Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

কোন যুক্তিতে বা প্রমাণে আমরা ইসলামকে সত্য ধর্ম হিসাবে পালন করি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
121 বার প্রদর্শিত
করেছেন (7,514 পয়েন্ট)   12 নভেম্বর 2025 "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

আমি কেন ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসি এবং ইসলাম ধর্ম পালন করি 


সিরিজ পর্ব-১


ইসলাম যে সত্য দ্বীন তার প্রমাণ কি?  



  

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 


পৃথিবীতে মোট ২০ থেকে ২৫ টার মতো ধর্ম বিদ্যমান ( যদিও বলা হয়ে থাকে ৪৫০০ ধর্ম আছে,  কিন্তু ধর্ম এর সংজ্ঞাতে তার সংখ্যা ২৫-৩০ এর বেশি নয়)  । এতগুলো ধর্মের মধ্যে কেন আমি ইসলাম ধর্ম  মানি আর আমার ইসলাম পালন করার পিছনে মূল বিশ্বাসটা কি এবং কোন ভিত্তিতে আমি ইসলাম মান্য করি সেটাই আজকে বলব ইনশাআল্লাহ। আর নাস্তিকতা কেনই বা ছেড়ে দিলাম সেটাও বলব ইনশাআল্লাহ। 


তো চলুন শুরু করা যাক।  


প্রথম কথা। ক্লাস সেভেন এর আগে আমি এই কারণে ইসলাম পালন করতাম কারণ এটা আমার বাপ দাদা পালন করেছে তাই আমিও পালন করি। তখন আমি নিজেও জানতাম না আমার বিশ্বাস টা যে সত্য তার ভিত্তি কি?? দিন যত যাচ্ছিল তত নাস্তিকদের বইগুলো পড়ে ধর্মের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল প্রবীর ঘোষ এর " অলৌকিক নাকি লৌকিক " সিরিজ এর বইটা। আমি যখন সবগুলো খন্ড পড়ি ( pdf) তখন অলৌকিক বিষয়গুলো যেগুলো ইসলাম ধর্মে মোজেজা কেরামত ও অন্যান্য ধর্মে লীলা  ইত্যাদি বলা হয়। পরবর্তীতে হুমায়ন আজাদ এর " আমার অবিশ্বাস " অভিজিৎ রায় এর " বিশ্বাসের ভাইরাস " রিচার্ড ডকিন্স এর " গড ডিল্যুশন "  বইগুলো পড়ার পর ইসলামসহ যাবতীয় ধর্মগুলোর প্রতি আমার বিশ্বাস শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকে গেলো। ক্লাস সেভেন এতে ছিলাম সংশয়বাদী আর নাইন এতে এসে হলাম পাক্কা  নাস্তিক। তখন প্রকাশ্যেই আমার ফ্রেন্ড ও সমবয়সীদের বলতাম আমি নাস্তিক। সম্পূর্ণ ভাবে প্রায় সাত মাসে উগ্র নাস্তিক ছিলাম। বিভিন্ন গ্রুপ এতে লেখা- লেখি করেছি। তবে জীবনের মোড় কখন পরিবর্তন হয়ে যায় সেটা আল্লাহ রব্বুল আলামিন ভালো জানেন। তবে আমি নামায পড়তাম  তখনও।  একদিন ছোট এক ছেলেকে সূরা ফাতিহা শিখাচ্ছিলাম। আমি যখন তাকে সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াতের তাফসীর বলছিলাম তখন আমি 


" আলহামদুলিল্লাহ লিল্লাহি রব্বিল আলামিন " এই শব্দের মধ্যে থাকা " আলামিন " শব্দটাতে থেমে গেলাম।। আলহামদুলিল্লাহ রব্বিল আলামিন এর অর্থ হলো " সকল প্রসংশা জগৎ সমূহের প্রতিপালক আল্লাহর " 


