আমাদের বাড়ির গল্প
— রক্তের ভাঁজে লেখা এক বংশের কবিতা
একটি বাড়ি শুধু ইট-পাথরের দেয়াল নয়,
একটি বাড়ি মানে কত শত গল্পের পরিচয়।
কেউ সেখানে হাসি হয়ে আসে, কেউ হয় অভিমান,
কেউ রেখে যায় ভালোবাসা, কেউ রেখে যায় দাগের গান।
কেউ থাকে ছবির ভাঁজে, কেউ থাকে স্মৃতির ঘরে,
কেউ চলে যায় বহু দূরে—তবু মিশে থাকে রক্তের পরে।
এই তো আমাদের পরিবার, সুখ-দুঃখে গাঁথা মালা,
কোথাও মায়া, কোথাও ব্যথা, কোথাও অভিমানের জ্বালা।
বাবা
আমার বাবা—শুধু বাবা নন,
আমার চোখে তিনি এক জীবন্ত উপাখ্যান।
প্রাণীর চিকিৎসক, মানুষের মতোই সৎ,
কর্তব্যের কাছে যার মাথা কোনোদিন হয়নি নত।
ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসের
উপসহকারী কর্মকর্তা তিনি,
কিন্তু পদবির চেয়েও বড় তাঁর পরিচয়—
তিনি একজন সংগ্রামী মানুষ, একজন সত্যিকারের ঋণী
সেই মাটির, সেই জীবনের, সেই স্বপ্নের কাছে,
যার জন্য রাত পেরিয়েছেন নির্ঘুম আকাশের পাশে।
পড়াশোনার প্রতি ছিল তাঁর অদ্ভুত টান,
অভাবও পারেনি থামাতে তাঁর জ্ঞানের অভিযান।
রাত জেগে মোটরের শব্দে, ধানক্ষেত পাহারা দিতে দিতে,
বই খুলে বসতেন তিনি—অন্ধকার রাত পেরিয়ে যেতে যেতে।
চারদিকে যখন নীরবতা, মাঠে কুয়াশার ছায়া,
তখনও তাঁর চোখের ভেতর জ্বলত শিক্ষার মায়া।
জীবন তাঁকে সহজ রাস্তা দেয়নি কোনোদিন,
তবুও তিনি হেঁটেছেন—নিজের স্বপ্নের ঋণ শোধ করতে প্রতিদিন।
আমাদের দাদার পূর্বপুরুষের যত পুরোনো কাহিনি,
বাবার স্মৃতির ভাণ্ডারে আজও যেন জীবন্ত রইল তা-ই।
বংশের কত নাম, কত ঘটনা, কত দিনের ইতিহাস,
বাবার মুখে শুনলে মনে হয়—কালও বুঝি দাঁড়ায় আজ।
রাগী তিনি—হ্যাঁ, কখনো আগুনের মতো কঠিন,
কিন্তু হৃদয়ের গভীরে তিনি নির্মল, কোমল, ঋজু ও ঋণহীন।
সততার কাছে পৃথিবীর কোনো প্রলোভন বড় নয়,
বাবার মতো মানুষ এই পৃথিবীতে আর একজনও আছে কি না—জানি না, সত্যিই নয়।
মা
আমার মা—সুলতানা পারভীন জোসনা,
নামের ভেতরেই যেন চাঁদের মায়া, নরম কোনো ভাষা।
শান্ত তাঁর স্বভাব, কোমল তাঁর মন,
অন্যের ব্যথা বুঝে নেওয়াই যেন তাঁর আপন গুণ।
ছাত্রী হিসেবেও ছিলেন ভালো, জ্ঞানের প্রতি ছিল টান,
আরবি লাইনে পড়েছেন—ছিল নিজের স্বপ্নেরও সম্মান।
কিন্তু জীবন সব স্বপ্নকে নিজের মতো বাঁচতে দেয় না,
কখনো সংসারের বোঝা এসে মেয়েটিকে নিজের মতো থাকতে দেয় না।
শাশুড়ির কত অত্যাচার, কত না বলা ক্ষত,
কত রাত কেঁদেছেন হয়তো—তবু মুখে আনেননি কত কথা।
সব সহ্য করে সংসারটাকে আগলে রেখেছেন তিনি,
ভেঙে যাওয়া সহজ ছিল—তবু ভাঙেননি কোনোদিনই।
একজন নারী কতটা শক্ত হলে
নীরবে এত ঝড় বুকে নিয়ে সংসার ধরে রাখতে পারে—
আমার মা তারই উত্তর,
তিনি কোমল, কিন্তু দুর্বল নন;
তিনি নীরব, কিন্তু পরাজিত নন।
দাদা
