★★★
____________________৫
আমাদের বাস বারইয়ার হাট এসে থামলো। সেই আশ্চর্যরকম শেকড়টি এখনো আমার হাতে। কিভাবে যেন ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই। ঘুম ভাঙলো কারো নরম সুরের ডাকে। শাহেদ ভাই ডাকছে—রফিক দোস্ত! রফিক দোস্ত! মানে বুঝিনা! রফিক মানেই তো দোস্ত। আবার আলাদা করে দোস্ত বলার কি দরকার।
বাস থেকে নেমে খৈয়াছড়া ঝর্ণার উদ্দেশ্যে একটি সুজুকিতে উঠে বসলাম। অন্যুন দশ মিনিট ব্যয় হলো গাড়ি ভর্তি হতে।এরপর গাড়ি স্টার্ড এবং দুরন্ত গতিতে ছুটলো গন্তব্য..। এখান থেকে ধীরে ধীরে সুদুরে পাহাড়ের নকশা নজরে পড়তে লাগলো। সড়ক থেকে অন্যুন দু কিলো দূর ঘেষে পাহাড়। এরি মাঝের সমতল ভূমি ধান ও শষ্যে হলুদাভ। কিন্তু এমন ভালো লাগার মুহুর্তেও একটু দুঃখবোধ করছিলো সামনের সিটে বসা বুড়িমার জন্য। বয়সটা আমার মায়ের মতোই হবে।চোখ থেকে অনবরত পানি ঝরছিলো। বুঝাই যাচ্ছে চোখে বড় কোন সমস্যা হয়েছে। চিকিৎসার অভাবে দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। হয়তো তার আপন বলতে কেউ নেই।
মহিলা হাতের ইশারায় পুনঃপুনঃ কি যেন বলছিলো। শাহেদ ভাই বলায় জিজ্ঞেস করলাম কি বলছেন— এতক্ষণে বুঝতে পারি মহিলা কথাও বলতে পারেনা। আমাদের কাছে কিছু সাহায্য চাইছে। গাড়ি থেকে নামার সময় শাহেদ ভাই ঈষৎ সাহায্যের হাত বাড়ালেন। এতেকরে বুড়িমা অনেক খুশি হন। আসলে মানুষের সাহায্যেই মানুষের প্রশান্তি। একটি প্রবাদ আছে— ব্যয় অর্থ নয় ব্যার্থ, ধ্রুব সত্য সত্যিই তা আপনের সার্থ।
★★★
__________________৬
মুল সড়ক থেকে পৃথক হয়ে একটি পথ খৈয়াছড়া পাহাড়ের দিকে মোড় নিয়েছে। পথ আরো প্রায় দুই কিলোমিটার। শাহেদ ভাই আর আমি একটি সিএনজিতে চেপে বসলাম। ভাড়া জন প্রতি বিশ টাকা।আমাদের সাথে আরো তিনজন উঠলেন। তাদের মধ্যে একজন মহিলা হওয়ায় পিছনের সিট ছেড়ে সামনে বসতে হলো।
সিএনজি পাহাড়ের পথে যত এগুচ্ছে উত্তেজনা যেন ততই দ্বিগুণ হচ্ছে। ওফ! কেমন হবে সেই মুহুর্ত! একটু পরেই বুজি পাহাড়ে চড়বো। হারিয়ে যাবো পাহাড়ি অরণ্যে। জলপ্রপাতের সিক্ততায় সিঞ্চিত হবো। আনন্দের অবারিত সুখ সংগ্রহে মেতে উঠবো— প্রভুর দেওয়া প্রকৃতির এই কবিতার ছন্দে। ভাবতেই কেমন ভালোলাগা কাজ করছে। তর যেন আর সইছেনা।
এ পথে শুধু আমরা নয়।আরো অন্যুন শত পর্যটক। ঈদের পর মুহূর্ত হওয়ায় দেশের বিবিধ প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে পর্যটকরা। সিএনজি কে এক ধাক্কায় পেছন ফেলে মটর সাইকেল হাইস ও মাইক্রোবাস গুলো এগিয়ে যাচ্ছে অপার গতিতে। একটি রেল গেইটের কাছে এসে সিএনজি থেমে যায়। সামনে আর যাবেনা। কারণ রাস্তার মাঝখানে নীরবে দাঁড়ানো একটি সাইনবোর্ড। যাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা — "সাবধান! রাস্তায় কাজ চলিতেছে "
গত বচ্ছর যখন এসেছিলাম তখন বৃষ্টির কারণে সারাটা পথ কর্দমাক্ত ছিলো। যার ফলে প্রচন্ড দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এবারে সেই কাদার দুর্ভোগ না থাকলেও চলমান কাজের ইস্যুতো যোগ দিয়েছে নতুন মাত্রার দুর্ভোগ।পুরো রাস্তা জুড়ে বালু আর বালু। যেন বালুন জাহাজ। বাতাসের চিমটিতে ঈষৎ উড়ে গোলমাল পাকাচ্ছে।
