#আমি_কেন_ইসলাম_ধর্মে_বিশ্বাসি_ও_ইসলাম_পালন_করি
সিরিজ পর্ব-৩
বিজ্ঞানের কাঠগড়ায় বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আগের দুই সিরিজ পর্বে আমরা প্রধান দুটো মানদন্ডের আলোকে প্রচলিত ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিচার করে দেখেছি। সূরা নিসা-৮২ এবং বাকারা-২০৮ আয়াত দ্বয়ের মানদন্ডে আমরা প্রধান তিন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ সমূহ বিচার করে বুঝতে পেরেছি যে আল- কোরআন সত্য সত্য সত্য ও ইশ্বর প্রদত্ত। আজকে আমরা তৃতীয় মানদন্ডের আলোকে বিচার করব বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ সমূহ ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রথমেই আমরা পবিত্র আল- কোরআন এর একটা আয়াত দেখে নেই। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
" ইয়াসিন; বিজ্ঞানময় কোরআন "( সূরা ইয়াসিন-২)
আমরা এই আয়াত থেকে ঐশ্বরিক কিতাব এর আরেকটা গুনগত শর্ত পেলাম সেটা হলো " কোনো গ্রন্থ ইশ্বর প্রদত্ত হতে হলে সেটা বিজ্ঞানময় হতে হবে এবং বিজ্ঞানের সাথে সেই কিতাব এর কোনো আয়াত/ শ্লোক/ পর্দ সাংঘর্ষিক হওয়া যাবে না।
তো এখন আমরা দেখে নিবো কোরআন বাইবেল বেদ এর বিজ্ঞান / নাকি অবৈজ্ঞানিক সেটা।
প্রথমেই চলে যাবো হিন্দু বা সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীও গ্রন্থ বেদে ( মনুসংহিতা -২/৬) ।
* " সূর্য লোহার তৈরি রথে আহরণ করে ঘুড়ে বেড়ায় "
( ঋগ্বেদ -৫/৬২/৮- সায়ন ভাষ্য) [ বিপরীতে আল- কোরআন সূর্যের ব্যাপারে কি বলে তা দেখুন ( সূরা আম্বিয়া-৩৩ ও সূরা ইয়াসিন-৩৮ ; সূরা ইয়াসিন -৪০) ]
আপাতত মনে করি এই একটাই মন্ত্র যথেষ্ট সমগ্র বেদকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার। সূর্য ঘুড়ে তার কক্ষপথে এটা সত্য কিন্তু কোনো লোহার তৈরি রথে ঘুড়ে বেড়ায় না। আসলে প্রাচীন সময়ে মানুষ মহাকর্ষ বল সম্পর্কে জানত না। গ্রহ নক্ষত্র গুলো যে মহাকর্ষ এর প্রভাবে যার যার নিজ কক্ষপথে ঘুড়ে এটা তাদের অজানা ছিল। তাই তো মহান পন্ডিত যিনি বিজ্ঞানের উপর পিএইচডি করেছেন তিনি তার ভাষ্যে এই মহান বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদান করেছে। শুধু বেদ কেন হিন্দুদের অন্যান্য গ্রন্থেরও একি দশা। যেমন : পৃথিবী সিংহ রুপ ধারণ করেছিল ( ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২/৫/৩০/৯)
ভাইরে পৃথিবী কখনো সিংহের রুপ ধারণ করে নি। এটা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও গাঁজা খুরি কেচ্ছা।
এছাড়াও হিন্দুদের আরেক ধর্মগ্রন্থ গীতাতে বলা হয়েছে যজ্ঞের কারণে বৃষ্টি হয় ( গীতা-৩/১৪)
[ যেখানে কোরআন বলে আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করে ( জুমার-২১ ; রোম-২৪)
আর কোরআন বলে বায়ু প্রবাহের দ্বারাই বৃষ্টি হয় যা সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সম্মত ( সূরা হিজর-২২) ]
