Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অতীতের ওপারে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
64 বার প্রদর্শিত
করেছেন (30,112 পয়েন্ট)   16 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অতীতের ওপারেimage

অধ্যায় এক

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প  । ১৬, জুন ২০২৬


সন্ধ্যাটা ছিল অদ্ভুত রকম শান্ত। মাগরিবের নামাজ শেষ হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। বাড়ির প্রায় সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত। কিন্তু রাশিদা এখনও একা বসে আছে সেই ঘরে, যেখানে সে তার মা, মেয়ে এবং ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে থাকত।


খাটের পাশে মেঝেতে বসে সে মাথা ঠেকিয়ে রেখেছিল গদির সঙ্গে। চোখ স্থির, অথচ কোনো কিছুর দিকে নয়। মনে হচ্ছিল অসংখ্য চিন্তা ভেতরে ধাক্কা দিয়ে জায়গা করে নিতে চাইছে।


সে কাঁদছিল না। হয়তো এত কেঁদেছে যে এখন আর কান্নার শক্তিটাই নেই। সে শুধু ক্লান্ত—মনে করতে, অভিনয় করতে, আর এমন এক জীবনের ভারে ক্লান্ত, যে জীবন তাকে ছাড়তে চায় না।


রাশিদা চোখ বন্ধ করল। ধীরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল।


সে বদলেছে—অন্তত সে বিশ্বাস করে, বদলেছে।


একসময়কার বেপরোয়া মেয়েটা আর নেই। বহু বছর আগে সে সেই মানুষটাকে পেছনে ফেলে এসেছে। নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করেছে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছে।


কিন্তু তার অতীত যেন তাকে ছাড়তে চায় না।


মানুষের ফিসফাসে সেটা ফিরে আসে। বিচারভরা দৃষ্টিতে সেটা ফুটে ওঠে। বিয়ের কথায় সেটা সামনে আসে। আর প্রতিদিন, তার মেয়ের নিষ্পাপ চোখের দিকে তাকালেই সেটা আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে।


তার মেয়ে—খাদিজা।


তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় নিয়ামত।


মাত্র সতেরো বছর বয়সে সে তাকে জন্ম দিয়েছিল।


রাশিদা তাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। তার জন্য নিজের জীবনও দিতে পারে।


তবু একটা কথা বদলায় না। খাদিজার কোনো বাবা নেই।


মারা যাওয়ার কারণে নয়—সে জানেই না সে কে।


সেই সময়টায় রাশিদার একসঙ্গে তিনজন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।


এই কথাটা মনে পড়লেই বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে।


সে ছিল তরুণী, একগুঁয়ে, বেপরোয়া।


আজও কেউ যখন খাদিজার দিকে তাকায়, সব মনে পড়ে যায়—ষোল বছরের সেই মেয়েটা, তার গর্ভধারণ, লজ্জা, অপমান, সবকিছু।


আর এটা তার প্রথম গর্ভধারণ ছিল না।


ভাবনাটা উঠলেই বুক ভার হয়ে আসে।


তখন সে ভাবত, সে সব জানে। রোমাঞ্চের পেছনে ছুটত। পরিণতির কথা ভাবত না।


তারপর বাস্তবতা দরজায় কড়া নাড়ল।


একটি পজিটিভ প্রেগন্যান্সি টেস্ট।


প্রথমবার সে গর্ভপাত করিয়েছিল। কোনো ভয় ছিল না, অনুশোচনাও না।


কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার গর্ভবতী হলো।


এবারও একই সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তার মা আগেই জেনে গেলেন।


তিনি যা বলেছিলেন—

—যখন নিজের ইচ্ছায় ওই পথে গিয়েছিস, তখন মা হওয়ার দায়িত্বও নিতে হবে।


কঠিন কথা। কিন্তু সত্য।


তিনি নিশ্চিত করেছিলেন, একটাও চিকিৎসা যেন বাদ না যায়।


সতেরো বছর বয়সে রাশিদা সন্তানের জন্ম দিয়েছিল।


আজ সেই সন্তান বড় হয়ে উঠেছে।


এক সুন্দর মেয়ে, যার কোনো পরিচিত বাবা নেই।


রাশিদা চোখ বন্ধ করল।


ভেতরের চিন্তাগুলো তাকে ছাড়তে চাইছিল না।


জায়নামাজের দিকে তাকিয়ে রইল।


মাঝেমধ্যে মনে হতো—এই অতীত কি কখনো থামবে?