তো এখানে আমি একটু অবাক হয়। কারণ উক্ত আয়াতে আলামিন শব্দ এসেছে যেটা আলাম শব্দের বহুবচন। এক বচনে আলাম। আলাম অর্থ জগৎ আর আলামিন অর্থ জগৎ সমূহ। তখন আমার মাল্টিভাস এর কথা মনে পরে যায়। মাল্টিভার্স বা প্যারালাল ইউনিভার্স থিওরি অনুসারে এই জগৎ বা বিশ্বের মতো আরও অনেক বিশ্ব আছে। স্টিং থিওরি থেকে সর্ব প্রথম বিজ্ঞানিরা মাল্টিভার্স থিওরির ধারণা পান। পরবর্তীতে গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স থেকে মাল্টিভার্স থিওরির অনুমান করেন বিজ্ঞানিরা। যাইহোক আমি তখন একটা কথা চিন্তা করলাম। কিছু সময় এর জন্য ভাবলাম যদি রাসূল সাঃ সত্যি এই কোরআন লেখে থাকতেন তাহলে তিনি এইখানে আলামিন শব্দ ব্যবহার না করে আলাম শব্দ ব্যবহার করতেন ; কারণ আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে মানুষ আকাশ সম্পর্কে অনেক কম  জ্ঞান রাখত। সেই সময়ে মানুষরা বিশেষ করে আরবের   তো সৌর জগৎ সম্পর্কেই জ্ঞান রাখতেন না। আর ওই সময়ে  তো কেও চিন্তাই করতে পারবে না যে এই বিশ্বের মতো আরও অনেক বিশ্ব আছে। তাহলে সেই হিসাবে রাসূল সাঃ এর বলা উচিত ছিল জগৎ কিন্তু তিনি জগৎ না বলে বললেন জগৎ সমূহ। এখন আপনারা বলতে পারেন যে  ( যারা নাস্তিক তাদের কথা বলছি) এটা হয় তো কাকতালীয় ভাবে রাসূল সাঃ ব্যবহার করেছেন আলাম শব্দের পরবর্তে আলামিন শব্দ । কিন্তু আমি বলব না এটা ভুল করে না বরং কেও এমন একজন আছে যিনি সৃষ্টি জগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। কারণটা হলো সূরা ফাতিহার -২ ও ৩ নাম্বার নাম্বার আয়াত। আমরা যদি ২ নাম্বার আয়াতটা পড়ি তাহলে দেখতে পাবো যে 

" আর রহমানির রহিম " 

অর্থাৎ - যিনি পরম দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবান " 

তো দুই নাম্বার আয়াত এতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজেকে পরম দয়ালু বলছেন। " পরম" শব্দটা ভালো করে লক্ষ্য করুন। পরম এর অপর নাম অসীম। ইউনিভার্স এর কোনো কিছু যে অসীম হবে সেটা আজ থেকে ১০০০ বছর আগে কেও চিন্তা করতে পারতেন না। সেই সময়ে গণিতবিদরাও ভাবতেন যে সংখ্যা এর কোনো শেষ আছে কিন্তু বর্তমানে বুঝতে পাচ্ছি যে সংখ্যা হলো অসীম বা ইনফিনিটি। এর কোনো শেষ নেই। তো রাসূল সাঃ তখন কোন সেন্সে বললেন " আল্লাহ পরম"?? ( উল্লেখ্য: রহমান আর রহীম দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে; রহীম শব্দটা শুধু মোমিনদের জন্য মানে খাস। আর রহমান কাফের মোমিন সকলের জন্য মানে আম।) । আবার তৃতীয় আয়াতটা লক্ষ্য করুন 

" মালিকি ইয়াওমিদ্দিন " 

যিনি শেষ দিবস ( বিচারের দিন) এর মালিক " 

