#আমি_কেন_ইসলাম_ধর্মে_বিশ্বাসি_ও_কেন_ইসলাম_পালন_করি???
সিরিজ পর্ব-২
ইসলাম কেন শান্তি ও শ্রেষ্ঠ ধর্ম
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রথম পর্বে আমি কোরআনের একটা আয়াতকে মানদন্ড হিসাবে ধরে সেই আয়াতের মধ্যে দেওয়া শর্তের সাপেক্ষে প্রধান দুই ধর্মের বাণী নিয়ে বিচার করে দেখিয়েছি যে ইসলামই কেন ইশ্বর প্রদত্ত এবং কেন আমাদের ইসলাম গ্রহণ করা উচিত। নাস্তিকরা আমার পোস্টকে কাউন্টার দিতে না পেরে কমেন্ট বক্সে আর ইনবক্সে মধুর বাণী শুনিয়েছে। আগের পর্বের কমেন্ট বক্সেে তার প্রমাণ দেখেছেন। তবে যাইহোক তাদেরকে এসব বলে লাভ নেই কারণ তাদের অন্তরে মহরঙ্কিত করা হয়েছে ( বাকারা-৭) তাই তারা চোখ থাকতেই অন্ধ অন্তর থাকেই বিবেক বুদ্ধি শূন্য। তো আজকে নিয়ে এসেছে এই সিরিজ এর দ্বিতীয় পর্ব। আশা করি ভালো লাগবে।
তো চলুন শুরু করা যাক।
আগের পর্বে আমি সূরা নিসা-৮২ আয়াত থেকে একটা মানদন্ড উল্লেখ করেছি ; সেটা হলো " যেই ধর্ম সত্য হবে সেই ধর্মের কিতাবে কোনো বৈপরীত্যে থাকা যাবে না " তো এই মানদন্ডের আলোকে আমরা খ্রিষ্টান ও হিন্দু ধর্মকে বিচার করেছি। আর বিচার করার পর কি ফল পেয়েছি আর সেই ফলের সাথে ইসলাম এর ফল মিলিয়ে আমরা প্রমান করেছি যে ইসলামই একমাত্র ইশ্বর প্রদত্ত ধর্ম ( আলে ইমরান-১৯) । তো আজকে আমি আরেকটা মানদন্ড উল্লেখ করব। আয়াতটা দেখুন ; আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
" হে ইমানদারগণ তোমরা পরিপূর্ণ রুপে শান্তিতে প্রবেশ কর আর শয়তানের অনুসরণ কর না " ( সূরা বাকারাহ-২০৮) [ এই আয়াতে সিলমুন শব্দ এসেছে যার অর্থ শান্তি। অনেকে ইসলাম শব্দ প্রয়োগ করে। কোনো সমস্যা নেই সিলমুন ধাতু থেকে ইসলাম শব্দ এসেছে যার অর্থও শান্তি হয়। ]
তো এই আয়াতে আমরা যেই মানদণ্ড পেলাম সত্য ও ইশ্বর প্রদত্ত হওয়ার সেটা হলো " কোনো ধর্ম সত্য হতে হলে সেখানে শান্তির বাণী থাকতে হবে "।
এখন এই মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে আমরা আজকেও খ্রিষ্টান ও হিন্দু ধর্মকে বিচার করব ইনশাআল্লাহ । শেষে ইসলামকেও বিচার করব। তারপর তিন ধর্ম পর্যবেক্ষন করে দেখব যে " প্রকৃত ও সত্য ধর্ম কোনটা ইনশাআল্লাহ । প্রথমেই চলে যাবো হিন্দু ধর্মে। এক নজরে হিন্দু ধর্মের মহান বাণীঃ
* " আমাদের চারপাশে যজ্ঞশূন্য দস্যুজাতি রয়েছে তারা কিছুই( বেদ বেদাঙ্গ অথবা বৈদিক শাস্ত্র) মানে না ; হে শত্রুনাশক ইন্দ্র আপনি তাদের ধ্বংস করুন ( ঋগ্বেদঃ মন্ডল-১০/সুক্ত -২২/ মন্ত্র- ৮)
* বেদ অমান্য কারীকে ধ্বংস করুন ( অথর্ববেদঃ কান্ড-২০/সুক্ত -৯৩/মন্ত্র-১)
* নিজ দেবতার পূজা না করে অন্য দেবতার পূজা করলে দেবতার অভিশাপে পাপী ও দরিদ্র হয় ( কৃষ্ণ যজুর্বেদ -২/৫/৪)
* যারা বৈদিক রীতিতে বিশ্বাসি না এবং ঘি প্রদান ও যজ্ঞ করে না তাদের সবকিছু ছিনিয়ে আনো ( ঋগ্বেদ -৩/৫৩/১৪)
* যারা ইন্দ্রের পূজা করে না তাদের পিশে মারতে হবে ( নিরুক-৫/১৭/১)
তো এই দেখুন হিন্দু ধর্মের মহান বাণী। যেই ধর্ম নিজ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মকে সম্মান দিতে জানে না, তাদের হত্যা করতে বলে পিষে মারতে বলে সেই ধর্ম কখনো ইশ্বর প্রদত্ত হতে পারে না। সন্তান যতই দুষ্ট হোক না কেন পিতা মাতা কখনো সেই সন্তানকে হত্যা করতে বলে না কিন্তুু সনাতন ধর্মের ইশ্বর তো নিজের পূজা না পেলে..... । তো যেই ধর্ম অশান্তি সৃষ্টি করে সেই ধর্ম কখনো ধর্মই হতে পারে না। কারণ যেসব কথা শাস্ত্রে বলা হয়েছে সেগুলো মানবীয় গুণাবলী তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে [ পৃথিবীতে হিন্দু এর জনসংখ্যা ১৩০ কোটি আর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৮০০ কোটি। তো সেই হিসাবে ৬৩০ কোটি মানুষকে হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে হত্যা করা বৈধ ; কারণ বেদ না মানলে নাস্তিক ( মনুসংহিতা -২/১১) আর নাস্তিকদের শেষ করে ফেলতে হবে ( সামবেদ-১৯৪) যেহেতু হিন্দু ব্যাতিত কেও বেদ মানে তাই তারা নাস্তিক মানে আমরা ( মুসলিমহ অন্যান্য ধর্মের লোক তো আর বেদ মানে না) নাস্তিক অতএব আমাদের হত্যা করতে হবে । ] অতএব এখান থেকে প্রমাণিত হলো যে " সনাতন কোনো ইশ্বর প্রদত্ত ধর্ম না মানবরচিত ধর্ম।
