#শর্ট_কাউন্টার_পোস্ট_by_muslim
সিরিজ পর্ব১০৭
সম্ভবত দু- দিন আগেই Screenshots নিয়ে ছিলাম। এই কপি পেস্ট লেখাটা আমি আরও অনেক জায়গায় দেখেছি যে " যারা বাউল অশ্শীল গান বাজনা জায়েজ প্রমাণ করতে চাই, তারা এগুলো ব্যবহার করে গুগল ওয়েবসাইট , ফেসবুক গ্রুপ এবং নিজ টাইমলাইনে.. "। তাই ভাবলাম হালকার উপর তাহকীক মানে পর্যালোচনা করি।
আমি প্রথমেই একটা হাদীস পেশ করব আপনাদের সামনে যা ক্লিয়ার করবে যে, গান শোনা হালাল নাকি হারাম! ।
হাদীসটা হলো-
আবূ মালেক আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের কতক লোক মদের ভিন্নতর নামকরণ করে তা পান করবে। (তাদের পাপসক্ত অবস্থায়) তাদের সামনে বাদ্যবাজনা চলবে এবং গায়িকা নারীরা গীত পরিবেশন করবে। আল্লাহ তা’আলা এদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দিবেন এবং তাদের কতককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করবেন ( ইবনু মাজাহ-৪০২০)
লিংক -
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=44985
তো মালেক আল আশআরির মতো আরও অনেক জন সাহাভী থেকে গান বাজনার বিরুদ্ধে সহীহ হাদীস মজুদ আছে, যা প্রমাণ করে গান হারাম। আমি যে রেওয়াত এখানে উল্লেখ করেছি, সেখানে বর্তমান জামানার কথাই বলা হয়েছে, এবং আমরা বাস্তবেই এই হাদীসের বাণী যে সত্য তা বুঝতে পাচ্ছি....।
এখন আসি screenshots এতে বলা দাবি ও দলীল এর ব্যাপারে।
প্রথমে একটা কথা বলে রাখি যে, রাসূল সাঃ এর পর কারো কোনো কর্ম একক বাবে আমাদের কাছে দলীল নয়, সুস্পষ্ট বিধান থাকার পরেও কারো কর্ম দ্বারা তা হাল বা হারাম নির্ণয় হবে না.....।
পয়েন্ট -১
সেই কপি পেস্ট ( এর মুল লেখাটা যে কার আমি সেটা জানি না...) লেখাটার প্রথমেই বলা হয় যে " মঈনুদ্দিন চিশতি রহিমাহুল্লাহ নাকি গান গেয়ে শুনিয়ে ছিলেন.. " রেফারেন্স হিসাবে তাযকেরাতুল আউলিয়া এর হাওলা পেশ করে চতুর্থ খন্ডের...।
জবাব : প্রথমত মঈনুদ্দিন চিশতি রহিমাহুল্লাহ হালকা - পাতলা সেমা ( গজল আকারের সঙ্গিত) শুনতেন বাস্তব, কিনা সেটা বর্তমানে সিদ্ধিখোরদের dj অশ্শীল গান নয়! । দ্বিতীয় তো যে তাযকেরাতুল আউলিয়া এর কথা বলা হয়েছে, সেখানে মঈনুদ্দিন চিশতির নামে এই কথাটা সনদবিহীন বিকৃত ভাবে নিয়ে আসা হয়েছে, । অর্থাৎ রেওয়াতটা যে জাল তা বুঝায় যাচ্ছে, অতএব এই দলীল ( তারা যেহেতু এটাকে দলীল ভাবে তাই আমিও দলীলি বলে দিলাম... যদিও এটা দলীল না বা দলীল শব্দটাই এখানে প্রযোজ্য না) বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত!
পয়েন্ট -২
দ্বিতীয় তো পুরো জাল কিতাব থেকে একটা জাল দলীল নিয়ে আসে। আজও কোনো সিকাহ ইমাম " তাওয়ারিয়ে মুহাম্মদি " কিতাব বলতে কোনো কিতাব লেখেছে নাকি তা আমি অবগত হতে পারি নি... একে তো কিতাব অপরিচিত এবং ঘটনাটাও অপরিচিত.... । মুহাদ্দিসগণ এরকম কোনো হাদরসের বা তারীখের কিতাব এর নাম উল্লেখ করেন নি, এবং কোনো ইমামের দিকে এরকম কিতাব নিসবতও করেন নি... অতএব এটাও বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত...
পয়েন্ট -৩
নবীজির নির্দেশে বেলাল মদকে নিষেধ করেছে ঢোলকে না.."
আরে ভাই এটা কি রকম দলীল? একটা নিষেধ করেছে, আরেকটাতে করেন নি, তাই সেটাও হালাল এই উসূল কয় থেকে এরা আমদানি করল??, যেখানে বলা হয়েছে যিনা করা হারাম, সেখানে তো বলা নেই, মায়ের সাথে যিনা হারাম! , এখন কি এরা এই যুক্তিতেও বলবে নাকি যে মায়ের সাথে যিনা বৈধ!।
পয়েন্ট -৪
খাজা বাবা আর তার কথিত পীর সম্পর্কে যে ঘটনা বলা হয়েছে তার আগা মাথা পুরাই জাল, এবং কি " আনিসুল আরোহাও জাল"। আর মুহাদ্দিস গণ তাদের রিজাল শাস্ত্রে এই উসমান হারুনী নামে কথিত পীর এর জীবনি টবং উল্লেখ করেছেে আমার জানা নেই... অতএব এটাও জাল ও প্রত্যাখ্যাত....
পয়েন্ট -৫
বুখারীর যে হাওলা দিয়ে ঘটনাটা বলা হইছে ওরকম কিছু উক্ত রেফারেন্স এতে নেই। এরকম একটা ঘটনা ইবনে মাজাহতে আছে, আর সেটা হলো
" নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনাহ্র গলিপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কয়েকটি বালিকা দফ বাজিয়ে গান গেয়ে বলছিল, “আমরা বনু নাজ্জারের বালিকার দল। কত খোশনসীব! মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মহৎ প্রতিবেশী”। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্ অবগত আছেন, আমি তো তোমাদের ভালোবাসি( মিশকাত -৩১৫৩)
লক্ষ করুন এখানে বলা হইছে দফ এর কথা, আর কপি পেস্ট এতে বলা হইছে ঢোল এর কথা, এরা দফ আর ঢোল এক করে ফেলছে...। আর হাদীসটা দেখলেই বুঝা যায় যে এখানে গান বলতে বর্তমানে ডিজে গান না বরং শালীনতা বুঝানো হইছে... আর সেটা কি রকম গান তা ওখানে উল্লেখি করা আছে.....
তার পের রেফারেন্স উলট পাল্টা এবং হাদীসের অর্থগুলোও চেন্স। যেমন লক্ষ করুন ছয় নাম্বার দাবিটা। সেখণে বলা হইছে নৃত্য করে নাকি গান গাওয়া হইছিল" কিন্তু এরকম কিছুই হাদীসে নেই.... ক কে খ বানিয়ে দিসে.... । আর সাত নাম্বারে তো কিতাবের নামটাই সঠিক করে লেখতে পারে নাই....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।