প্রথম কথা নস এতে শবে বরাত বলতে কোনো শব্দ নেই, রেওয়াতে নিফসী মিন শাবান বা শাবানের মধ্যবর্তী রাত কথাটা বলা আছে, আর এই রাতকে আলাদা করে পবিত্র বলা হয়েছে বলেও আমরা জানি না ( যদি বলা হয় তাহলে দলীলটা দিবেন আমরাও অবগত হতে চাই....) । দ্বিতীয় তো দোয়া প্রতি রাতেই কবুল করা হয়। হাদীস -
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব ( বুখারী -১১৪৫)
তো হাদীস থেকে যখন প্রতি রাতে দোয়া কবুলের কথা আছে তখন আলাদা করে কিছু মানুষ শবে বরাত নিয়ে কেন পরে থাকে তা আমরা জানি না.... ।
তৃতীয় তো শবে বরাত ভাগ্য পরিবর্তনের রাত এটা কোন হাদীসে আছে? কোনে বিশুদ্ধ হাদীসেই এই বিষয়টা প্রমাণিত নয় যে শবে বরাতে ভাগ্য পরিবর্তন হয়।
আর বাকি রইলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া + বান্দাকে দান করার ব্যাপারটা! এটার জবাবেও বলব যে আল্লাহ প্রত্যেক রাতের শেষ অংশেও দোয়া করলে সেটা কবুল করেন এবং আমরা দোয়াতে চাইলে তা দান করেন, যেমনটা আমি কিছুক্ষণ আগেই হাদীস থেকে দেখালাম।
এখন আমি সংক্ষিপ্ত করে এই রাতের ব্যাপারে আমার মতামত প্রদান করছি। এই রাতের বিশেষ ফজিলত আছে, তবে সেটা যেরকমটা আমাদের সমাজে প্রচলিত সেরকমটা না। শবে বরাত বা নিফসী মিন শাবান সম্পর্কে গ্রহণীও পর্যায়ের হাদীসে আছে -
" মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃকপাত করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।’’
এ অর্থের হাদীস কাছাকাছি শব্দে ৮ জন সাহাবী: আবূ মূসা আশআরী, আউফ ইবনু মালিক, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, মুয়ায ইবনু জাবাল, আবু সা’লাবা আল-খুশানী, আবূ হুরাইরা, আয়েশা ও আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে।
( রেফারেন্স : ইবনু মাজাহ, আস- সুনান ১/৪৪৫; বাযযার, আল-মুসনাদ ১/১৫৭, ২০৭, ৭/১৮৬; আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল-মুসনাদ ২/১৭৬; ইবনু আবি আসিম, আস-সুন্নাহ,পৃ ২২৩-২২৪;)
এগুলোর মধ্যে কিছু সনদ দুর্বল ও কিছু সনদ ‘হাসান’ পর্যায়ের। সামগ্রিক বিচারে হাদীসটি সহীহ। শাইখ আলবানী বলেন, ‘‘হাদীসটি সহীহ ( আলবানী, সাহীহাহ (সিলসিলাতুল আহাদীসিস সাহীহাহ) ৩/১৩৫) । তা অনেক সাহাবী থেকে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে, যা একটি অন্যটিকে শক্তিশালী হতে সহায়তা করে।
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, এ রাত্রিটি একটি বরকতময় রাত এবং এ রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন। কিন্তু এ ক্ষমা অর্জনের জন্য শিরক ও বিদ্বেষ বর্জন ব্যতীত অন্য কোনো আমল করার প্রয়োজন আছে কি না তা এই হাদীসে উল্লেখ নেই।
[ এই অংশটা খন্দকার জাহাঙ্গীর স্যারের বই " কোরআন সুন্নাহর আলোকে শবে বরাতের ফজিলত ও আমল " বইটা থেকে নেওয়া... ]
তো সংক্ষিপ্ত আকারে জাহাঙ্গীর স্যারের এই কথাটাই আমার মত যা আমি লালন করে থাকি.... ।
এই বিষয়ে জানতে আরও পড়ুন -
কুরআন-সুন্নাহর আলোকে শবে বরাত: ফযীলত ও আমল
[ বইটার pdf লিংক -
টেলিগ্রাম থেকে ডাউনলোড লিংক -
https://t.me/frerase/274?singl e ]
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।