আসুন আজকে দলীল ও যুক্তির আলোকে বুঝি গণতন্ত্র কেন হারাম এবং বাতিল মতবাদ -
পবিত্র আল কোরআনে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন -
" আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হয়ো না। ( আলে ইমরান-১০৩) "
কোরআন আমাদের নির্দেশ দিচ্ছে আমরা যেন বিভক্ত না হয়, এর বিপরীতে গণতন্ত্র সিস্টেম আমাদের নানা দলে বিভক্ত করে দিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে আজ মুসলিমরা গণতান্ত্রিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, এনসিপি গঠন করে এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে মারামারি করে। আজ আমরা মুসলিমরা এসব গণতান্ত্রিক দলে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ দলের আদর্শ গ্রহণ করে অন্য দলের মুসলিমদের তুচ্ছ - তাচ্ছিল্য করা শুরু করে দিয়েছি, এমনকি অন্য দলের মুসলিমকে কিতালও করি নিজেদের বিরুদ্ধে গেলে। এই যে গণতন্ত্র আমাদের মুসলিমদের এরকম করে বিভক্ত করে দিয়েছে, যে বিভক্ত হওয়াটা ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে, আর এই ইসলামের একটা নির্দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে এই গণতান্ত্রিক সিস্টেম আমাদের ঐক্য না করে বিভক্ত করার জন্যই গণতন্ত্র সম্পূর্ণ ভাবে হারাম, কারণ এই গণতন্ত্র আমাদের কোরআনের হুকুমের বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়েছে..... ।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আরও বলেন -
" মুমিনরা যেন মুমিনদের ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধু না বানায়। আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। ( আলে ইমরান-২৮) "
এই আয়াতে দুটো পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ -
১. কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না
২. যারা কাফেরদের বন্ধু করে তাদের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক নেই
এখন আমরা যদি গণতান্ত্রিক দলগুলোর দিকে দৃষ্টি দেয় তাহলে দেখি যে এই গণতন্ত্রের সিস্টেমে সামান্য একটা ভোর পাওয়ার জন্য কথিত মুসলিমরা মুশরিকদের কাছে গিয়ে সখ্যতা গড়ে, তাদের ধর্মীও উৎসবে গিয়ে আনন্দ- ফুর্তি করে। জামায়াতে ইসলামি দলসহ বিভিন্ন দলের মুসলিমগুলো ভোটের জন্য হিন্দুদের পূজা মন্ডপে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এবং পূজার রীতিতে যুক্ত হয়, যেখানে ইসলাম এরকমটা করতে নিষেধ করে - ( সুনানুল বায়হাকী -১৮২২৮) । আর এসব গণতান্ত্রিক সার্পোটার গোমরাহী কথিত মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে হয় তো রাসূল সাঃ বলেছিলেন -
" ভবিষ্যৎ এতে আমাদের উম্মতের এক অংশ মূর্তি পূজারীদের সাথে মিশে যাবে ( ইবনু মাজাহ, আস সুনান - ৩৯৫২)
তো যেই গণতন্ত্র আপনাকে আর মুশরিকদের সামান্য একটা ভোটের জন্য নিজের ইমানকে কুরবান করে দিয়ে মুশরিকদের কাতারে দাঁড় করায় সে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ভোট যদি হারাম না হয় তাহলে কোন বস্তুটা হারাম হবে?
গণতান্ত্রিক মুসলিমরা একটা ভোটের জন্য এসব মুশরিকদের সাথে গভীর বন্ধুত্ব করে, যেটার প্রমাণ আমরা নিজেরাই বিভিন্ন সময় দেখে থাকি। আল্লাহ যেখানে তাদের সাথে বন্ধুব করতে নিষেধ করেছে এবং মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব করলে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথাও বলেছে তখন গণতন্ত্র কি ভাবে জায়েজ হয় যখন এই কাজটাই গণতান্ত্রিক সিস্টেমের জন্য হয়ে থাকে?
যে গণতন্ত্র আপনাকে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে সেই গণতন্ত্র আপনি করে যুক্ত হতে পারেন? এবং সেই গণতন্ত্র হারাম নয় তো কি! যা আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে?
