রাগের আদ্যোপান্ত
‘রাগ ‘ শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। এটি মানুষের খুবই স্বাভাবিক একটি আবেগীয় অবস্থা। কিন্তু আমার মনে হয় এটি স্রষ্টার মানুষকে দেওয়া সবচেয়ে ক্ষতিকর আবেগীয় অবস্থা হয়ে উঠতে পারে যদি আমরা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি। আমি নিজেও কখনো কখনো খুব ক্ষুদ্র কারণে অতিরিক্ত রেগে যাই তাই আমি চেষ্টা করব আপনাদেরকে এই আবেগীয় অবস্থার খারাপ দিক গুলো সম্পর্কে জানানোর জন্য।
আমি আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার বর্ণনা করছি।
এতদিন আগে আমার এক বন্ধুর সাথে আমার খুব ছোট একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় এবং আমি রেগে গিয়ে তাকে অনেক বেশি কথা বলে ফেলি এবং পরবর্তীতে বুঝতে পারি তার আসলে ছিল না, এ কারণে আমি পরবর্তীতে অনুতপ্ত হতে থাকি।। এবং আমি এখনো অব্দি ওই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত।।
আচ্ছা বলুন তো যতই অনুতপ্ত হই যে মানুষটাকে আমি আমার অতিরিক্ত রাগের কারণে কষ্ট দিয়েছি সেই মানুষটার কষ্ট আমি আর দূর করতে পারব? আপনি হয়তো বলবেন এটা ভালো ব্যবহার করুন এবং সে কিছুদিন পরে সবকিছু ভুলে যাবে তার সচেতন মন হয়তো ঘটনাটা ভুলে যাবে আপনাকে ক্ষমা করে দিবে কিন্তু তার অবচেতন মনে ঘটনাটা অবশ্যই থেকে যাবে এবং পরবর্তীকালে এটি অবশ্যই আমাদের সম্পর্কে প্রভাব বিস্তার করবে।
তাই আমি আপনাদের সতর্ক করতে চাই এটা বলে যে সামান্য বিষয়ে তো রেগে গিয়ে কোন মানুষের মনে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।। এর ফলে এই মানুষটা যতটা না কষ্ট পাবে আপনি হয়তো তার থেকে বহুগুণ বেশি কষ্ট পেতে পারেন। । সুতরাং রাগান্বিত অবস্থায় শব্দ চয়নে সতর্কিত হন। যতটুকু সম্ভব চুপ থাকার চেষ্টা করুন।। এবং কোন অবস্থাতেই রাগান্বিত অবস্থায় কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। যদি রাগান্বিত অবস্থায় কোন সিদ্ধান্ত নেন তাহলে সর্বোচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে যে আপনার সিদ্ধান্তটি ভুল হবে হবে। জানি এটা একদিনে সম্ভব নয় তবে চেষ্টা করুন মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করুন, মানুষকে ভালোবাসুন।। যখন রাগ হবে তখন নিজের রাগের কারণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করুন দেখবেন আপনার রাগের কারণটি অতি ক্ষুদ্র তদাপেক্ষা আপনার সামনে থাকা মানুষের মনে যে কষ্টটা আপনি দিবেন তা হয়তো খুব বেশি হতে পারে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।