কখনো কি মানুষ তাকে ভুলের বাইরে দেখবে?


আর কখনো কখনো মনে হতো—সে কি আদৌ সেই ভবিষ্যতের যোগ্য?


তার বয়স তখন ছাব্বিশ ছিল।


তবু ভবিষ্যৎ তখনও দূরে।


ঠিক তখন দরজায় টোকা পড়ল।


রাশিদা মুখে হাত বুলিয়ে নিল।


—দরজা খোলা।


মা আসাবে ঢুকলেন। মেয়েকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।


—কাঁদছিস কেন? —আমি কাঁদছি না।

—চোখ না কাঁদলেও হৃদয় কাঁদে।


রাশিদা কেঁপে উঠল। —আপনারা কেন আমার অতীত ছাড়তে পারেন না?


মা শান্তভাবে বললেন—

—খাদিজা আছে। মানুষ মনে রাখবেই।


তিনি যোগ করলেন—

—এই কারণেই মেয়েদের নিজেকে আগলে রাখতে হয়।


নীরবতা নেমে এল।

—আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছি।

—আমি জানি। আল্লাহ ক্ষমা করেছেন। কিন্তু সমাজ না। আর খাদিজাও না।


রাশিদা ঠোঁট কামড়ে ধরল।

—আমি চেষ্টা করেছি।


—চেষ্টা করেছিস ঠিকই। কিন্তু কাভুর কথা শোনা উচিত। তোর চাচা ফজলু মিয়ার।

চুপ।

—আমি পারি না।

—তবু শুনতে হবে।

—তিনি কোথায় ছিলেন যখন আমরা না খেয়ে ছিলাম?


চোখে পানি।

—এখন এসে আমার জীবন ঠিক করবেন?

মা আসাবে বললেন—

—তবু শুনতে হবে। তিনি তোর বাবার মৃত্যুর পর অভিভাবক।


—তিনি দায়িত্ব নেননি।

—সেটা সত্যি।

নীরবতা।


—অভাব কি তোকে ওই পথে নিয়ে গিয়েছিল?

রাশিদা থেমে গেল।

—না, রাশিদা। তুই নিজে গিয়েছিলি।

ঘর স্থির।


রাশিদা চোখ নামিয়ে ফেলল।

—ফাতিমা তোর চেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল। তবু সে যায়নি।


সব স্মৃতি ভিড় করে এল।

—তুই চেয়েছিলি।

নীরবতা।

রাশিদা ভেঙে পড়ল।

তারপর—

—তুই বদলেছিস, আমি জানি।

রাশিদা চোখ মুছল।


—কিন্তু মানুষ শুধু কলঙ্কটাই দেখে।

রাশিদা ধীরে মাথা তুলল। চোখ লাল।

—মা… কাভু যে মানুষটার কথা বলছে, আমি তাকে চিনি।(চলবে.........)


দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1490 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 30112। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4073
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
অতীতের ওপারে অধ্যায় দুই  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ১৬, জুন ২০২৬ —তুমি কী বল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
118 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতীতের ওপারে অধ্যায় এক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ১৬, জুন ২০২৬ সন্ধ্যাটা ছি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
122 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
স্ক্রিনের ওপারে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ২৯ জুলাই, ২০২৬ স্ক্রিন শুধু বিনোদ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
57 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

অনাগত অতীতের পাণ্ডুলিপি লেখিকা — মায়াবী ইলমাজ মেঘ অনাগত অতীতের পাণ্ডুলিপি— কী অদ্ভুত এক খাতা, যার পাতায় এখনো লেখা হয়নি আমাদের আগামীকালের কথা। তবু কোথা থেকে যেন চেনা লাগে প্রতিটি অক্ষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
52 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
টাকার ওপারে (সম্পর্ক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণমূলক লে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2508 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    12 মন্তব্য

    124 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    393 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    19 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    252 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...