তো এই তো গেলো হিন্দু ধর্মের কথা। এখন আসি খ্রিষ্টান ধর্মে
তো খ্রিষ্টান ধর্মের এক মহান বাণী দেখে নিন
" শত্রদের বাড়ি ঘড় লুণ্ঠিত করতে হবে । তাদের স্ত্রীদের ধর্ষণ করবে। আর তাদের চোখের সামনেই তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পিটিযে পিটিযে হত্যা করা হবে। (ইসাইয়া ১৩ঃঃ ১৬) "
[ বাইবেল যেখানে শত্রুদের স্ত্রী সন্তানদের ধর্ষণ ও হত্যা করতে বলে সেখানে কোরআন বলে " যারা তোমাদের সাথে ধর্ম যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদের নিজ ভূমি থেকে বাহির করে নি তাদের সাথে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কর ( মুমতাহানা-৮) এটাই হলো কোরআন আর বাইবেলের মদ্যে পার্থক্য ]
আপাতত এই একটা বাইবেলের পদ ( শ্লোক / ভার্স) যথেষ্ট বাইবেলের মহা জঙ্গিবাদ প্রমাণের জন্য। তো যেই ধর্ম এরকম আইন রচনা করেন সেই ধর্মের ইশ্বর কি কখনো বিশ্বের পরম দয়ালু হতে পারে?? উত্তর হলো না একদমই না, কারণ এটা ইশ্বরের গুণ না। অতএব আমরা এখান থেকেও বুঝতে পারলাম যে খ্রিষ্টান ধর্মও ভূয়া ( Fake ) ।
তো আমরা বাকারা -২০৮ আয়াতের মানদণ্ডে বিচার করে দেখলাম যে খ্রিষ্টান আর হিন্দু ধর্ম বাতিল বাতিল বাতিল। সেগুলো কখনো ইশ্বর প্রদত্ত হতে পারে না।
এখন আসি আমাদের ইসলাম ধর্মে।
আমাদের পবিত্র আল- কোরআনে এমন কোনো আয়াত নেই যেখানে অমুসলিমদের বিনা দোষে হত্যা করতে বলা হয়েছে অথবা তাদের ধর্মীও উপাসনালয়ে তান্ডব চালাতে বলা হয়েছে। বিধর্মীদের হত্যা করা তো দূরের কথা তাদের ইশ্বরকেও গাল মন্দ করা নিষিদ্ধ ( আনআম -১০৮ এতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের আরাধনা করে, তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না) । এছাড়াও অন্যরা তাদের ধর্ম পালন করতে পারবে তাদেরকে জর- জবরদস্তি করা যাবে না ( সূরা বাকারা-২৫৬ এতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই) এছাড়াও বিধর্মীদেরকে তাদের ধড়ম পালনে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে ( সূরা কাফিরুন-৬ এতে বলা হয়েছে " তোমার ধর্ম তোমার আমার ধর্ম আমার)
তো আমরা কোরআনের উক্ত আয়াতদ্বয় থেকে বুঝতে পাচ্ছি যে ইসলামই একমাত্র অন্য ধর্মের লোকদের নায্য মর্যাদা প্রদান করছে। একমাত্র ইসলামই শান্তির ধর্ম সেটা কোরআন থেকেই প্রমাণিত। অতএব এবারও প্রমাণ হয়ে গেলো যে
" একমাত্র ইসলামই সত্য, শ্রেষ্ঠ ও ইশ্বর প্রদত্ত ধর্ম "
যেটা আমরা দ্বিতীয় মানদন্ডের আলোকে বিচার করে দেখতে পেলাম।
এখন দুটো আয়াত দিয়ে লেখাটা শেষ করব। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
"প্রকৃত পক্ষে তারাই শান্তি ও নিরাপত্তার অধিকারী এবং তারাই সঠিক পথে পরিচালিত, যারা নিজেদের ঈমানকে যুলমের সাথে (শির্কের সাথে) মিশ্রিত করেনি ( আল- কোরআন -৬/৮২) [ প্রথম আয়াত ]
" আর এটাই ছিল আমার যুক্তি প্রমাণ, যা আমি ইবরাহীমকে তার স্বজাতির মুকাবিলায় দান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা করি, সম্মান-মর্তবা ও মহত্ত্ব বাড়িয়ে দেই, নিঃসন্দেহে তোমার রাব্ব প্রজ্ঞাময় ও বিজ্ঞ "( আল- কোরআন ৬ নং সূরা আনআম -৮৩) [ দ্বিতীয় আয়াত ]
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
[ হে আমাদের রব আমাদের দুনিয়া ও আকিরাতে কলয়ান দান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন ( বাকারা-২০১) আমিন, আমিন, সুম্মা আমিন ]
কলমেঃ মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিন্স ফ্রেরাসে
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।