আল্লাহ সম্পর্কে আমার আকিদা
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
বর্তমান ফেতনার যুগে হক ও বাতিলের মানদন্ড হলো বিশুদ্ধ আকিদার ইলম ও আমাল! । আর আকিদার প্রথম পাঠ হলো তাওহীদ। আমি সংক্ষিপ্ত আকারে এখানে আমার আকিদা পেশ করছি-
আমি মোঃ মেহেদী হাসান বিশ্বাস করি যে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় , যেমনটা কোরআনে এসেছে ( সূরা ইখলাস -১) , এবং তার কোনো সন্তান নেই এবং সে কারও সন্তান না, এবং সে অমুখাপেক্ষী ( সূরা ইখলাস ২-৪) আমি আরও বিশ্বাস করি যে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন সর্বত্র বিরাজমান নয় বরং তিনি আরশে আজিমে সপ্ত আকাশে সত্তাগতভাবে বিরাজমান, যেমনটা কোরআনে এসেছে যে " আল্লাহ আরশে( ইস্তাওয়া) আরোহন বা সমাসীন বা উপবেশন হয়েছেন... যেমনটা সাত আয়াতে উল্লেখ আছে
আরাফ (৭) ৫৪
ইুউনুস (১০)৩
রা'দ(১৩)২
ত্বহা(২০)৫
ফুরকান (২৫)৫৯
সাজদাহ (৩২)৪
হাদীদ (৫৭)৪
এইসব আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে " অতঃপর ( ছুম্মা) ইস্তাওয়া ( সমাসীন) আলাল আরশ ( আরশে..) , অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হলেন.. এবং ত্বহাতে বলা হয়েছে " দয়াময় আরশে সমাসীন হলেন আর রহমানু আলাল আরশি ইস্তাওয়া ( ত্বহা-৫, বায়ান ফাউন্ডেশন ) .....
এবং আমি আরও বিশ্বাস করি যে আল্লাহ নিরাকার নয়, বরং তিনি সাকার, যেমনটা কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এসেছে, যেমন সূরা আর (৫৫) রহমানে বলা হয়েছে ওয়াজহু রাব্বিকা, মানে " রবের মুখমন্ডল " ( কোরআন -৫৫/২৭) এখানে আল্লাহর চেহারা সাব্যস্ত করা হয়েছে, এবং সূরা ছোয়াদ এতে তার দু-হাত এর কথা এসেছে, সেখানে বলা হয়েছে যে " হে ইবলিশ, কি তোমাকে বাধা দিল যে আদমকে সেজদা করছো না যাকে আমি [ নিজ দু- হাতে( বিইয়াদাইয়া) সৃষ্টি করেছি ( খালাকতু) ]। এখানে আল্লাহ নিজ দু- হাত ( ইয়াদাই) সাবিত করেছেন ( কোরআন -৩৮/৭৫) । এবং সূরা মায়েদাতেও আল্লাহ নিজের দু - হাত( ইয়াদাহু) সম্পর্কে বলেছেন ( কোরআন -৫/৬৪) । এরকম করে কোরআন হাদীসে তার হাত পা ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এবং আমরা একদিন আল্লাহর দর্শনও পাবো, যেমনটা বাকারা ( ২/২১০) এবং কিয়ামাহ (৭৫/২৩) এতে উল্লেখ আছে....। আর এসবই প্রমাণ করে যে আল্লাহ নিরাকার নয় বরং সাকার, যদি সাকার না হতো তাহলে তার চোখ হাত, মুখ এসবের কথা কোরআনে আসলো কেন? আর আল্লাহ নিরাকার হলে আমাদের দর্শন এর কথা আসলো কেন? কেননা নিরাকার কখনো দর্শন করা যায় না......। আর হ্যা, আল্লাহ হাত, পা আছে, তবে আমরা জানি না তা কি রকম! আল্লাহ ইয়াদ, আইন, ওয়াজহু সিফাত আমাদের জানা, তবে ধরণ ( কাইফিয়ত) আমাদের অজানা... তার হাত পা মাখলুক এর হাত পার মতো না, তার হাত বা চেহারা তার শান ও মান অনুযায়ী যেরকম হওয়ার কথা ঠিক সেরকম তিনি!, তাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যাবে না., যেমনটা সূরা শূরাতে ( ৪২/১১) এসেছে.... । আমি আরও বিশ্বাস করি যে তাওহিদের তিন ভাগ, যেমনটা ইমামগণ বলেছেন, ( শারহু আকিদা ত্বহাবিয়া, শারহু ওয়াসিতিয়া, শারহু সুন্নাহ কিতাব দ্রষ্টব্য) । আমি আরও বিশ্বাস করি যে আল্লাহ ইলমুল গায়েব জানেন, একমাত্র তিনিই গায়েব জানেন , যেমনটা নামল ( ২৭/৬৫) সহ অন্যান্য সূরা ও হাদীসে আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়াও আমি আল্লাহকে চিরজীব ও চিরস্থায়ী হিসাবে বিশ্বাস করি, যেমনটা বাকারা (২/২৫৫) এতে বলা হয়েছে, এবং কোরআনে বলা তার প্রত্যেকটা আসমাউল সিফাত সম্পর্কে বিশ্বাস করি.... । এবং আমি আরও বিশ্বাস করি যে আল্লাহ শেষ রাতে প্রথম আসমানে অবতরণ করেন ( বুখারী-১১৪৫ : তাওহিদ পাবলিকেশন) , তিনি নূযুল করেন এটা জ্ঞাত, তবে তার কাইফ অজ্ঞাত... আমি বিশ্বাস করি যে উপাসনা একমাত্র আল্লারই করতে হবে, তিনি ব্যাতিত কারো ইবাদত করা যাবে না, আল্লাহ ব্যাতিত কারো ইবাদত শিরক, যার কোনো মাফ নেই.... তা ছাড়া সব পাপ মাফ করেন ( নিসা-৪/৪৮) তবে কেও শিরক বা অন্য গুনাহ করে তওবা করে ইমান আনলে আলাদা বিষয় ( ফুরকান-২৫/৬৮-৭০) । আর আমিও আরও বিশ্বাস করি যে, আল্লাহর অন্যান্য সিফাত এর মতো কোরআনও আল্লাহ সিফাত মহান কালাম ( তওবা-৯/৬) ।
এই হলো সংক্ষিপ্ত আকারে আমার রব সম্পর্কে আমার আকিদা।
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।