এই কথা তো সবারই জানা যে " প্রাচীন ও মধ্য সময় পযন্ত সবাই ভাবতো যে " মহাবিশ্বের কোনো শুরু বা শেষ নেই " যেমন আগে ঠিক তেমনি আছে ও থাকবে " তো ওই সময় দাড়িয়ে রাসূল সাঃ কিভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে " সৃষ্টিরও শেষ দিন আছে অর্থাৎ একদিন সকল কিছুর শেষ হবে বা ধ্বংস হবে "? । তো এইরকম ভাবে একটানা তিনটা আয়াতের মধ্যে তো কাকতালীয় ভাবে  দর্শন ও বৈজ্ঞানিক তথ্য থাকতে পারে না তাই না! নিঃসন্দেহে কেও একজন আছেন যিনি এরকম তথ্য জানেন। কোনো সন্দেহ নেই যে তিনিই আমার আপনার রব আল্লাহ রব্বুল আলামিন। তো আমি কিছুক্ষণ পর  জীবনে প্রথম সেই দিন আমার নিজ ইচ্ছেতে কোরআনটা নিয়ে পড়তে বসলাম। কয়েক দিন কোরআন পড়লাম। তার মধ্যে আমার জীবনের দুটো আয়াত সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে 

১. সূরা জুমার-৯ 

২. নিসা-৮২ 


সূরা জুমার -৯ আয়াতটা আপাতত দূরে রাখছি। সূরা নিসা-৮২ নিয়ে আলোকপাত করছি। উক্ত আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন যে 

" তারা কি কোরআন নিয়ে গবেষণা করে না যদি এই কোরআন আল্লাহ রব্বুল আলামিন ব্যাতিত অন্য কারো কাছ থেকে আসত তাহলে অবশ্যই এতে বৈপরীত্যে দেখতে পেতো " 


 আমি মোঃ মেহেদী হাসান মনে করি যে পৃথিবীতে যত ধর্মগ্রন্থ আছে বর্তমানে সবগুলোকে এই আয়াতের মানদণ্ড দ্বারা বিচার করা উচিত।  


লক্ষ্য করুন আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজেই বলছে কোরআন নিয়ে গবেষণা করতে এমন কি কোন ফর্মুলাতে গবেষণা করবে সেটাও বলে দিচ্ছে । যেই কথা সেই কাজ। তো আমরা এখন এই আয়াতের মানদণ্ডে কোরআন, গীতা, বাইবেলকে বিচার করে দেখব। 


 প্রথমে চলে যাবো হিন্দুের অন্যতম গ্রন্থ গীতাতে। আমরা যদি গীতার অধ্যায়-৪, শ্লোক-৩ পড়ি তাহলে সেখানে দেখতে পাবো যে " কৃষ্ণ বলছেন ' হে অর্জুন তোমার ও আমার বহু জন্ম অতিবাহিত হয়েছে যেটা তুমি জানো না কিন্তু আমি জানি " 


কৃষ্ণ গীতা-৪/৫ এতে বলছে যে তার এর আগেও অনেক জন্ম হয়েছে। এখন আমরা আরেকটা শ্লোক দেখবো। সেটা হলো - কৃষ্ণ বলছেন

" আমার আদি নেই জন্ম নেই " ( গীতা-১০/৩)  


এই শ্লোকে কৃষ্ণ বলছে তার নাকি কোনো জন্ম নেই। কিন্তু আমাদের হিন্দুদের কৃষ্ণ  এর আগেই গীতা -৪/৫ এতে বলছে যে তিনি অনেকবার জন্মগ্রহণ করেছে। এখন আপনারাই বিচার করুন। যেই গ্রন্থের ইশ্বর নিজেই জানে না তিনি জন্ম গ্রহণ করেছে নাকি করে নি সেই ইশ্বর জগৎ এর ইশ্বর কি কখনো হতে পারে?? আর গীতা কি কখনো কোনো ধর্মগ্রন্থ হতে পারে,?? যদি ইশ্বর প্রদত্ত হতো তাহলে এতে বৈপরীত্য আসলো কয় থেকে ?। 