অন্যান্য পর্যটকরাও এখানে গাড়ি পার্কিং করে সামনে হাঁটতে শুরু করেছে। প্রায় ১০মিনিট বালুর ধাঁধায় ধাধিত হয়ে আমরা পৌঁছে যাই পর্বতের সন্নিকটে। এখানে পাহাড় ও জলপ্রপাত কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো দোকান পাট হোটেল ও বসতি।
" লকারের ব্যবস্থা আছে, মধ্যাহ্নে খাবারের অর্ডার করে যান" প্রায় সবকটি হোটেল থেকেই ভেসে আসছিলো এমন হাঁক ডাক। একটি হোটেলে প্রবেশ করলাম এবং একটি লকারে আমরা আমাদের জিনিসপত্র রেখে মধ্যাহ্নে খাবারের অর্ডার করে বেরিয়ে পড়লাম সেই অপার্থিব মিশনে।
★★★
____________________৭
ঝর্ণার কলকল ধ্বনি, বয়ে চলা ঝরঝরে শব্দ, ও অমায়িক সে হিল্লোল পর্বতের বুক থেকে এক হৃদয় উচ্ছ্বসিত আবহে ভেসে আসছে। আমাদের সামনে দৃষ্ট একটি সরু স্রোতঃপথ। এরই উপরেকাঠ দিয়ে তৈরি একটি ছোট সাকু।এক সময় গ্রামে গঞ্জে সাকু পোল ইত্যাদি দেখা যেত। কাালের হাওয়ায় ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব আজ একদমই বিলুপ্তির পথে। পাড়া মহল্লার পরতে পরতে ভিড় জমিয়েছে ভীষণ নতুনত্বেরা।নসাকু পার হয়ে উঁচু নিচু সরুপথ সরিয়ে আমরা হাটতে থাকলাম।
এখানকার মাটি বেশ শক্ত, পাথুরে। মাটির গায়ে জড়িয়ে আছে হলদে রঙের মিষ্টি আভা। একটি গিরিপথ, অনেকটা সমতল। যে পথ ধরে এগুচ্ছি আমরা এবং শত পর্যটক।
পাহাড়ের নির্জনতায় একটি ছোট্ট বাড়ি। বাড়িটাই যেন একটি হোটেল, একটি ইনকাম সোর্স। পাহাড়ি পেয়ারা, শরবত ও বিরিযানি ইত্যাদি বেশ বিক্রি হচ্ছে। জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম ওরা এখানকার বাসিন্দা না। মুলত এই জায়গাটি একশো বছরের জন্য লিজ নিয়েছে। আমরা ভাবলাম৷ এখান থেকে কিছু খেয়ে নিয়। কখন পাহাড় থেকে ফিরবো তার তো কোন ঠিক ঠিকানা নেই। তাছাড়া পাহাড়ে চড়তে বেশ শক্তিরো তো প্রয়োজন। তাই...
সম্পুর্ন বাড়িটি পাহাড়ি বৃক্ষের সুনসান নীরবতায় বেষ্টিত। ছায়ায় এবং ছোঁয়ায়। হোটেলের এককোণে একটি দোলনা টাঙানো ছিলো। এছাড়াও ওখানকার চেয়ার টেবিল গুলো বাশের তৈরীকৃত ছিল। এক কথায় বেশ আনন্দকর অনুভুতির সমাবেশ।ইচ্ছে তো করছিলো অনন্তকাল পর্যন্ত সেথায় থেকে যাই।জানি এই চাওয়া কখনো পুরণ হবার নয় কারণ এখানে যেমন আমি পান্থশালার পথিক, বেলা ফুরালে ফিরতে হবে নীড়ে। তেমনি এই পৃথিবীর কোলাহলেও আমি এক পান্থশালার পথিক বেলা ফুরালেই ওপারের পথ ধরতে হবে। কাল চক্রের ঘূর্ণন নিষ্ঠুর এই পৃথিবীতে শাশ্বতকাল কাউকে থাকতে দেবেনা। যাইহোক! এখান থেকে হালকা কিছু খাবার গ্রহণ করে দ্রুত সম্মুখে অগ্রসর হলাম।
ঝর্ণার মুল পথ বা প্রবেশদ্বার। যেখান থেকে ঝর্ণায় পৌছানোটা বেশ সহজলভ্য। একটি চৌকি বসানো। পর্যটকরা এপথে বিতরে প্রবেশ করতে হলে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। টিকেট ফি—২০টাকা। দুটি টিকেট সংগ্রহ করলাম আর পাহাড়ি গিরিপথ মাড়াতে থাকলাম।
একটি অণুগল্প —
পাহাড়ি গিরিপথে যখন আমরা গভীরতর অরণ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ করেই থমকে যেতে হলো।
কিসের যেন এক গুঞ্জরণ!
