#শর্ট_কাউন্টার_পোস্ট_by_muslim
সিরিজ পর্ব-৬৫
মাযহাব কি বিভক্ত সৃষ্টি করে?
একটা সমুদ্রের যেমন অনেক নদী থাকে সে রকম ইসলাম নামক সমুদ্রের অনেক ছোট বড় নদী আছে, এর মধ্যে প্রধান চার নদী( মাযহাব) হলো হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি, হাম্বলী
সমুদ্রের পানি সবটুকু যেন সোজা নদীর ভিতর প্রবেশ না করে তাই বাঁধ দেওয়া হয়। ঠিক এরকম করে সমুদ্রের চার নদীতে চারটা বাধ আছে, এই বাধগুলো হলো ইমাম হানাফি, মালেকি হাম্বলি ও শাফেয়ি । এই বাঁধ করা চার নদীর দু- পাশে আমরা মুসলিমরা বসবাস করি আর এই নদীর পানি আরোহন করি ( ফতোয়া গ্রহণ করি) সমুদ্রের পানিতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে আর সেই খনিজ গুলো মানুষ এর ক্ষেত্র বিশেষ আলাদা আলাদা। কারো হয় তো খনিজ চাই দেহে বেশি কারো বা কম। এই চার নদীতে যদি একই সাথে সমান ভাগে সব খনিজ আসা শুরু করে তাহলে দেখা যাবে যে মানুষ প্রয়োজনের থেকে খনিজ দেহে বেশি পেয়ে যাচ্ছে যা তার জন্য ক্ষতিকর। ঠিক একই রকম ভাবে সব মুসলিম এর জ্ঞান ধারন ক্ষমতা এক না । কেও বেশি জানে কেও কম। বিশাল জ্ঞান সমুদ্রের সব জ্ঞান এক সাথে নিতে গেলে মাথা নষ্ট হয়ে যাবে, তাই দেওয়া হলো নদীতে চার বাধ, যেন সমুদ্র থেকে অল্প পরিমাণ বিশুদ্ধ খনিজ আসে+ পানি, আর ওই খনিজের পানি দিয়ে যার যতটুকু দরকার গ্রহণ করে। চার ইমাম হলো সেই চার বাধ যারা স্বতন্র ভাবে মাসআলাগুলো সারিবদ্ধ করছে আর মানুষ সেগুলো ফলো করছে।
নদী চারটা হলেও কিন্তু পানি আসছে এক সমুদ্র থেকে ওই রকম ভাবে মাযহাব প্রধানত চারটা হলেও এই চার মাযহাবের মূলে রয়েছে রাসূল সাঃ। তো দেখা যাচ্ছে যে যেটাকে আমরা আলাদা ভাগ ভাবি সেটা আসলে আলাদা ভাগ না বরং এক সমুদ্রের বহু( আপনি যে নদীতেই চলুন না সমুদ্র / রাসূল সাঃ কে পেয়ে যাবেন)
নদী আর এই নদীর দু- পাশে বসবাস করছে অবেক মানুষ, যার যতটুকু প্রয়োজন সেই নদীর থেকে আরোহন করছে । সবার বাড়ি সমুদ্র উপকূলে না সমুদ্রের থেকে দূরে। সবাই নিজ বাড়ি থেকে সমুদ্রে গিয়ে সেই পানি ( জ্ঞান / ফতোয়া) আহরণ নাও করতে পারে, তাই সমুদ্র নিজেকে চার নদীতে( মাযহাবে) বিভক্ত করে স্থলে ঢুকিয়ে দিলো। আর সেই সমুদ্র থেকে চার নদী ( মাযহাব) পানি নিয়ে সবাইকে দিতে লাগলো ( ফতোয়া) । তো আমরা দেখতে পাচ্ছি যে চার মাযহাব ইসলামের বাহিরে কোনো বিষয় না বরং ভিতরের বিষয়। চারটার ( নদী/ মাযহাব) কালেকশন রাসূল সাঃ( সমুদ্র ) এর সাথে। এখন আসি কথিত আহলে হাদীসদের ব্যাপারে। আপনারা