একই ভাবে হিন্দু  আর্যসহ প্রূয় সকল সনাতনদের মান্যকর ধর্মগ্রন্থ হলো ' বেদ'।  এই বেদেও বৈপরীত্য আছে।  শুক্ল যজুর্বেদ  -৪০/৪ পড়েন তাহলে সেখানে পাবেন যে " ইশ্বরকে দেখা যায় না, আবার একই শুক্ল যজুর্বেদের ৩৪/৪৪ এতে বলা হচ্ছে  যে " ইশ্বরকে যোগীরা দেখতে পারেন "।  বেদ একবার বলছে  ইশ্বরকে দেখা যায় না আবার বলছে যোগিরা দেখতে পারে,  যা সম্পূর্ণ বৈপরীত্য।  এরকম করে বেদ থেকে ৫০+  বৈপরীত্য দেখাতে পারব যা প্রমাণ করবে যে বেদ কোনো ইশ্বরের বাণী না  । তো এই  গেলো হিন্দু ধর্মের কথা। 


 এখন দেখব খ্রিষ্টানদের বাইবেল।  আমরা যদি 

 ' প্রবচন এর অধ্যায় ১২ এর পদ -২২ পড়ি তাহলে বুঝতে পারবো যে " ইশ্বর মিথ্যা পছন্দ করেন না " কিন্তু আমরা যদি' রাজাবলি ১/২২-৩৩ পড়ি তাহলে দেখতে পাবো যে " ইশ্বর নিজেই ভাববাদীদের দিয়ে মিথ্যা বলাচ্ছেন " 


তো আপনারাই বলুন ইশ্বর মিথ্যা পছন্দ করে নাকি করে না?? এরকম বৈপরীত্যে কাজ ইশ্বর করেন কি করে???। এখন নিজেরাই ভাবুন তো বাইবেল কি সত্যিই কোনো ইশ্বরের বাণী?? যদি সত্যিই ইশ্বর প্রদত্ত হতো তাহলো বৈপরীত্যে আসলো কয় থেকে। এরকম াকরে বাইবেল থেকে ১০০+ বৈপরীত্য দেখান যাবে.....  


 

( এরকম অনেক বৈপরীত্যে দেখান যাবে আমি জাস্ট একটা উল্লেখ করলাম দুটো ধর্মের ধর্মীও প্রধাণ ধর্মগ্রন্থ থেকে)  


এখন আসি কোরআনে। তো আপনাদের কি মনে হয় আল- কোরআনে কি সত্যিই কোনো বৈপরীত্যে আছে??? উত্তর হলো না একদমই না। আপনারা হয় তো নেটে এরকম অনেক লেখা পেয়ে যাবেন। সংশয় ডট কম যাকে আমরা গান্জা ডট কম নামে ডাকি সেইখানে আসিফ মহিউদ্দিন উরফে আসিফ মগাচিপ অনেক বৈপরীত্য দেখিয়েছে । আসলে ওগুলো কোনো বৈপরীত্যই না। আমি এর আগেও অনেক বৈপরীত্যের খন্ডন করেছি সেগুলো আপনারা আগের পোস্ট গুলোতে দেখেছেন। বাকিগুলোও খন্ডন করব ইনশাআল্লাহ। কারো যদি মনে হয় আল- কোরআন এতে কোনো বৈপরীত্যে আছে তাহলে বলতে পারেন খন্ডন করে দিব ইনশাআল্লাহ। তো উক্ত আয়াত(নিসা-৮২) এর মানদন্ডের আলোকে আমরা বুঝতে পারলাম যে আল- কোরআন একমাত্র সেই গ্রন্থ যেটা বৈপরীত্যহীন। গীতাতে শ্লোক আছে ৭০০,  বেদে আছে ২০ হাজার+ এবং কোরআনে আয়াত আছে ৬২৩৬ টি । সামান্য ৭০০ শ্লোকে বৈপরীত্যে আছে কিন্তু ৬২৩৬ টি আয়াতে আমরা কোনো বৈপরীত্য খুজে পাচ্ছি না। এটাই যথেষ্ট আল- কোরআন এর অলৌকিকতা প্রকাশ করার জন্য। এরকম আরও যত মানদন্ড আছে সেসব মানদন্ডের আলেকেও আমরা আল; কোরআনকে টেস্ট করলে দেখব যে অন্যান্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থের সাপেক্ষে আল- কোরআন উর্ত্তীর্ণ হয়েছে। আর এই একটা আয়াত আমার জীবনের সকল অন্ধকার দূর করে দেয়। এখন আর আমার বলতে হয় না যে বাপ- দাদা পালন করেছে বলে ইসলাম আমি পালন করি। এখন আমি নিজে যুক্তি মানদন্ডের আলোকে ইসলামকে সত্য হিসাবে গ্রহণ করেছি। এখন আমার কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে আল- কোরআন কোনো মানবরচিত ধর্মগ্রন্থ না বরং আল্লাহ প্রদত্ত। আর ইসলামও কোনো মানব রচিত না বরং আল্লাহ প্রদত্ত। আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজে বলছেন 


