Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবার শেষ ক’টা দিনের কথা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
162 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,432 পয়েন্ট)   08 অক্টোবর 2025 "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বাবার শেষ ক’টা দিনের কথা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
লেখার ধরণঃ স্মৃতিচারণ
পোস্টের তারিখঃ ০৯-১০-২০২৫

২০২২ সালের ২২ অক্টোবর।
হঠাৎ খবর পেলাম—বাবার প্রচণ্ড জ্বর। সন্ধ্যার দিকে দৌড়ে গেলাম বাবার বাসায়। গেস্ট রুমের ছোট খাটটিতে বাবা শুয়ে আছেন। পাশে গিয়ে বসে বাবার কপালে হাত রাখলাম—হাতের মধ্যে যেন জ্বলে উঠলো আগুনের তাপ। শরীরে প্রবল জ্বর, হাত-পায়ে ব্যথা।

আমার বাবা এমনিতেই স্ট্রোকের রোগী। তার উপর এই জ্বর যেন শরীরের সমস্ত শক্তি কেড়ে নিয়েছে।
রাত আটটার দিকে প্যাথলজির স্যাম্পল কালেকশন ম্যান এসে রক্তের নমুনা নিয়ে গেলেন।

রাত দশটার দিকে বাবা উঠে বসেন। আমাকে দেখে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছেন প্রাণপণে।
রাত দশটা দশে এলাকার ডাক্তার এলেন। রিপোর্ট দেখে বললেন—“তাকে হাসপাতালে ভর্তি করুন।”
কিন্তু বাবা একদম রাজি নন।
ডাক্তার বললেন, “ঠিক আছে, সকালে স্যালাইন দিন, রিপোর্টগুলো দেখাবেন।”

রাত এগারোটার দিকে আমি বাসায় ফিরে এলাম।
চিন্তায় ভরে গেল মাথা। সারারাত ঘুম এল না। ফজরের নামাজের পর একটু চোখ লেগে এলো।

ঘুম ভেঙেই ছুটে গেলাম বাবার কাছে। দেখলাম স্যালাইন চলছে, কিন্তু বাবা অজ্ঞান অজ্ঞান ভাব, আবোল-তাবোল বকছেন। কখনো বা হাতের স্যালাইন খুলে ফেলছেন।
রিপোর্ট এসেছে—বাবার ডেঙ্গু জ্বর এবং সঙ্গে তীব্র হার্ট অ্যাটাক
সবকিছু যেন এক মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল।

তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম—আর নয়, এবার হাসপাতালে নিতে হবে।
দুপুর দুইটার দিকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলো। বাবাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে চারজন ধরে সাততলা থেকে নামানো হলো। কে জানতো—এটাই হবে তাঁর জীবনের শেষবার বাসা থেকে বের হওয়া।

অ্যাম্বুলেন্স ছুটছে সরকারি হাসপাতালে। সেদিন শুক্রবার, রাস্তাও ফাঁকা।
কয়েক মিনিটেই পৌঁছে গেলাম।
কিন্তু সরকারি চিকিৎসা—তা তো সবারই জানা। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা হলো না। হার্ট বা স্ট্রোকের ডাক্তারও নেই। প্রতিটি মুহূর্তই বাবার জন্য অমূল্য, অথচ সময় যেন থেমে আছে।

বাধ্য হয়ে আবার বেসরকারি হাসপাতালে ছুটলাম।
কিন্তু সেখানে আইসিইউ বেড ফাঁকা নেই।
শেষে মগবাজারের এক হাসপাতালের পরিচালক—আমার বন্ধু। ওর মাধ্যমে বাবাকে ভর্তি করাতে পারলাম।
আইসিইউ-তে শুরু হলো বাবার চিকিৎসা।

রাত এগারোটার দিকে আমার শরীর খারাপ লাগায় বাসায় ফিরে এলাম।
বাবা তখনো ভেন্টিলেশনে যাননি—ডাক্তাররা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

পরদিন সকালে গিয়ে শুনলাম—রক্তের প্লাটিলেট কমে গেছে, আজই প্লাজমা দিতে হবে।
ছোট ভাই ছুটে গেল ডোনার আনতে।
বাবাকে কেবিনে আনা হলো, রক্ত দেওয়া শুরু হলো। সেদিন বাবা কিছুটা ভালো। তবু জ্বরটা ছাড়ছে না।

২৪ অক্টোবর আরেক ব্যাগ প্লাজমা দিতে হলো। ২৫ অক্টোবর সকলে মিলে ঠিক করলাম—বাবাকে বাসার কাছের খিদমা হাসপাতালে নিয়ে যাই।
সেখানে ভর্তি করানো হলো। সেদিন কিছুটা স্বাভাবিক ছিলেন বাবা।