আবার পুরাণ তো পুরাই মাতাল। পুরাণ অনুসারে পৃথিবী খুঁটির উপর দাড়িয়ে আছে ( কালিকা পুরাণ -২৫/৬১)
তো আমরা বেদসহ হিন্দুদের কয়েকটা ধর্মগ্রন্থ থেকে অবৈজ্ঞানিক তথ্য দেখলাম যেগুলো প্রমাণ করে যে হিন্দুদের কোনো কিতাব ইশ্বর প্রদত্ত না বরং মানবরচিত। অতএব আমরা বিজ্ঞানের আলোকে হিন্দু ধর্মগ্রন্তগুলো বিচার করে বুঝতে পারলাম যে ওগুলো ইশ্বর প্রদত্ত না। আর বেদ সেহেতু ইশ্বর প্রদত্ত না তাই সনাতন ধর্মও কখনো ইশ্বর প্রদত্ত হতে পারে না।
এখন আসি খ্রিষ্টানধর্মের বাইবেলে।
বাইবেল এর পুরাতন নিয়মের আদিপুস্তক অধ্যায়-১ / পদ-১৬ এতে বলা হয়েছে
" সূর্য ও চাঁদের নিজস্ব আলো আছে "
আমরা জানি চাদের কোনো আলো নেই ওটা প্রতিফলিত আলো। সূর্যের শুধু নিদিষ্ট আলো আছে যেটা সূর্য বিকিরণ করে। আসলে প্রাচীন সময়ে মানুষ সাধারণত চর্ম চোখে চাঁদের প্রতিফলিত আলোকে চাঁদের নিদিষ্ট আলো মনে করেছে আর বাইবেলের লেখক সেটাই বাইবেলে লেখেছে।
[ উল্লেখ্য আল- কোরআন ১০/৫ অনুসারে সূর্যের আলো নিদিষ্ট আলো, আরবিতে উক্ত আয়াতে সিরাজ শব্দ এসেছে এবং চাঁদ কে নূর বলেছে যা ধার করা ( বিজ্ঞানের ভাষায় প্রতিফলিত আলো) আলোকে বুঝায়। ]
আবার যোব এর ২৬/১১ এতে বলা হয়েছে যে " খুটির মাধ্যমে আকাশ দাড়িয়ে আছে। এটা সম্পূর্ণ গাঁজা খুরি তথ্য কারণ আকাশ এর কোনো স্তম্ভ নেই [ যেখানে কোরআন বলে আকাশের কোনো খুটি বা স্তম্ভ কিছুই নেই ( সূরা রাদ-২) ]
আশা করি এতুকুই যথেষ্ট বর্তমানে প্রচলিত বাইবেল ইশ্বর প্রদত্ত না বরং বিকৃত ও মানব রচিত। তাই খ্রিষ্টান ধর্মও বর্তমানে সত্য হওয়ার কোনো চান্স নেই ।
এখন আসি কোরআনে। কোনো সন্দেহ নেই পবিত্র আল- কোরআনে ( বাকারা-২) । গত চৌদ্দ শত বছরে কেও কোরআনের কোনো ভুল ধরতে পারে নি আলহামদুলিল্লাহ। আর যারা গোঁজামিল দিয়ে ভুল প্রমাণ করতে চেয়ে তাদেরকে খন্ডন করেছেন আমাদের আলেম সমাজ। ডাঃ উইলিয়াম ক্যামবেল যখন কোরআনের ৩০ এর অধিক ভুল ধরেছিল তখন ডাঃ জাকির নায়েক সেগুলো ডিবেট এতে গিয়ে খন্ডন করেন আলহামদুলিল্লাহ। এমনকি তিনি ১০ মিনিটে বাইবেল থেকে ৩০ টার মতো ভুল উল্লেখ করেন। এরকম করে যুগে যুগে কোরআনের উপর আনা অভিযোগ খন্ডন করা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আর আমি উপরেই লেখার মাঝে তুলনাগত ভাবে বিজ্ঞান সম্পর্কে আয়াতগুলো উল্লেখ করে দিয়েছি। তবুও আলাদা করে দুটো কথা বলি বিজ্ঞান নিয়ে। আমরা যদি সূরা রোম এর ৩ নং আয়াত পড়ি তাহলে সেখানে দেখতে পাবো যে " রোমানরা পরাজিত হয়েছে সবচেয়ে নিচু স্থানে "( সূরা রোম-৩) এই আয়াতে সর্বনিম্ন এর জন্য ব্যবহিত হয়েছে আরবি প্রতিশব্দ আদনা( অনেকে অনুবাদ করে 'কাছে' তবে এটা ভুল। আপনারা যদি আদনা ( Adnaa) শব্দের গুগল ট্যান্সলেট করেন আরবি টুইংলিশ তাহলে দেখতে পাবেন অর্থ দেখাচ্ছে Minimum বা সর্বনিম্ম) আর রোমানরা পরাজিত হয়েছিল লোহিত সাগর এর ভূমি অংশে। বর্তমানে উক্ত জায়গাকে red sea। বর্তমানের