আমার দাদা—মরহুম শওকত আলী মুন্সী,
২০১৫-তে চলে গেলেন, রেখে গেলেন স্মৃতির রাশি।
মানুষ ভালো ছিলেন, সরল ছিল তাঁর প্রাণ,
তবু সংসারের এক অদ্ভুত ভয়ের গল্পও ছিল তাঁর জীবনের গান।
মাত্র এগারো বছরে বিয়ে হওয়া সেই দাদি,
যাঁর সামনে দাদাও কখনো হয়ে যেতেন খুবই নিরীহ-সাদামাটা মানুষটি।
জলিল বিড়ির নেশা ছিল—ছিল তাঁর নিজের অভ্যাস,
কিন্তু শেষ জীবনে দাদির ভয়ে পছন্দের বিড়িটুকুও যেন হয়ে গেল পরবাস।
জীবন কখনো হাসির, কখনো অদ্ভুত এক কাহিনি,
মানুষ চলে যায়—থেকে যায় শুধু তার স্মৃতির রঙিন ছায়াখানি।
দাদি
আমাদের দাদি—সুফিয়া বেগম,
বুদ্ধিতে তীক্ষ্ণ, কথায় আগুন, যুক্তিতে অদম্য এক মেরুদণ্ড যেন।
তাঁর সাথে কথায় পেরে ওঠা সহজ নয়,
একবার তর্ক ধরলে শেষ না করে ছাড়ার মানুষ তিনি নন কোনোদিনই।
রাগ আছে, অভিমান আছে, নিজের মতো চলার জেদ,
তাঁর চরিত্রের প্রতিটি ভাঁজে জীবনের কত না খেদ।
আমাকে তিনি পছন্দ করেন না—এটাও আমার জানা,
তবু তিনিও তো আমাদের বংশের গল্পেরই একখানা পাতা।
মানুষকে ভালোবাসতে হলে
শুধু তার মায়া নয়, তার কঠিন দিকটাও বুঝতে হয়;
কারণ প্রতিটি মানুষই একেকটি অসমাপ্ত গল্প,
যার সব অধ্যায় সবাই পড়তে পায় না, সবাই বুঝতেও পারে না হয়।
ফুপুরা
আমার দুই ফুপু—লাইজু আর নূরজাহান,
একই রক্তের সম্পর্ক, তবু আলাদা আলাদা টান।
বড় ফুপু কিছুটা আপন, কিছুটা মায়ার ছায়া,
ছোট ফুপুর মনে আমাদের জন্য নেই তেমন মায়া।
বড় ফুপার চলে যাওয়ায় শূন্য হয়েছে এক ঘর,
কিছু মানুষ চলে গেলে বোঝা যায়—ঘরটা কতটা ছিল ভরপুর।
মৃত্যু মানুষকে নিয়ে যায়,
কিন্তু সম্পর্কের স্মৃতি নিয়ে যেতে পারে না কোনোদিন,
তাই তো পুরোনো মুখগুলো আজও আমাদের গল্পে বেঁচে থাকে প্রতিদিন।
কাকা
আমার একমাত্র কাকা—মোজাহার আলী,
তাঁর চরিত্রের গল্পও কম নয়—রঙ বদলানো জীবনের মতোই।
কখনো সাদামাটা, কখনো কূটবুদ্ধির ছায়া,
তাঁর নিজের হিসাব, নিজের ভাবনা—নিজের মতো করে সাজানো মায়া।
তাঁর মেয়ে মিতুকে
আমার বড় ভাইয়ার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে প্রবল,
সম্পর্কের হিসাব কখনো কখনো
মানুষের মনের থেকেও হয়ে ওঠে বড় ও প্রবল।
তবু পরিবার মানে শুধু মিল নয়,
পরিবার মানে মতের অমিলও;
একই রক্তের মানুষ হয়েও
কেউ কাছে আসে, কেউ দূরে সরে যায়—
এই তো জীবনের নিয়ম, এই তো সংসারের খেলা।
বড় ভাইয়া
আমার বড় ভাইয়া—মোয়াজ্জেম হোসেন শামীম,
সরলতায় শিশুর মতো, বুদ্ধিতে আবার গভীর নদীর মতো সীমাহীন।
পড়াশোনায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র,
জ্ঞান যেন তাঁর কাছে ছিল নিজের ঘরের বাতি, নিজের পথের প্রভাত।
ছোটবেলায় এত সুন্দর ছিলেন—
লোকের মুখে শোনা যায়, পরিও নাকি ধরেছিল তাঁকে!