গণতন্ত্র বলে সবাই এক, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, হিন্দু মুসলিম বা সকল জাতি- গোষ্ঠী ভাই ভাই ইত্যাদি । যে গণতন্ত্র আপনাকে আমাকে মুশরিক মুরতাদের সাথে এক কাতারে দাঁড় করায় সে গণতন্ত্র কুফর নয় তো কি?
গণতন্ত্র বলে মূর্খ, অশিক্ষিত, চোর- বাটপার, মদখোর জুয়ারি সবাই সমান, আর গণতন্ত্রে চোট বাটপার, জুয়ারি, মদখোর সবাই ভোট দিতে পারে। আর এখানে এসেও আমরা ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের সাংঘর্ষিকতা দেখতে পায়, ইসলাম আলেমদের মর্যাদা দিয়েছে, আম মানুষের চেয়ে আলেমদের মর্যাদদ বেশি, চোর বাটপারের চেয়ে একজন মুমিনের মর্যাদা বেশি, ইসলামি শূরাতে কখনো কোনো জিন্দিক মূর্খ, জুয়ারি এর কথায় খলিফা করা হয় না। আর এসবের বিপরীতে গণতন্ত্রে এই সবগুলো কাজই করা হয়। একন আপনারাই বলুন ইসলাম যেটা বলে, আর কোনো সিস্টেম যদি তার উল্টা কথা বলে এবং উল্টা পথে চলে তাহলে সেই সিস্টেম কি ভাবে বৈধ বা জায়েজ হতে পারে?
কাহিনি এখানেই শেষ না, গণতন্ত্র বলে -" সার্বভৌমত্বের মালিক হলো জনগন " যেখানে কোরআন বলে -
রাজত্বে তাঁর কোন শরীক নেই’ (বনী ইসরাঈল -১১১)
অর্থাৎ সকল রাজত্ব বা সার্বভৌমত্বের ( মুলক) এর মালিক একমাত্র আল্লাহ ।
গণতন্ত্র হলো জনগনের শাসন জনগনের প্রতিনিধি দ্বারা তৈরি আইনের শাসন, যেখানে ইসলামে শাসন ও আইন সবই দেওয়ার একমাত্র মালিক হলেন আল্লাহ । এই বিষয়ে কোরআন বলে -
শুনে রাখ! সৃষ্টি যার হুকুম চলবে তার’ (আ‘রাফ -৫৪)।
আল্লাহ ব্যতীত কারু বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ব্যতীত তোমরা অন্য কারু ইবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না’ (ইউসুফ -৪০)।
আল্লাহ নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশকে পিছনে নিক্ষেপ করার কেউ নেই। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী’ ( সূরা রা‘দ -৪১)।
অর্থাৎ ইসলাম অনুসারে আইন বিধান এসব দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ , আর এর বিপরীতে গণতন্ত্র জনগনের প্রতিনিধি এর কাছে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দিয়ে বসিয়ে রাখে।
আর এসব বিষয়ের জন্য আমরা গণতন্ত্রকে সুস্পষ্ট ভাবে হারাম ও কুফর মনে করি কারণ এই পুরো সিস্টেমটা কুফর ও হারাম উসূলে ভরপুর।
যুগের মহান ইমামরা এই গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস নাছিরউদ্দিন আলবানি রহিমাহুল্লাহ বলেন -
ইসলাম ও গণতন্ত্র দু’টি বিপরীতমুখী ব্যবস্থা। যা কখনো এক হবার নয়। একটি আল্লাহর উপর ঈমান ও আল্লাহ নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনার নির্দেশ দেয়, অপরটি ত্বাগূতের (আল্লাহ বিরোধী অনুশাসন) প্রতি ঈমান ও তদনুযায়ী জীবন পরিচালনার উপর নির্ভরশীল (সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, রেকর্ড নং-৩৫৩ ; সংগৃহীত রেফারেন্স )
