পুরুষত্ব নামক কিছু গ্রুপ গুলোর মেম্বারকে আমি এক একটা ছাগল মনে করি। এক বেহায়া ছাগল পোস্ট করেছে, সেই পোস্ট এতে আরেকটা মালখোর অশিক্ষিত কমেন্ট করেছে। এসব বাঙ্গালী পুরুষদের মধ্যে এমন সব ফ্যান্টাসি কাজ করে তা দুনিয়ার অন্য কোনো জাতি পুরুষের মধ্যে কাজ করে না।
একজন প্রতীবন্ধি পোস্ট এতে বলেছে " বাসর রাতে কত % রক্তপাত হলে বুঝব সে ভার্জিন কিনা? "
এখনও এদেশের ৮০% যৌন জ্ঞান ছাড়া মূর্খগুলো মনে করে যে বাসর রাতে প্রথম সহবাসের সময় রক্তপাত হলে সে নারী ভার্জিন, আর যদি রক্তপাত না হয় তাহলে কুমারী নারী না...
আমাদের এসব ব্যাঙ্গু ছাগল গুলের জানা উচিত যে প্রথম সহবাস করলেই যে রক্তপাত হতে হবে এরকম কোনো উসূল নেই। যেসব নারীর যোনি পথ টাইট থাকে বা তাদের যোনিতে কামরস কম থাকে তাদের হয় তো প্রথম মিলনে ব্যাথা হয়ে রক্ত বাহির হয় ( আরও নানা কারণ আছে!) , তবে অনেক নারী আছে যাদের মিলনের সময় রক্তপাত হয় না... ।
" নেদারল্যান্ডসে, একটি ছোট আকারের গবেষণায় দেখা গেছে যে হাইমেনোপ্লাস্টি করা 19 জন মহিলার মধ্যে 17 জন প্রথম বৈবাহিক মিলনে কোনও রক্তপাত হয় নি " (১)
অর্থাৎ অধিকাংশ মেয়েদের প্রথম মিলনে কোনো রকম রক্তপাত হয় না... ( তবে এই গবেষণার ফলাফল আমি বাংলাদেশের নারীদের জন্য কিছু বিশেষ কারণে প্রযোজ্য মনে করি না...)
এরকম নানান গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত যে অনেক ভার্জিন নারীর প্রথম মিলনে কোনো রকম রক্তপাত হয় না। অর্থাৎ বাসর রাতে মিলনে নারীর রক্তপাত না হলে সে ভার্জিন না এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ছাড়া কিছুই না.....।
আমি তো বেশি অবাক হয়েছি একটা ছাগলোর কমেন্ট দেখে।
মালখোরের দাবি " ভার্জিন মেয়েদের ভ্যাজাইনা বলে কখনো গোল হয় না "
এই আবাল এই কথা কয় পেয়েছে? কোনো গবেষণা লতে এরকম কিছু বলা হয় নি, নাকি ওর নানি বলেছে নাকি ওকে এই কথা?
নারীদের যোনিপথের স্বাভাবিক আকৃতি সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, বরং এটি বাঁকা (কিছুটা বাক্র বা H-আকৃতির), খাঁজযুক্ত এবং নমনীয় মাংসপেশী-সমৃদ্ধ নালী। এর সামনের অংশ সরু এবং জরায়ুমুখের দিকে চওড়া হয়ে যায় (২)
অর্থাৎ এমনিতেও নারীদের যোনি একেবারে গোলকার না, আর এই কথাটা নারীরের মিলনের আগে ও পরের দু - যোনি অবস্থার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তারপরে কমেন্টকারী প্রতম প্যারাতে যত বকবক করেছে সেগুলোও বকওয়াস, তার ওসব কথা একটা ( সমাজে কথিত) নন - ভার্জিন মেয়ের ক্ষেত্রও প্রযোজ্য, অর্থাৎ কোনো মেয়ে প্রথম মিলনও যদি করে এবং তার সতীচ্ছদ হয় তাও ওরকমটা থাকবে আর ওটা স্বাভাবিক । তাই এই ফর্মুলার মাধ্যমে যদি কেও ( কথিত) ভার্জিনিটি টেস্ট করতে চাই তাহলে সে পাগল বৈ কিছুই না.... ।
তারপর আরও বলছে যে " যারা ২-৩ বার সহবাস করেছে তাদের যোনিপথ বলে গোল হয়ে থাকে, আর যোনি দেখতে জিগজাগ হয়ে থাকে এবং লিবিয়া মানইরা একে অপরের সাথে লেখে থাকে না... "
এটা সম্পূর্ণ ফালতু কথা, এই কথার কোনো প্রমাণ নেই।
আসলে আমাদের সমাজের এসব মাথামোটা পোলাপানগুলো সারাদিন চটি + নীল ছবি দেখার কারণে ভ্যাজাইনা, ভার্জিনিটি এসব মিয়ে চরম ফ্যান্টাসিতে থাকে। এসব ফ্যান্টাসিতে থাকা পোলাপান মনে করে যে নারীর ( কথিত) ভার্জিনিটি শুধু সহবাসে ফেটে যায় এর পিছে অন্য কোনো কারণ নেই.... যদি এই ভুল প্রমাণ হয়েছে (৩)
সবশেষে একটা কথা বলি আপনার স্ত্রী ভার্জিন নাকি নন ভার্জিন এটা টেস্ট করার কোনো বৈজ্ঞানিক উপায় নেই (৪)
শুধু একটা উপায় ছাড়া আর তা হলো যদি আপনার তার স্ত্রী নিজে সত্যি কথা বলে আপনাকে..... ।
সব কথার শেষ কথা এই আবাল কমেন্টে যা বলেছে তা সম্পূর্ণ আজগুবি আর গাজাখুরি কথা, এরকম কোনো পদ্ধতি নেই যা শিওর দিয়ে বলবে " নারীটা ভার্জিন নাকি নন - ভার্জিন "
অতএব এসব ফ্যান্টাসি থেকে দূরে থাকুন....
(১)
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC9306936/
(২)
https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BF
(৩)
https://www.fact-watch.org/virginity-testing/
(৪)
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC7042604/
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।