সুদর্শন মুখ, শান্ত হাসি, চোখে আলাদা দীপ্তি,
কিন্তু হাতের কাজে নেই তেমন গতি—
বুদ্ধির কাজেই তাঁর আসল শক্তি।
যেখানে অন্যেরা হাত লাগায়,
তিনি সেখানে মাথা খাটান;
যেখানে অন্যেরা পথ খোঁজে,
তিনি হয়তো পথটাই বানান।
ছোট ভাইয়া
আমার ছোট ভাইয়া—রাগে যেন আগুনের শিখা,
কিন্তু বুদ্ধিতে এমন তীক্ষ্ণ—যেন ধারালো কোনো দিশা।
কাজকে কঠিন দেখলে ভয় পায় না একটুও,
কৌশলের খেলায় তাকে হারানো সহজ নয় মোটেও।
যে কাজ দশজন মিলে ভাবে,
সে হয়তো একাই তার রাস্তা বের করে ফেলে;
তার বুদ্ধির কাছে জটিল কাজও
ধীরে ধীরে সহজ হয়ে খেলে।
রাগ তার স্বভাবের অংশ,
বুদ্ধি তার শক্তির পরিচয়—
দুটো মিলে সে যে মানুষ,
তাকে আলাদা করে বোঝা সহজ নয়।
আর আমি—স্বর্ণা
আর আমি—স্বর্ণা,
এই বাড়ির সবচেয়ে ছোট্ট সদস্য।
চুপচাপ থাকি,
কিন্তু সুযোগ পেলেই কথার ঝড় তুলি অনবরত।
মেধা আছে, তবু মনটা থাকে দোটানায়,
নিজের সাথেই কত কথা বলি নীরব নির্জনতায়।
পড়ুয়া নই খুব একটা,
তবুও ফলাফল মাঝে মাঝে সবাইকে চমকে দেয়;
হয়তো বইয়ের চেয়ে জীবনকেই
আমি একটু বেশি পড়তে শিখেছি নিজের অজান্তেই।
মনের কথা কাউকে বলতে পারি না সহজে,
হাজার কথা জমে থাকে বুকের গোপন ঘরে।
হাসি দিয়ে ঢাকি যত অপ্রকাশিত ব্যথা,
কেউ কি কখনো পড়তে পারে সেই নীরবতার ভাষা?
আমি এই বাড়ির শেষ প্রজন্মের ছোট্ট নাম,
তবু আমার বুকেও বয়ে চলে পূর্বপুরুষের অবিরাম ধারা।
আমি শুধু স্বর্ণা নই—
আমি আমার বাবার স্বপ্নের একটু অংশ,
মায়ের সহ্যের একটু গল্প,
দাদার স্মৃতির একটু আলো,
আর দাদির কঠিন স্বভাবেরও হয়তো অতি সামান্য কোনো ছায়া।
নানা
তারপর আছে আমার নানা—
মরহুম আব্দুল হাজী মোহাম্মদ কাদের সরকার,
নামের মতোই ব্যক্তিত্বে ছিলেন দৃঢ়,
কাজে ছিলেন ন্যায়ের পাহারাদার।
পাঁচ মামার মধ্যে বড় মামার মুখে শুনেছি তাঁর বিচারসভা,
যেখানে গরিব মানুষও পেত বুক ভরে হাসার অধিকারটা।
কারণ ন্যায়ের কাঠগড়ায়
টাকার কাছে মাথা নত করেননি তিনি কখনো,
ক্ষমতাবান মানুষকে খুশি করতে
সত্যকে বিক্রি করেননি কোনো মূল্যেই, কোনো ক্ষণেও।
গরিবের মুখে হাসি ফোটানো—
তার চেয়ে বড় বিচার আর কী হতে পারে?