কিন্তু রাতের দিকে আবার জ্বর এল।
২৬ অক্টোবর সকালেও অবস্থা অপরিবর্তিত।

দুপুরে আমি একা বাবার পাশে। বাবা বললেন, “মাথাটা একটু টিপে দে।”
আমি তাঁর মাথা টিপে দিচ্ছিলাম।
হঠাৎ বললেন, “তুই ডান হাত দিয়ে টিপ, তোর বাম হাতে ব্যথা তো!”
হার্ট অ্যাটাকের পর আমার হাতের কষ্টটাও বাবার মনে ছিল—এত অসুস্থ হয়েও তিনি তা ভুলেননি।

কিছুক্ষণ পর ছোট ভাই এল। আমি মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে বাসায় গেলাম। ওর টেস্ট পরীক্ষা চলছিল।

আমি বাসায় ঢুকতেই ফোন এল—বাবার পেট ফুলে গেছে, জ্বর বেড়েছে, শ্বাস নিতে পারছেন না।
দৌড়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেখি—বাবা তীব্র কষ্টে শ্বাস নিচ্ছেন।
ডাক্তার বললেন—“অবিলম্বে আইসিইউতে নিতে হবে।”

অ্যাম্বুলেন্সে করে মুগদা হাসপাতালে ছুটলাম। কিন্তু আইসিইউতে কোনো বেড খালি নেই।
অবশেষে প্রচেষ্টায়, সুপারিশে, প্রায় আধঘণ্টার লড়াই শেষে একটি রিজার্ভ বেড পেলাম—৭ নম্বর।

বাবাকে নেওয়া হলো আইসিইউতে।
ডাক্তাররা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর শ্বাসকষ্ট বাড়ছে।
ডাক্তার একবার মাথা নেড়ে বললেন—“খুব দেরি হয়ে গেছে। এখন একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই পারেন কিছু করতে।”

রাত একটা পর্যন্ত বাবার হাত ধরে বসেছিলাম।
তিনি বারবার পানি চাইছিলেন, হাত শক্ত করে ধরে রাখছিলেন।
তারপর শরীরটা কেমন দুর্বল লাগায় আমি বাসায় ফিরলাম।

সকাল আটটার দিকে ছোট ভাই ফোন করে বলল—“ডাক্তাররা লাইফসাপোর্ট দিতে চাচ্ছেন, তুমি অনুমতি দেবে?”
আমি জানতাম, আর কোনো উপায় নেই—বললাম, “দাও।”

হাসপাতালে গিয়ে দেখি, বাবার নিথর দেহ শুয়ে আছে যন্ত্রের নলের নিচে। চোখে মুখে যেন নিঃশেষ শান্তি।

দুপুর পর্যন্ত থাকলাম, মেয়ের পরীক্ষার জন্য ফিরতে হলো। ভাবলাম বিকেলে আবার হাসপাতালে যাবো।

কিন্তু বিকেল গড়াতেই ফোন এল,
“তুমি হাসপাতালে যেও না, বাসায় এসো। বাবা আর নেই।”

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজল। আমি নীচে নেমে গেলাম।

দেখলাম—বাবা ফিরেছেন।
চোখ বন্ধ, মুখে প্রশান্তি, যেন দীর্ঘ ক্লান্তির পর গভীর ঘুমে আছেন।

শুধু প্রাণটা নেই তাঁর দেহে।
চোখের সামনে আমার বাবা, অথচ তিনি আর নেই…

#স্মৃতিচারণ #বাবা #হারানোরবেদনা #জীবনেরগল্প #বাংলাসাহিত্য #MohammadJahidHossain #EmotionalWriting

image
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1259 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25432। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1222
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যারা আমার “লাইফসাপোর্ট” গল্পটি পড়েছেন, তারা এই লেখাটি সহজেই বুঝতে পারবেন। আর যদি ক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
183 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হাতের চামচ ধরার মতো জোরও পেলাম না। গলার মধ্যে থাকা নলটি (ভেন্টিলেশন) খোলার পর কিছুট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
160 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঘুম ভাঙলো মনিটরের টিকটিক শব্দে। আজ সেই শব্দটা আর ভয়ের নয়— বরং মনে হলো, এই টিকটিকই আম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
165 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

অনুরাগের শেষ রাত্রি  লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ধরনঃ ছোটগল্প তারিখঃ ২৪ অক্টোবর ২&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
393 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ রাতের নীরবতা লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরণ: ছেটগল্প তারিখ: ১৮ অক্টোবর ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
456 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1598 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    79 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...