পথের কোনো ঠিকানা নেই,
তবু পাশাপাশি হাঁটি,
কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি—
তবু থামে না সঙ্গীসাথী।
আমরা যেন দুই ভবঘুরে,
শহরজোড়া পথের মানুষ,
গন্তব্যের হিসাব ভুলে
হাসির মাঝেই খুঁজি ফানুস।
কখনো নদীর পাড়ে বসে
স্বপ্নগুলো করি ভাগ,
কখনো আবার নীরব রাতে
দুঃখগুলো দিই একে অপরের ভাগ।
তুই বলিস, “চল হারিয়ে যাই,”
আমি বলি, “চল, তাই হোক,”
পৃথিবী যদি পথ ভুলিয়ে দেয়,
বন্ধুত্বটা থাকুক ঠিক।
পকেট খালি, মনটা ভরা,
চোখে হাজার স্বপ্ন আঁকা,
জীবন যত কঠিন হোক না,
তোর পাশে থাকলে লাগে ফাঁকা না।
আমাদের বন্ধুত্ব কোনো
চুক্তিতে লেখা নয়,
কাছে থাকলেই ভালোবাসা—
এমন কোনো শর্তও নয়।
দূরত্ব এসে দেয়াল তুলুক,
সময় নিক তার নিজের পথ,
মনের ভেতর থেকে যাবে
আমাদের সেই পুরোনো রথ।
একদিন হয়তো জীবন
ছড়িয়ে দেবে দুই দিক,
কেউ হবে ব্যস্ত শহরে,
কেউ হারাবে অচেনা ঠিক।
তবু কোনো সন্ধ্যার শেষে
হঠাৎ যদি মনে পড়ে—
“একজন ছিল, পাগল বন্ধু,
যে হাঁটত আমারই ঘোরে।”
তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে
হেসে বলিস নিঃশব্দে—
“ভবঘুরে দুটো মানুষ ছিল,
বন্ধুত্ব ছিল তাদের হৃদয়ে।”
জীবন আসলে পথের মতো,
থামা তার নিয়ম নয়,
মানুষ আসে, মানুষ যায়—
সবাই আপন হয় না সয়।
কিন্তু কিছু মানুষ থেকে যায়
স্মৃতির পাতার ভাঁজে,
তাদের সঙ্গে কাটানো সময়
বুড়িয়ে গেলেও মনকে সাজে।
তাই চল, আজও পথ হারাই,
গন্তব্য থাক অজানা,
বন্ধুত্ব যদি পাশে থাকে—
ভয় কিসের, বল না?
পৃথিবী যত দূরেই যাক,
সময় যত বদলাক,
আমাদের এই ভবঘুরে বন্ধুত্ব
কখনো যেন না ফুরাক।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।