মানুষ চলে যায়,
কিন্তু ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ
তার কাজের ভেতর দিয়ে যুগ যুগ বেঁচে থাকে।
আমার নানার নাম তাই শুধু একটি নাম নয়,
এটি আমাদের রক্তের ভেতর বয়ে চলা এক শিক্ষা—
অন্যায় যত বড় হোক,
সত্যের সামনে মাথা নত করা নয়।
নানি
আমার নানি—সালমা গলেনুর বেগম,
নামেই যেন মায়া, স্বভাবেও তেমনি কোমলতম।
সুন্দরী ছিলেন, গুলুমুলু মুখে মিষ্টি হাসি,
তাঁকে দেখলে মনে হতো—মায়া বুঝি মানুষেরই কোনো ভাষা হয়েছি।
কারও সাথে ঝগড়া নয়,
কারও প্রতি বিষ নয়,
শান্ত ছিলেন যেন দুপুরের ছায়া,
নরম ছিলেন যেন মায়ের আঁচল মায়া।
তিনি ছিলেন ঠান্ডা নদীর মতো,
যার জলে কেউ আগুন নিয়ে গেলেও
সে আগুন নিভিয়ে দিতে জানে;
নিজে কষ্ট পেলেও
অন্যের মনে কষ্ট দিতে জানে না।
আমাদের বিশাল পরিবার
ছয় খালা, পাঁচ মামা—
কত নাম, কত মুখ, কত স্মৃতি, কত গল্প,
কেউ কাছে, কেউ দূরে,
কেউ মনে রয়ে গেছে, কেউ সময়ের স্রোতে হয়েছে ক্ষীণ ও ক্ষয়িষ্ণু।
একেকজন একেক রঙ,
একেকজন একেক স্বভাব,
কেউ মায়া, কেউ অভিমান,
কেউ ভালোবাসা, কেউ আবার হিসাব।
তবুও সবাই মিলে
একটি বংশের দীর্ঘ কবিতা,
যার প্রতিটি মানুষ একটি করে পঙ্ক্তি,
প্রতিটি মৃত্যু একটি বিরামচিহ্ন,
প্রতিটি জন্ম নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা।
কেউ কারও মতো নয়—
এটাই হয়তো পরিবারের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।
একই গাছের ডাল যেমন
সবদিকে সমানভাবে বাড়ে না,
তেমনি একই রক্তের মানুষও
একই হৃদয় নিয়ে জন্মায় না।
শেষ কথা
একদিন হয়তো আমরাও থাকব না,
থাকবে শুধু কিছু পুরোনো ছবি, কিছু নাম, কিছু গল্প।
কেউ হয়তো বলবে—
“এই মানুষটি এমন ছিলেন,
ওই মানুষটি তেমন ছিলেন।”
বাবার রাতজাগা পড়াশোনা,
মায়ের নীরব সহ্য,
দাদার সরলতা,
দাদির কঠিন স্বভাব,
নানার ন্যায়বিচার,
নানির মায়াময় হাসি—
সব মিলিয়ে তৈরি হবে আমাদের পরিবারের ইতিহাস।
সময় মানুষকে মুছে দেয়,
কিন্তু মানুষের কাজ মুছে দিতে পারে না সবসময়।
কেউ বেঁচে থাকে সন্তানদের কথায়,
কেউ নাতির স্মৃতিতে,
কেউ কোনো পুরোনো ছবির হাসিতে,
কেউ আবার একটি ভালো কাজের ভিতরে।
আর আমি—স্বর্ণা—
এই দীর্ঘ গল্পের ছোট্ট এক পৃষ্ঠা,
কিন্তু আমার বুকের ভেতর
পুরো একটি বংশের শব্দ জমা।
আমি যখন নিজের দিকে তাকাই,
দেখি শুধু একজন মানুষ নই আমি—
আমার শিরায় শিরায় হাঁটে
বাবার সংগ্রাম,
মায়ের ধৈর্য,
দাদার স্মৃতি,
নানার ন্যায়,
নানির মায়া।
আমরা নিখুঁত পরিবার নই—
আমাদেরও অভিমান আছে, ভুল আছে, দূরত্ব আছে, ক্ষত আছে।
কেউ কাউকে ভালোবাসে,
কেউ কাউকে সহ্য করে,
কেউ কাছে থেকেও দূরে,
কেউ দূরে থেকেও হৃদয়ের খুব কাছে।
তবু রক্তের এই বন্ধন
সব হিসাবের চেয়ে বড়,
কারণ পরিবার মানে শুধু একসাথে হাসা নয়—
পরিবার মানে ঝড়ের মধ্যেও
কারও স্মৃতি বুকের মধ্যে ধরে রাখা।
আজ যারা পাশে আছে,
তাদের মূল্য বুঝে নিই আজই;
কারণ কাল হয়তো
একটি চেয়ার খালি থাকবে,
একটি কণ্ঠ আর শোনা যাবে না,
একটি পরিচিত মুখ
শুধু ছবির ফ্রেমে দাঁড়িয়ে থাকবে।
তাই আমাদের এই গল্প
শুধু সুখের গল্প নয়—
এ গল্প ত্যাগের,
এ গল্প সংগ্রামের,
এ গল্প ভালোবাসার,
এ গল্প ভুল বোঝাবুঝির,
এ গল্প হারিয়ে যাওয়া মানুষদের,
এ গল্প আবার ফিরে পাওয়া স্মৃতির।
একদিন এই বাড়ির উঠোনে
হয়তো আমাদের কারও পায়ের শব্দ থাকবে না,
তবু বাতাসে ভেসে থাকবে
একটি পরিবারের বহু বছরের গান—
“মানুষ চলে যায়,
রক্তের গল্প থেকে যায়;
সময় বদলে যায়,
স্মৃতিরা বদলায় না।
প্রজন্ম পেরিয়ে প্রজন্ম আসে,
নামগুলো একদিন পুরোনো হয়—
কিন্তু ভালোবাসা যদি সত্যি হয়,
একটি পরিবার কখনো সত্যিই হারিয়ে যায় না।”
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।