প্রথমে মনে হলো বাতাসে পাতার সোঁ সোঁ শব্দ, কিন্তু ধীরে ধীরে তা যেন স্পষ্টতর হতে লাগল।
মনে হচ্ছিল আশেপাশে হাজারো ক্ষুদ্র প্রাণীর সম্মিলিত শব্দ—একটা দলবদ্ধ গুঞ্জন, ঠিক যেন এক অদৃশ্য মিছিল চলছে অরণ্যের বুক চিরে।
আমরা ব্যাকুল হয়ে চারপাশে খুঁজে চলেছি—গাছের গুঁড়ি, শুকনো পাতার নিচে, কিংবা পাথরের ফাঁকে।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কোনো পোকামাকড় চোখে পড়লো না!
গুপ্ত অথচ কানে বিঁধে যাওয়ার মতো এই গুঞ্জন যেন আমাদের মনে একরকম শিহরণ জাগিয়ে দিল।
স্থানীয় এক অধিবাসীকে জিজ্ঞাসা করলে সে শান্তভাবে বলল,
“আমি পনেরো-সতেরো বছর ধরে এই এলাকায় বাস করছি। গুঞ্জনের শব্দ মাঝেমধ্যেই শুনি বটে, কিন্তু এসব পোকামাকড়কে চোখে কখনো দেখিনি।”
সত্যিই—এ এক রহস্যময় পৃথিবী!
মহাশূন্যে ভাসমান এই নীল গ্রহে প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার, বুঝবার, আবিষ্কারের মতো উপাদান লুকিয়ে রয়েছে।
এই ধরিত্রীর আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা প্রাণীকুলের সংখ্যা নিয়ে বিজ্ঞানীরাও আজ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।
২০১১ সালে ড. কামিলো মোরা ও তার সহকর্মীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখান—এই পৃথিবীতে আনুমানিক ৮.৭ মিলিয়ন প্রজাতির জীব রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫.৫ মিলিয়নই পোকামাকড়।
তাদের মতে, এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা গেছে মাত্র ১৫% এরও কম।
অর্থাৎ, পৃথিবীর ৮০% প্রাণী এখনও অজানা — অদৃশ্য, অদেখা, অচেনা। তাহলে যে গুঞ্জন আমরা শুনছিলাম, তা কি সেই অজানা ৮০%-এরই কোনো প্রতিনিধি?
এই প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই।
তবে এটুকু নিশ্চিত—এই বিস্ময়কর জগৎ মহান রবেরই সৃষ্টি, যেখানে প্রতিটি প্রাণীই একেকটি রহস্য, একেকটি নিপুণ কারিগরির নিদর্শন।
এই পৃথিবী শুধু বসবাসের স্থান নয়, এক অনন্ত বিস্ময়ের পাঠশালা।
সত্যিই এ এক অদ্ভুত পৃথিবী! মহাশূন্যে ভাসমান পৃথিবী নামক এই গ্রহে কতো অদ্ভুত রকমের প্রাণী ও বিচিত্র পোকামাকড়ের বসবাস।কতো অদ্ভুত বিচিত্রের লীলাভূমি এই পৃথিবী। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে কতো শত গবেষকের গবেষণা এই অধ্যায়ের বিস্তৃত অরণ্য জুড়ে। কিন্তু কেউ কি এর কোন সঠিক সংখ্যা কিংবা কোন প্রকার নির্দিষ্ট করে দাবি করতে পেরেছে! এসব মহান রবের সৃষ্টি।
(২৩ আগস্ট ২০১১-
বৈজ্ঞানিক জার্নাল: PLoS Biology (Peer-reviewed, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নাল)
★★★
____________________৮
উচু- নিচু, দুর্গম- সরলের সমান্তরালে পথ চলতে চলতে এক সময় আমরা পৌছে যাই খৈয়াছড়ার প্রথম ঝর্ণায়। এখানকার স্নিগ্ধ ধারা স্পর্শ করার আগেই চোখে পড়লো কিছু অনভিপ্রেত দৃশ্য, যেখানে তরুণ-তরুণীদের অসংযত উচ্ছ্বাস প্রকৃতির পবিত্রতা নষ্ট করছিল। মনে হলো, তারা যেন নিজের শেকড় ভুলে আধুনিকতার মোহে পথ হারিয়েছে।"