বিন বায রহিমাহুল্লাহ ও আমাদের গণতন্ত্রের সাথে জড়িত হতে নিষেধ করেছেন এবং ইলম অর্জন করার কথা বলেছেন ( বিন বায, মাজমু ফাতওয়া - ৯/১৭৪)
অন্যান্য বড় বড় আলেমদেরও একই ফতোয়া ( ইসলাম সাওয়াল জাওয়াব, ফাতাওয়া নং-৯৮১৩৪)।
বর্তমানে কিছু কথিত মুসলিম জাহেল বলে যে তারা ইসলামি গণতন্ত্র করবে এবং এই গণতন্ত্রের মাধ্যমে নাকি ইসলাম কায়েম করবে। তো এসব জাহেলদের খন্ডনে প্রকৃত ইলমধারী আলেমরা বলেন -
" গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কখনো কায়েম হবে না "
এই বিষয়ে সুন্দর এবং চমৎকার একটা কথা শায়েখ নিজামুদ্দিন শামজায়ি শহীদ রহিমাহুল্লাহ বলেন -
"প্রস্রাবের দ্বারা যেমন ওযু করা যায় না এবং নাপাকের দ্বারা যেমন পবিত্র হওয়া যায় না তেমন করে গণতন্ত্রের মাধ্যমে কখনো ইসলাম কায়েম হয় না... । ইসলাম কায়েমের একটা মাত্র উপায় যেটা হলো রাসূল সাঃ এর দেখানো পথ জিহাদ, যার দ্বারা ইসলাম বিজয় লাভ করবে... " [মাসিক সানাবিল, করাচি ( পাকিস্তান ) ৮/৩৩- ; ২০১৩ এর ১১ মে ]
আমাদের দেশের অনেক আলেমও গণতন্ত্রকে বাতিল বলে আখ্যায়িত করেছেন এর মধ্যে আব্দুল্লাহিল কাফী আল কুরেশী অন্যতম যিনি একজন আহলে হাদীস ব আলেম ছিলেন.... ।
তো এরকম করে দেশ বিদেশের সকল বড় বড় যুগশ্রেষ্ঠ আলেমরা এই গণতন্ত্রকে কুপর বলেছেন এবং এর চর্চা থেকে আমাদের দূরে থাকার কথা বলেছেন... ।
গণতন্ত্রের স্বরুপ উম্মেচন করে এবং গণতন্ত্রের খন্ডনে আলেমরা বইও লিখেছেন..... ।
আমি কিছু জাহেলকে বলতে শুনেছি যে -
" গণতন্ত্র হারাম হওয়ার জন্য কোরআনের সরাসরি আয়াত লাগবে, আর গণতন্ত্র হারাম এটা কোরআন ( ও হাদীসে) বলা নেই। তাই যারা গণতন্ত্রকে হারাম বলে তারা ভুলের মধ্যে আছে ইত্যাদি "
তো এসব জাহেলদের আমি বলতে চাই যে-
" কোন কোনো কিছু হারাম হওয়ার জন্য সরাসরি সেই বিষয়ে নাম ধরে বলতে হবে এরকম কোনো উসূল ফিকহ এতে নেই। বর্তমানে আমরা অনেক বিষয় সম্পর্কে জানি যা হারাম, যেমন ধূমপান করা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য যেগুলোর ব্যাপারে কোরআন হাদীসে সরাসরি নাম ধরে কোনো কিছু বলা হয় নি, তবুও আমরা জানি যে এগুলো হারাম... "
কোন বিষয় হালাল কোনটা হারাম এসব বিষয় বুঝার জনয় ফিকহে উসূল নির্ধারন করে দেওয়া হয়েছে যা কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আর এই উসূলের আলোকেই গণতন্ত্র হারাম ও কুফর বলে আলেমরা সাব্যস্ত করেছেন....।
তো আমার এই অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা এটা সহজেই বুঝতে পারছি যে কেন গণতন্ত্র হারাম এবং কেন আমরা এর বিরুদ্ধে কথা বলি।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সঠিক বুঝ দান করুক এবং এই গণতন্ত্র নামক ফেতনা থেকে আমাদের হেফাজত করুক আমিন, আমিন, সুম্মা আমিন।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।