রাজপথে এখনো টাটকা রক্তের ঘ্রাণ,
অথচ তোমরা ক্ষমতার আতর ছিটিয়ে বলছো— সবই বসন্তের হাওয়া!
তোমাদের জিহ্বায় এখন সাপের বিষ আর ঠোঁটে প্লাস্টিকের মেকি হাসি;
নিজেদের পাপগুলো প্যাকেটে ভরে তোমরা খুব চতুরতায় বিলি করছো অন্যের দুয়ারে।
যখনই তোমাদের লুণ্ঠন আর চুরি ধরা পড়ে—
অমনি তোমরা দেশপ্রেমের বোরখা পরে মঞ্চে এসে দাঁড়াও,
আর যারা সত্যের দিকে আঙুল তোলে, তাদের কপালে সেঁটে দাও রাষ্ট্রদ্রোহীর সস্তা লেবেল!
মুখোশ পরার এই যে নির্লজ্জ অপচেষ্টা—
এ আসলে ইতিহাসকে নিজের কেনা গোলাম বানানোর এক ব্যর্থ মহড়া।
তোমাদের বিচারালয় এখন এক একটি কসাইখানা,
যেখানে ন্যায়ের বলি দেওয়া হয় শাণিত মিথ্যের ছুরিতে।
নিজেদের চরম অযোগ্যতাকে ঢাকতে তোমরা ছায়ার ভেতর ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজো;
অথচ রাতের আঁধারে যখন আয়নার মুখোমুখি হও—
তখন নিজেদের বীভৎস ছায়া দেখে নিজেরাই আঁতকে ওঠো!
তোমরা লোহার শেকল দিয়ে সত্যের মানুষকে বেঁধে রাখতে চাও,
কিন্তু ভুলে যাও— শেকল যত শক্ত হয়, বিদ্রোহের আগুন ততটাই সংক্রামক হয়ে ওঠে।
কারাগারের দেয়াল তুলে সত্যকে কতবার কবর দেবে?
মনে রেখো, সত্য কোনো নশ্বর লাশ নয় যে মাটিতে মিশে যাবে;
ওটা একটা জীবন্ত বীজ— যা বুক চিরে অঙ্কুরিত হতে জানে।
তোমাদের এই সুনিপুণ দাবার বোর্ডে মানুষগুলো আজ কেবলই প্রাণহীন গুটি।
ভোটের আগে যারা ঈশ্বরতুল্য জনগণ, ভোটের পরে তারা শুধুই এক একটি উপেক্ষিত সংখ্যা।
নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর এই যে প্রাচীন সার্কাস—
জনতা এখন আর তাতে তালি দেয় না,
বরং মুখ টিপে হাসে তোমাদের অনিবার্য পতনের অপেক্ষায়।
মিথ্যের ফানুস উড়িয়ে তোমরা আকাশ ছোঁয়ার যে দম্ভ দেখাচ্ছ—
মহাকালের বাতাসের একটি ঝাপটাই যথেষ্ট তোমাদের এই মেকি রাজত্বকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে।
আয়না ভাঙলে রক্ত বের হয় না ঠিকই,
কিন্তু সত্যের সেই ধারালো কাঁচ তোমাদের আত্মাকে ক্ষতবিক্ষত করে দেবে।
শোনো হে তাসের প্রাসাদের অধিপতি!
তোমাদের চাটুকার-পরিবৃত ওই সিংহাসন আসলে এক চলন্ত অগ্নিকুণ্ড।
পাপের বোঝা অন্যের ঘাড়ে নামিয়ে দিয়ে তোমরা হয়তো সাময়িক হালকা হতে চাও,
কিন্তু সেই পাপের ভারেই একদিন তোমাদের শিরদাঁড়া মড়মড় করে ভেঙে পড়বে।
জনতার ঘাড়কে যারা পাদানি বানিয়ে ক্ষমতার শিখরে উঠেছ, জেনে রেখো—
সেই নুইয়ে থাকা ঘাড় যখনই একবার সোজা হবে, তোমাদের পতন হবে উল্কাবেগে।
তোমাদের সাজানো ইতিহাসের পাতায় হয়তো আজ তোমরা স্বঘোষিত নায়ক,
কিন্তু মহাকালের মহাকাব্যে তোমরা কেবলই এক নগণ্য কুশীলব—
যাদের পরিচয় হবে বিবেকের খুনি আর মিথ্যার কারিগর হিসেবে।
শৃঙ্খল দিয়ে যারা মুক্তিকে দাফন করতে চেয়েছিলে,
একদিন সেই শৃঙ্খলের ঝনঝনানিই হবে তোমাদের শেষ বিদায়ের শোকাতুর সুর।
তোমাদের এই সুনিপুণ জালিয়াতি আর বিষাক্ত অপচেষ্টা—
আদতে এক আত্মঘাতী ফাঁদ, যা তোমরা নিজেরাই বুনেছ নিজের চারিপাশে।
দিনশেষে সত্য যখন নগ্ন হয়ে রাজপথে দাঁড়াবে,
তখন পালানোর কোনো গলি পাবে না;
তোমাদের জন্য অবশিষ্ট থাকবে কেবল মহাকালের অনন্ত ঘৃণা— আর ধিক্কার!
<!-- /data/user/0/com.samsung.android.app.notes/files/clipdata/clipdata_bodytext_260110_151732_622.sdocx -->
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।