#একটি_নিরপেক্ষ_ও_যুক্তিসঙ্গত_আলোচনা
ইসমা কিয়াস কি সত্যিই হারাম?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
চ্যাট জিপিটির ছাগল ইউজার ব্রেন ছাড়া নাস্তিক মুনকারে হাদীসদের কথা কপি পেস্ট করে দাবি করছে যে ইসলামে নাকি ইজমা, কিয়াস হারাম! । এসব ছাগল গুলো সঠিক করে হাদীসটাও বলতে পারে না আর কোরআন তো আরবিতে জীবনে পড়তেও পারে না তারা আসে ইসলামের বিধান নিয়ে কথা বলতে। আমি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, ইজমা কিয়াস হারাম এটা কোথায় বলা আছে? বা কোন ইমাম বলে গিয়েছে ইজমা কিয়াস হারাম? যদি কোথাও ( নস) এতে বলা না হয়ে থাকে আর কোনো মহান ইমামও ইজমা,কিয়াসকে হারাম না বলে থাকে তাহলে তার মতো ভ্যাঙ্গু ছাগল নাস্তিকদের কথা আমরা মানতে যাবো কেন? আশা করি এই জাহেল উত্তর দিবে।
এখন আমি এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত পয়েন্ট এতে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
" ইসমা কিয়াস হারাম" এই পয়েন্ট এতে একটু পরে যাচ্ছি, আমি আপাতত তার পরবর্তী লেখা -
" আল্লাহর রাসূল যা বলেন নি.... নিজের মনগড়া কথা...... "
সে এতটুকুই দিয়ে বুঝাতে চাইল যে িজমা কিয়াস হারাম!
এখন এখানে সংক্ষিপ্ত খন্ডন দিচ্ছি।
প্রথমত সে যেভাবে বলেছে হাদীসটা সে ভাবে আসে নি, বরং হাদীসটা এরকম -
সালামা ইব্নু আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যাক্তি আমার উপর এমন কথা আরোপ করে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’
(আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১০)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১০৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
দ্বিতীয় তো ইজমা কিয়াস কেও নবীর নামে বলে না, তাই এই হাদীস দ্বারাও এটা সাবিত হবে না যে ইজমা কিয়াস হারাম। হাদীসে নবীর নামে মিথ্যাচার করার কথা বলা হয়েছে, আর আলেমরা ইজমা বা কিয়াসের সময় বলে না যে এটা নবীজি বলেছে!" তাই এই হাদীস দ্বারা ইজমা কিয়াস হারাম হওয়ার কোনো চান্স নেই। আশা করি বুঝেছেন
এখন মূল পয়েন্ট এতে আসি।
প্রথমে ইজমা সম্পর্কে বলছি।
রাসূল সাঃ বলেন-
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা আমার উম্মাতকে অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-র উম্মাতকে কখনোও গোমরাহীর উপর সমবেত করবেন না। আর জামা’আতের উপর আল্লাহ্ তা’আলার হাত (সাহায্য) প্রসারিত। যে লোক (মুসলিম সমাজ হতে) আলাদা হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্নভাবেই জাহান্নামে যাবে।
( তিরমিজি, হাদিস নং ২১৬৭ : সহীহ হাদীস ইনশাআল্লাহ )
এই হাদীস থেকে ইজমা এর দলীল পাওয়া যায়। ইজমা মানে হলো জমহুরের ঐক্যমত বা একত্রা পোষণ করা। নবীজি নিজেই বলেছেন যে " তার উম্মত গোমরাহ এর উপর সমবেত হবে না" অর্থাৎ উম্মতের নেককার জ্ঞানী বান্দারা যদি একটা বিষয়ের উপর সমবেত হয় তাহলেও তা হুজ্জাত বা দলীল। তার তাদের সমবেত ( ইজমা) হারাম নয় বরং তা মানতে হবে আমাদের, কেননা ফুকাহা কেরামের মতও মানতে হবে ( নিসা-৫৯/ তাফসীরে আহসানুল বয়ান ও তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়া ) ।
অতএব ইজমা হারাম নয় বরং ইজমা সম্পূর্ণ বৈধ। এই ব্যাপারে ইসলামের মহান আলেমদের কওল প্রদান করছি যারা ইজমার বৈদতা ও হুজ্জাতের ( দলীল) এর পক্ষে মত দিয়েছেন।
শাফেই রহিমাহুল্লাহ বলেন-
জানি যে, রাসুলুল্লাহ সা. এর উম্মাহ কখনোই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর বিপরীতে ইজমা করতে পারেনা এবং তারা কখনোই এই বিষয়ে ভুল করবে না, ইনশাআল্লাহ। ( রিসালাহ লিল শাফি'ঈ পৃষ্ঠা ৪৭২/ সংগৃহীত )
তাইমিয়াহ রহিমাহুল্লাহ বলেন-
ইজমা হলো এমন একটি বিষয় যার উপর ফুক্বাহা, সুফি, আহলে হাদিছ, আহলে কালাম এবং অন্যান্য সকল সাধারণ মুসলমান একমত। তবে কিছু বিদ'আতী যেমন মুতাজিলা ও শিয়া ইজমাকে অস্বীকার করে থাকে।"মাজমাউল ফাতাওয়্যা লি ইবন তাইমিয়্যা ১১/৩৪১ / সংগৃহীত রেফারেন্স)
