তারপর কাশফুলগুলো ধীরে ধীরে রঙহীন হয়ে পড়ে, আকাশের মতো শুভ্রতা কোথায় যেন চাপা পড়ে যায়। ঋতুর নগরে নীরব পায়ে প্রবেশ করে হেমন্ত—তার সঙ্গে বাড়তে থাকে শৈত্যের গভীরতা। পৃথিবীও যেন সেই আগত শীতের ছোঁয়ায় আরো ধূসর, আরো পাণ্ডুর হয়ে ওঠে। বৃক্ষেরা ভুলে যায় বসন্তের জাগরণ, ঝরাতে থাকে স্মৃতিমাখা পাতারা—যেন পুরোনো দিনগুলোর প্রতি নীরব বিদায়।
কি ভাবছেন!
এখানে তো নিয়ম অনুযায়ী নিজের সম্পর্কে কিছু বলার জায়গা। তাহলে আমি এসব কেন লিখছি? আসলে নিজের সম্পর্কে বলার মতো তেমন বাহারি কিছুই নেই। তবে ঋতুর রঙে যে রহস্যময় নকশা খানিক আগে এঁকেছি, সেখানেই লুকিয়ে আছে আমার জীবনের পথচিত্র। এখনও বুঝতে পারলেন না?
আচ্ছা!
জিলাপির পাক পাক ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে এবার সরাসরি বলি—শরতের নরম সোনালি আলো থেকে শৈত্যের কঠিন দিগন্ত পর্যন্ত ঋতুর যে ধীরে ধীরে অবনতি, আমার জীবনও চলছে সেই একই রেখাচিত্র ধরে। প্রতিদিন আমি যেন একটু একটু করে মিইয়ে যাচ্ছি, নিভে যাওয়া প্রদীপের মতো। অবনতির এই দীর্ঘ ধারায় আমি ভেসে চলেছি, কোথাও প্রতিরোধ, কোথাও নীরব আত্মসমর্পণ।
এই অবনতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকেই লিখতে বসেছি। লিখছি অনুভূতির অসহায় ঝড় থেকে। লিখছি একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতার ঘুনপোকা তাড়াতে। জানি না—এই লেখালিখির মাধ্যমে কতটুকু স্পষ্ট আলোর রেখা ছুঁতে পারবো, কতটা সাফল্য কুড়াতে পারবো।
তবে একটা জিনিস নিঃসন্দেহ—
লিখে যাওয়া আমার শ্বাস, আমার অস্তিত্বের সবচেয়ে সত্য ভাষা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।