" ইসলাম তার মনোনীত ধর্ম( আলে ইমরান-১৯) " 


পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের সাথে কোরআনের কিছু ইউনিক বৈশিষ্ট্য আছে। আমি প্রধাণ তিনটা বলছি


১. আপনারা যদি বাইবেল বেদ অথবা ত্রিপিটক পড়েন তাহলে সমগ্র কিতাব তন্ন তন্ন করেও খুঁজে বাহির করতে পারবেন না যে " উক্ত কিতাবদ্বয়ের কোনো জায়গায় সেসব কিতাবগুলোর নাম বলা আছে। বেদ যখন ঋষিরা ধ্যান যোগে লাভ করেন তখন ঋষিরা সেই মন্ত্র দ্বয়ের আলোকে কোনো কিতাব রচনা করেন নি, পরবর্তীতে সেগুলোকে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করে এবং নাম দেওয়া হয় বেদ। এমন করে বাইবেল এর রচনার কয়েক শতাব্দী পর বাইবেল এর নাম করেন যাজকরা। আর ত্রিপিটক তো বৌদ্ধ এর মৃত্যুর তিনশো বছর পর চূড়ান্ত ভাবে ভিক্ষুকরা নাম দেন। তাই মূল কিতাবে সেসব গ্রন্থের কোনো নাম নেই। কিন্তু পবিত্র কোরআনে আছে ( ইউসুফ-২)  

২. বেদ, বাইবেল ও ত্রিপিটক এর কোনো জায়গায় বলা নেই যে সেসব কিতাব এর ভাষা কি। বেদের কোনো জায়গায় উল্লেখ নেই বেদের ভাষা সংস্কৃতি, ত্রিপিটক এর কোনো জায়গায় বলা নেই ত্রিপিটক এর ভাষা পালি; এবং বাইবেলের কোনো জায়গায় বলা নেই যে বাইবেল এর ভাষা হিব্রু বা এরামিক ( গ্রীক অথবা ইংলিশ ইত্যাদি ইত্যাদি ) । কিন্তু কোরআনে বলা আছে কোরআন এর ভাষা আরবি( ইউসুফ -২)  

৩. আপনারা যদি কোনো সনাতনি / হিন্দুকে জিগ্যেস করেন তার ধর্মের নাম কি, তাহলে সে বলবে হিন্দু বা সনাতনি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো হিন্দু বা সনাতনি যে তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম সেটা বেদের কোথাও উল্লেখ নেই। এমন করে ত্রিপিটক আর বাইবেলেও বলা নেই যে তাদের ধর্ম বৌদ্ধ অথবা খ্রিষ্টান। কিন্তু কোরআনে বলা আছে আমাদের ধর্মের নাম ইসলাম ( আলে ইমরান-১৯)


তো এই হলো কিছু ইউনিক বৈশিষ্ট্য আল- কোরআনের।  


এখন যদি লেখাটার সারাংশ  করি তাহলে দাঁড়ায়  

" ইসলাম বিশ্বাসের মূলভিত্তি আল- কোরআন। আর আল- কোরআন এতে বিশ্বাস করার কারণ নিসা-৮২ ( যা আমার মানদণ্ড ; অনেকগুলো মানদন্ডের মধ্যে একটা মানদন্ড) ।  


আশা করি লেখাটা ভালো লেগেছে। জানি না কতটুকু মনের ভাবটাকে বুঝাতে পেরেছি। তবে আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে। 


তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন 


কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান 


আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ


প্রিন্স ফ্রেরাসেimage

আমি প্রিন্স ফ্রেরাসে, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 5 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 372 টি লেখা ও 6 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 7514। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
প্রথম প্রকাশিত সোর্স
Enolej ID(eID): 1407
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

1 প্রতিক্রিয়া

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু,  

ভাই মোঃ মেহেদী হাসান (প্রিন্স ফ্রেরাসে),  

আলহামদুলিল্লাহ! আপনার এই সিরিজের প্রথম পর্ব পড়ে মনটা ভরে গেল। ক্লাস সেভেন থেকে নাইন পর্যন্ত নাস্তিকতার অন্ধকার গহ্বরে ডুবে থেকে, প্রবীর ঘোষ, হুমায়ূন আজাদ, অভিজিৎ রায় আর ডকিন্সের বইগুলোর বিষাক্ত প্রভাব সামলে—একটা ছোট ছেলেকে সূরা ফাতিহা শেখাতে গিয়ে "রব্বিল আলামিন" শব্দটাই যেভাবে আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল, এটা সত্যিই আল্লাহর হিদায়াতের জ্বলজ্বলে নমুনা।  

বিশেষ করে নিসা-৮২ এর মানদণ্ড দিয়ে গীতা (৪/৫ vs ১০/৩), বেদ (শুক্ল যজুর্বেদ ৪০/৪ vs ৩৪/৪৪) আর বাইবেল (প্রবচন ১২:২২ vs রাজাবলি ১/২২-৩৩) এর বৈপরীত্যগুলো এত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন যে, কোনো সন্দেহবাদীর মুখে তালা লাগার জন্য এটাই যথেষ্ট। আর কোরআনের তিনটি ইউনিক ফিচার (নিজের নাম, ভাষা আর ধর্মের নাম—ইসলাম) অন্য কোনো গ্রন্থে নেই—এটা তো সত্যিই অলৌকিকতার চূড়ান্ত প্রমাণ।  

আমার জীবনেও একসময় "অলৌকিক নাকি লৌকিক" পড়ে ধর্ম ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনার মতোই সূরা ফাতিহার "আলামিন" আর "পরম" শব্দ দুটোই আমাকে ফিরিয়ে আনল। আজ নিজে যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে ইসলাম মানি, বাপ-দাদার কারণে নয়।  

ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী পর্বে সূরা জুমার-৯ নিয়ে আলোচনা দেখতে মুখিয়ে আছি। আসিফ মগাচিপদের "গান্জা ডট কম" এর বানোয়াট বৈপরীত্যগুলোর খণ্ডনও শুনতে চাই।  

জাযাকাল্লাহু খাইরান। আল্লাহ আপনার কলমকে আরও শাণিত করুন।  

ওয়াসসালাম,  

হাসিব খান।
করেছেন (29 পয়েন্ট)   12 নভেম্বর 2025 প্রতিক্রিয়া প্রদান

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


৪২_শত_ধর্মের_মধ্যে_কোন_ধর্মটা_সত্য_বুঝব_কি_করে???  পর্ব-১  আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ  আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা একটা প্রশ্ন করে, যেই প্রশ্নের উত্তর সাধারণ তো হঠাৎ করে করলে অনেকেই তাজ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

#আমি_কেন_ইসলাম_ধর্মে_বিশ্বাসি_ও_ইসলাম_পালন_করি  সিরিজ পর্ব-৩ বিজ্ঞানের কাঠগড়ায় বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ  আগের দুই সিরিজ পর্বে আমরা প্রধান দুটো মানদন্ডের �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
37 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

#আমি_কেন_ইসলাম_ধর্মে_বিশ্বাসি_ও_কেন_ইসলাম_পালন_করি???  সিরিজ পর্ব-২  ইসলাম কেন শান্তি ও শ্রেষ্ঠ ধর্ম আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ  প্রথম পর্বে আমি কোরআনের একটা আয়াতকে মানদন্ড হিসাবে ধরে স�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কোন ধর্ম মানুষকে নাজাত দিবে? আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ  আজকে আমরা একটা গুরু&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1095 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    54 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    105 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    47 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...