আর বাকি রইলো কিয়াস, প্রথমে বলে নিচ্ছি কিয়াস আসলে কি। কোনো কিছু যখন সরাসরি কোরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট ভাবে না আসে তখন ওই বিষয়ের অনুরুপ কিছু পেলে সেখানে সাদৃশ্য মোতাবেক যে সিদ্ধান্ত নিয়ে আসা হয় তাই কিয়াস। কিয়াসকে আমরা আরেক ভাবে ইজতিহাদও বলতে পারি। আল্লাহর রাসূল সাঃ বলেন-
মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) কতিপয় সঙ্গীর সূত্র থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাকে ইয়ামানে পাঠানোর ইচ্ছা করলেন তখন বললেনঃ তোমার নিকট যখন কোন মোকদ্দমা আনা হবে, তখন তুমি কিসের ভিত্তিতে এর ফায়সালা করবে? তিনি বললেন, আল্লাহ্র কিতাব মোতাবেক। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি যদি আল্লাহ্র কিতাবে এর কোন ফায়সালা না পাও? মু’আয (রাঃ) বললেন, তাহলে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাত অনুযায়ী। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি যদি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাত এবং আল্লাহ্র কিতাবে এর ফায়সালা না পাও? মু’আয বললেন, তাহলে আমি ইজতিহাদ করবো এবং অলসতা করবো না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মু’আযের বুকে হাত মেরে বললেনঃ সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্র জন্য, যিনি তাঁর রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিনিধিকে আল্লাহ্র রাসূলের মনঃপুত কাজ করার তৌফিক দিয়েছেন। ( সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৫৯২/ মিশকাত -৩৭৩৭ / রেওয়াতের মান : দুর্বল তবে গ্রহণীও ইনশাআল্লাহ )
এই হাদীস থেকে আমরা কিয়াসের বা ইজতিহাদের বৈধতা পেয়ে থাকি। যদিও এটা দুর্বল হাদীস কিন্তু ইজতিহাদ বা কিয়াস করা যে বৈধ এই সম্পর্কে বিশুদ্ধ হাদীসও মজুদ আছে। এই সম্পর্কে আরেকটা হাদীস দেখুন-
আমর ইব্নু ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে এ কথা বলতে শুনেছেন, কোন বিচারক ইজ্তিহাদে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছলে তার জন্য আছে দু’টি পুরস্কার। আর বিচারক ইজ্তিহাদে ভুল করলে তার জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার।[মুসলিম ৩০/৬, হাঃ ১৭১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫০)
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৩৫২ / হাদীস বিডি)
এই হাদীস থেকে সরাসরি ইজতিহাদ বা কিয়াসের বৈধতা আমরা পেয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও সাহাবী আবু মূসা আশআরী এর উদ্দেশ্যে উমার রাদিআল্লাহু আজমাইন এর উদ্দেশ্যে তিনি যে চিঠি দিয়ে ছিলেন সেখানেও তিনি কিয়াসের বৈধতার ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন ( বায়হাকী-১০/১১৫ সংগৃহীত রেফারেন্স) আর সাহাবীদের কথা বা সুন্নাতও মানতে হবে ( আবু দাউদ -৪৬০৭)
ইমাম মুযনী রহিমাহুল্লাহ বলেন-
সাহাবিদের যুগ থেকে তার যুগের সকল ফুকাহা কেরাম আহকামের ( বা সকল বিধি বিধানে) কিয়াসের ব্যবহার করেছেন ( ইগাসাতুল লাহফান-১/৮৬ / সংগৃহীত )
তো আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে হাদীস ও ইমামদের বক্তব্য দ্বারা এটা বুঝতে পারলাম যে ইজমা কিয়াস শরীয়তে সম্পূর্ণ বৈধ। সে যে হাদীস দ্বারা এগুলো বাতিল করতে চেয়েছিল আর সেই হাদীসের জবাব দিয়ে হাদীসের মাধ্যমে ও ইমামদের বক্তব্য দ্বারা এটা সাবিত করে দিলাম যে ইসলামি শরীয়তে ইজমা কিয়াস বৈধ।
এখন সে যদি আমাকে ডিবাংক করতে চাই তাহলে তার পাল্টা দলীল এবং ইমামদের কওল দিয়ে আমাকে রদ ( ডিবাংক) করে দেখাক যে আমি ভুল.......
তো আশা করি পুরো বিষয়টা আপনাদের সামনে ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছে।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।