বিজ্ঞানিরা স্যাটেলাইট এর সাহায্যে বিভিন্ন হিসাব নিকাশ কষে বলেছেন যে Red sea হলো স্থল প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থান। যেটা আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে পবিত্র আল- কোরআন বলে দিয়েছে ( এই সম্পর্কে বিস্তারিত screenshots এর প্রমাণসহ জানতে " কোন আয়াতটা পড়লে বুঝব যে আল- কোরআন সত্য???" সিরিজ পর্ব- পড়ুন। নিচে লিংক দিয়ে দিবো কেমন) এছাড়াও আমরা যদি সূরা আর রহমান-৩৩ নং আয়াত দেখি তাহলে দেখতে পাবো যে সেখানে বলা হয়েছে
" জ্বীন মানবজাতি তোমরা যূি আকাশ ও পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করতে পারো তাহলে অতিক্রম কর। কিন্তু তোমরা পারবে না আল্লাহর অনুমতি ব্যাতিত " ( সূরা আর রহমান-৩৩)
উক্ত আয়াতে " যদি " শব্দের জন্য " ইন " শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সেটা এমন সম্ভাবনা বুঝায় যেটা বর্তমানে সম্ভব না কিন্তু ভবিষ্যৎ এতে সম্ভব। আর " ইন" শব্দ দ্বারা আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে যে " আমরা এক সময় আকাশের সীমানা ভেদ করব " আর বর্তমানে আমরা আকাশের সীমানা ভেদ করেছি। আমরা চাঁদে গিয়েছি। তো বুঝতেই পাচ্ছেন যে আল্লাহ রব্বুল আলামিন যে ইঙ্গিত দিয়েছিল কোরআনে আজ তা সত্য হয়েছে সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ ( এই সম্পর্কে জানতে " কোন আয়াতটা পড়লে বুঝব যে আল- কোরআন সত্য? সিরিজ পর্ব-৩ পড়ুন । নিচে লিংক দিয়ে দিবো; কেমন) । এরকম করে আরও অনেক তথ্য প্রদান করা যাবে। লেখাটা অধিক বড় করতে চাই না।
তো আমরা প্রধাণ তিন ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিজ্ঞানের মানদন্ডে দাঁড় করিয়ে বুঝতে পারলাম যে আল- কোরআন সত্য সত্য সত্য। আশা করি কথা ক্লিয়ার
লেখাটা এখন শেষ করব পবিত্র আল- কোরআনের তিনটা আয়াত দিয়ে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
" مَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ لِتَشۡقٰۤی ۙ﴿۲﴾
মাআনঝালনা-‘আলাইকাল কুরআ-না লিতাশকা।
তোমাকে ক্লেশ দেয়ার জন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি।
We have not sent down the Quran unto you (O Muhammad SAW) to cause you distress,
اِلَّا تَذۡکِرَۃً لِّمَنۡ یَّخۡشٰی ۙ﴿۳﴾
ইল্লা-তাযকিরাতাল লিমাইঁইয়াখশা-।
বরং যারা ভয় করে তাদের উপদেশার্থে –
But only as a Reminder to those who fear (Allah).
تَنۡزِیۡلًا مِّمَّنۡ خَلَقَ الۡاَرۡضَ وَ السَّمٰوٰتِ الۡعُلٰی ؕ﴿۴﴾
তানঝীলাম মিম্মান খালাকাল আরদা ওয়াছছামা-ওয়া-তিল ‘ঊলা-।
যিনি সমুচ্চ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এটা তাঁর নিকট হতে অবতীর্ণ।
A revelation from Him (Allah) Who has created the earth and high heavens.
[ সূরা ত্বাহা, আয়াত নং- ২/৩/৪ ]
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।