“Crying is a complex behavior characterized by the shedding of tears from the lacrimal apparatus, often in response to emotional states such as sadness, joy, or frustration.”
Vingerhoets, A. J. J. M. (2013).
কান্না এ শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। এটি আমাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। কেউ আনন্দে কাঁদে আবার কেউ দুঃখে। তবে হ্যাঁ দুঃখের ফলে কাঁদলে মানুষের মন অনেকটা হালকা হয়। কখনো কখনো যখন খুব বেশি কষ্ট হয় তখন চিৎকার করে কাঁদলে আমাদের মনে শান্তি অনুভূত হয়। কিন্তু আমাদের সমাজ কান্নাটাকে আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে না দেখে দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। আমরা যখন কোন একজন ব্যক্তিকে (বিশেষ করে ছেলে) কাঁদতে দেখি তখন সে কেন কাঁদছে এটা বোঝার চেষ্টা না করে আমরা এটা চিন্তা করতে শুরু করি সে কান্না করছে মানেই সে দুর্বল। তাই একটা মেয়ে কিছুটা কষ্ট পেলেই কান্নার মাধ্যমে সহজেই (ছেলেদের তুলনায় সহজে) নিজের কষ্টকে চোখের জল রূপে জড়িয়ে ফেলতে পারে কিন্তু একটা ছেলে যতই কষ্ট পাক সে সমাজের ভয়ে ভিতরে ভিতরে মরে গেলেও আর কেঁদে উঠতে পারে না। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার যখন কষ্ট হয় আমি তখন সত্যিই চিৎকার করে কাঁদি,, হ্যাঁ আমাকে দেখেও যে মানুষ হাসে না এমনটা না তবে সত্যি বলুন তো এই মানুষগুলো কি আপনাকে একফোঁটা সান্ত্বনা দিতে আসে বা আপনার কষ্টের কারণ শোনার জন্য তাদের কাছে সময় আছে নেই তো তাই না? আমাদের সমাজের তথাকথিত পন্ডিত ব্যক্তিরা অথবা সুপুরুষেরা বেশির ভাগই সমালোচনায় পারদর্শী তারা কখনো এটা বিচার করে না যে ছেলেটা কেন কাঁদছে? তারা এটা বিচার করে যে একটা ছেলে হয়ে সে কাঁদছে! আর হ্যাঁ মেয়েদের কথা তো বলতে ভুলেই গেছি তারা যদি কোন ছেলেকে কাঁদতে দেখেই বসে তাহলে সে ছেলে শতভাগ কাপুরুষ তার ভিতরে পুরুষত্বের লেশমাত্র নেই বলে ধরে নেয় তারা। হাসাহাসি তাকে নিয়ে ঠাট্টা করা তো সাধারণ বিষয় মাত্র। কিন্তু সে কখনোই আপনাকে এটা জিজ্ঞেস করবে না যে আপনি কাঁদছেন কেন। তাই আমি কখনো এ ধরনের মানুষের কথায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না। ঠিক যেমন ঝড়ের সময় ছেঁড়া ঘুড়ি শুধু ঘুরপাক খায়, তেমনি এ ধরনের মানুষের কথাও শুধু সমালোচনার মধ্যেই ঘুরে। এরা আপনাকে এক ফোটা পরিমাণ সহযোগিতা ও করতে পারবে না তাই এদের কথা না ভেবে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবুন যদি কষ্ট হয় নিজের মন খুলে কাঁদুন।। যে কান্না দেখলে মানুষ আপনাকে দুর্বল বলে সেই কান্নাকে ব্যবহার করেই আপনি আরো সবল অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠুন। আর কখনো নিজেকে অতিরিক্ত শক্তিশালী দেখানোর জন্য মনের কষ্ট চেপে রাখবেন না।। তাহলে তা পরবর্তীতে বিভিন্ন মানসিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে।। মানসিক সমস্যা থেকে এটা ভালো নয় কি যে আপনি কান্না করবেন মানুষ আপনাকে সমালোচনা করবে আপনি আবার আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসে তাদের মুখের ওপর জবাবটা ছুঁড়ে দেবেন।। আবার কেউ এটা ভাবতে শুরু করবেন না যে আমি আপনাদেরকে অকারনেই সব সময় কাঁদতে বলছি এটা কখনোই নয়।। শুধু শুধু কান্না করার কোন উপকারিতা নেই। কিন্তু যখন আপনার কষ্ট হবে উদ্বিগ্ন মনে হবে নিজেকে তখন আপনি কান্না করলে দেখবেন অনেকটা হালকা বোধ করবেন।। আর আমি আমার সমাজের তথাকথিত পন্ডিতদের বলতে চাই যে ছেলেরা কান্না করলেই তারা দুর্বল বা কাপুরুষ হয়ে যায় না তাই যদি হতো তাহলে সৃষ্টিকর্তা হয়তো ছেলেদেরকে কান্না করার ক্ষমতাটাই দিতেন না তাই কেউ যখন কান্না করে তাকে নিয়ে খিল্লি না উড়িয়ে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন। সহযোগিতা করতেন না পারেন অন্তত অসহযোগিতা করবেন না। নিজে ভাল থাকুন মানুষকে ভালোবাসুন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।