প্রথম ঝর্ণার এমন নির্মম ও বেহাল সাক্ষাতের মুখোমুখি বেশিক্ষণ থাকতে পারলামনা। এক চিলতে ব্যথার অনুভূতি নিয়ে চলতে হলো ২য় ঝর্ণা, পাহাড়ের আরো উচ্চতার অভিমুখে। পাহাড়ে আরোহনের জন্য এখানে এক বৃক্ষ হতে অন্য বৃক্ষে রশি ইত্যাদি লাগোয়া ছিলো। যাতে আরোহন সহজলভ্য হয়। মুক্তোর দানার মতো ফোঁটা ফোঁটা ঘাম। হাতে পায়ে ঈষৎ ব্যথা।
যে ব্যথায় রয়েছে এক আকাশ আনন্দ আর এক সাগর অনুভূতির ছোঁয়া।
আমরা এক অসীম স্বপ্নে বিভোর হয়ে পাহাড়ে চড়ছি। অদূর থেকে ভেসে আসছে ঝর্ণার আন্দোলিত আলোড়ন। এক পশলা স্বপ্নের মাঝে ঝর্ণার শব্দ যেন আমায় ইশারা করছে কালামে পাকের একটি আয়াতের প্রতি।যেন পর্বত আপন কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে বলে উঠলো—
والجبال اوتادا। এবং আমার চোক্ষুপটে অংকিত হয়ে উঠে একটি চিত্র, একটি গল্প যার নায়ক স্বয়ং আল্লাহ তা'য়ালা।
তিনি অথৈ সাগরের বুক উজাড় করে সৃষ্টি করলেন এখনকার এই বুড়ো পৃথিবীকে । কিন্তু সাগরের উত্তাল ঢেউ এর তরঙ্গে পৃথিবী যেন সহসাই হেলে যেতে লাগলো। এরপর পৃথিবী কে স্থির করার জন্য কুঞ্জি বা পেরেক রুপে সৃষ্টি করলেন পর্বত রাজি। অতঃপর পৃথিবী স্থির হলো, থমকে গেলো, বন্ধ হলো তার হেলে পড়া।এরপর আবারো প্রতিধ্বনিত হয় সেই আধ্যাত্মিক বাক্য — والجبال اوتادا
আচমকা বন্ধুর ডাকে অভাবনীয় এই সুন্দর ভাবনার জগৎ থেকে ছিটকে পড়ি বস্তুজগতে। সম্বিত ফিরে পেয়ে তাকিয়ে দেখি তিনি প্রায় দ্বিতীয় ঝর্ণায় পৌছে গেছেন। এদিকে আমি যেন অনেকটা পিছনে পড়ে রইলাম।অবশ্য বন্ধুর মনোজগতে জযবা একটু বেশিই কাজ করছিলো তাই তিনি যেন এই ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে। খুব উচ্ছ্বাস ও আবেগ নিয়ে এগুচ্ছিলেন।
যে সমস্ত পানির ব্যাপারে শরিয়ত প্রবিত্রতার হুকুম দিয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো ঝর্ণার পানি। বেশ স্বচ্ছ ও সুপেয়। গ্রীষ্মের দাবদাহে একমুঠো ঝর্ণার জল যেন প্রাণের খোরাক। তার একফোঁটা ছোঁয়ায় জাগে ত্বকজুড়ে শিহরণ, মন জুড়ে প্রশান্তি। ঝর্ণার ঝরঝর শব্দ ও মুখর সাইরেনে কিছু মুহূর্ত অবগাহনে গা ভাসালাম। পানি ছুড়াছুড়ি, দাপাদাপি! এখানকার সবগুলো মুহূর্ত ছিলো বেশ উপভোগ্য। কতো কবি! কতো সাহিত্যিক তাদের ছন্দে কাব্যে, কবিতায় ও ছবিতায় তুলে ধরেছেন এসব প্রশান্তি মুখর চিত্র। কিন্তু হায়! আমার শব্দ ভান্ডার যে বড় সীমিত! আমার ভাবনার পট যে বড় সংকীর্ণ!
এরপর আরো উপরে, বেশ উপরে যেখানে রয়েছে তৃতীয় ঝর্ণা, স্বপ্নচূড়ার তৃতীয় স্তর,—আমি এবং সে আমরা পাহাড় বাইতে শুরু করি অযাচিত শিহরণের মুঠো মুঠো আবদারে।এখানে যতই ক্লান্তি ততই যেন চুমুকে চুমুকে আনন্দ।যেন এক পলকে ছুটে চলা উদাসী বাতাস। যেখানে শুধুই মুক্ততা ও মুগ্ধতা। এই পাহাড়ি ভ্রমণ শুধু দেহের ক্লান্তি নয়, আত্মার পরিশুদ্ধিও এনে দেয়। এখানে একেকটি ধাপ যেন জীবনের একেকটি স্তর—কখনো কষ্ট, কখনো আনন্দ, কখনো আত্মদর্শন।
★★★