বামীর সেবা করেই স্ত্রীলোক স্বর্গে যেতে পারেন।”( মনুসংহিতা - ৫/১৫৫)
আমরা এসব শ্লোকে দেখতে পাচ্ছি যে নারীরা শুধু ঘড়ে থাকবে এবং স্বামী সেবা করবে। এখন আমার প্রশ্ন হলে নারীরা যদি সারাদিন ঘড়েই থাকে আর স্বামী সেবা করে তাহলে তারা শাসক হয়ে রাজ্য শাসন করবে কখন এবং জনগনের সেবা করবে কখন? । মূলত এসব বিষয় মাথায় রেখে আমরা এটা বুঝতে পারছি যে হিন্দু ধর্মও নারীদের শাসক হওয়ার অনুমতি প্রদান করে নি.... ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।