আজকে একটি গবেষণা পড়লাম। সেটির নাম হলো: "Sperm storage causes sperm senescence in human and non-human animals" (মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে শুক্রাণু জমা রাখার ফলে শুক্রাণুর বার্ধক্য বা গুণগত মান হ্রাস পায়)।
এটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা যা সম্প্রতি RoyalSocietypublishing.org জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা পেপারটা দীর্ঘ হওয়ার কারণে আমি নিচে এই গবেষণার মূল বিষয়গুলো সহজভাবে বুঝিয়ে বলিয়ে দিচ্ছি , আর হ্যা আমি নিচে গবেষণার লিংক দিয়ে দিব যাতে আপনারা বিস্তারিত পড়ে নিতে পারেন.....
তো চলুন শুরু করা যাক -
১. মূল কথা (Main Idea)
সাধারণত মনে করা হয় যে, অনেকদিন বীর্য ধরে রাখলে বা যৌন মিলনে বিরতি (Abstinence) দিলে শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই গবেষণা বলছে উল্টো কথা। গবেষকরা দেখেছেন, শুক্রাণু যত বেশি সময় অণ্ডকোষে (বা শরীরে) জমা থাকে, এর গুণগত মান তত দ্রুত কমতে থাকে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'Post-meiotic Sperm Senescence' (PMSS) বা শুক্রাণুর বার্ধক্য।
২. গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
গবেষকরা ১১৫টি মানুষের ওপর করা স্টাডি এবং ৫৬টি প্রাণীর ওপর করা স্টাডি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন আর এর মূল পয়েন্ট গুলো হলো -
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস: শুক্রাণু অনেকদিন জমা থাকলে তাতে 'অক্সিডেটিভ স্ট্রেস' বেড়ে যায়, যা শুক্রাণুর কোষের ক্ষতি করে।
DNA ড্যামেজ: দীর্ঘ বিরতির ফলে শুক্রাণুর ভেতরের DNA ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সক্ষমতা হ্রাস: জমা থাকা শুক্রাণুর সাঁতার কাটার ক্ষমতা (Motility) এবং বেঁচে থাকার ক্ষমতা (Viability) কমে যায়।
ভ্রূণের ওপর প্রভাব: যদি অনেকদিন জমা থাকা শুক্রাণু দিয়ে ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়, তবে ভ্রূণের মান খারাপ হতে পারে বা গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকতে পারে।
অর্থাৎ যারা শরীলে দীর্ঘ সময় ধরে শুক্রাণু জমিয়ে রাখে যেমন এক শ্রেণির সন্ন্যাসী সহ আরও অনেকে তাদের শুক্রাণুর উপর এই প্রভাবগুলো পরে।
৩. কেন এমন হয়?
অন্যান্য কোষের তুলনায় শুক্রাণু অনেক বেশি সংবেদনশীল। এদের নিজেদের মেরামত করার ক্ষমতা খুব কম এবং এদের সাইটোপ্লাজমও খুব অল্প। ফলে জমা থাকাকালীন এরা এদের শক্তি দ্রুত খরচ করে ফেলে এবং বাইরের পরিবেশগত চাপে (যেমন তাপ বা স্ট্রেস) দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
৪. বাস্তব জীবনে এর গুরুত্ব (Implications)
এই গবেষণার ফলাফল বর্তমানের অনেক চিকিৎসা পদ্ধতির ধারণা বদলে দিতে পারে, যেমন -
WHO গাইডলাইন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সাধারণত বীর্য পরীক্ষার আগে ২ থেকে ৭ দিন বিরতি নিতে বলে। এই গবেষণা বলছে, ৭ দিন অনেক বেশি সময়, যা শুক্রাণুর মান কমিয়ে দিতে পারে।
ফার্টিলিটি ক্লিনিক: যারা সন্তান নিতে সমস্যায় ভুগছেন (IVF বা স্বাভাবিকভাবে), তাদের জন্য দীর্ঘ সময় বিরতি নেওয়ার চেয়ে নিয়মিত বা ঘনঘন বীর্যপাত (Ejaculation) করা শুক্রাণুর মান ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তো আমরা পুরো গবেষণাটা পড়ে যে বিষয়টা বুঝতে পারি তা হলো যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটা কুসংস্কার যেখানে বলা হয় যে পুরুষ শরীলে শুক্রাণু জমিয়ে রাখলে তা শক্তিশালী হয় এবং যারা বেশি মাস্টারবেট বা ইনকোর্স করে না তারা সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারে এবং এরকমও আরও নানান আজগুবি বিশ্বাসের ভিত্তি সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে এই গবেষণা দ্বারা এটা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে যে সমাজে যে সন্ন্যাসী প্রথা বা আত্মসংযমের কথা বলা হয় সেটা একটা ভ্রান্ততা বৈ কিছুই না...... । গবেষকদের মতে, সুস্থ ও সতেজ শুক্রাণুর জন্য দীর্ঘ সময় বীর্য আটকে না রেখে নিয়মিত বিরতিতে বীর্যপাত করা বেশি উপকারী।
পুরো বিষয়টা সামারি করে এক কথায় বললে - শুক্রাণু হলো 'তাজা পণ্যের' মতো যত বেশি সময় জমা থাকবে, তত এর মান নষ্ট হবে। তাই সন্তান ধারণের চেষ্টা করার সময় দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার চেয়ে শুক্রাণুকে সতেজ রাখা বেশি জরুরি।
আশা করি বিষয়টা বুঝেছেন
[ পেপার লিংক-
https://royalsocietypublishing.org/rspb/article/293/2067/20253181/481018/Sperm-storage-causes-sperm-senescence-in-human-and?fbclid=IwRlRTSAQ08AdleHRuA2FlbQIxMQBzcnRjBmFwcF9pZAo2NjI4NTY4Mzc5AAEeP99OkrZYzQj6N-XTjorRo4wGvEpTHWk3urou_wUW9pivTk8uj3m_eCI1fYc_aem_tyDpjkWermtgwFVWeHknIQ ]
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।