দেখবেন যে নদীতে জোয়ার উঠে আর সেই জোয়ার এর পানি পাশে গিয়ে কোনো গর্ত থাকলে সেখানে ভরাট হয়। আহলে হাদীসরা সেই নদীর পাশে থাকা গর্ত এর মতো। যারা নদী থেকে সামান্য পানি ( জ্ঞান ) পেয়েই মনে করে যে সব পানি ( জ্ঞান ) তাদের কাছে। যুগ যুগ ধরে তারাও সেই নদীর ( মাযহাব) এর পানি ( জ্ঞান / ফতোয়া) দিয়ে চলছে কিন্তু হঠাৎ করে তারা মনে করা শুরু করেছে যে তারা সব পানির উৎস ( জ্ঞান) পেয়ে গেছে। আর এই মনে করাটাই তাদের পথভ্রষ্ট করে দিছে কারণ সে যেটা না সেটা নিজেকে মনে করে সামান্য পানি ( জ্ঞান ) নিয়ে সব সব জায়গায় পানি ( জ্ঞান) দেওয়া শুরু করছে। সব পানি বিশুদ্ধ হয় না বরং পানির সাথে কাদামাটির বালুও থাকে। তারা আসলে মানুষকে কাদামাটি খাওয়াচ্ছে আর মানুষ ভাবছে বিশুদ্ধ পানি ( জ্ঞান ) পান ( জ্ঞান আহরণ) করছে। এই হলো আহলে হাদীসের অবস্থা । যারা মাযহাব নাম নদীর পাশে থেকেও বলে মাযহাব মানি না( নদীর পানি পাই না) তবে তারা কোনো না কোনোভাবে কিন্তু মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত । আমি জানি না কতটুকু আপনাদের বুঝাতে পেরেছি তবে আশা করি কিছু হলেও বুঝেছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো রাসূল সাঃ এর যুগ থেকে দুটো দল চলে আসছে। একদল মুজতাহিদ আরেক দল মুকাল্লিদ । যারা কোরআন সুন্নাহ এর উপর গভীর জ্ঞান রাখে এবং এগুলোর গভীর থেকে মাসআলা বাহির করতে পারে ইজতিহাদ এর মাধ্যমে তারা মুজতাহিদ ইমাম আর যারা এসব পারে না বা এসব বুঝার ক্ষমতা নেই তারা মুকাল্লিদ। আর একজন মুকাল্লিদ এর জন্য মুজতাহিদ এর অনুসরণ করার কথা কোরআন বলেছে, আল্লাহ বলেন " না জানলে ( যারা জানে না; মানে মুকাল্লিদ) বিজ্ঞ ( যারা জানে ; মুজতাহিদ) কে জিগ্যেস কর "( নাহল-৪৩) আর এই আয়াত থেকে সুন্দর ভাবে বুঝতে পারি যে দুটো দল সব সময় বিদ্যমান
১. মুজতাহিদ
২. মুকাল্লিদ
এখন যারা বলে মাযহাব ( মাযহাব মানে মত ; মুজতাহিদ ইজতিহাদ করে যে মত প্রকাশ করেচে তাই মাযহাব) মানা হারাম, কুফরি ইত্যাদি ইত্যাদি তারা প্রকাশ্যে কুফরি করল। মুয়াজকে যখন ইয়েমে পাঠানো হয় তখন তাকে বলা হয় তুমি কিভাবে সমাধান করবে? তখন মুয়াজ ইবনে জাবাল বলেন কোরআন দিয়ে, রাসূল সাঃ বললেন কোরআনে না পেলে? মুয়াজ বললেন সুন্নাহ দিয়ে, তখন আবার বললেন সুন্নাহতে না পেলে? তখন মুয়াজ বললেন " আমি উদ্ভাবন বা ইজতিহাদ করব " আর এ কথা শোনে রাসূল সাঃ খুশি হলেন..... ( তিরমিজি-১৩২৭ ) তো এই হাদীস থেকে আমরা তিনটা জিনিস এর দলীল পাই
১. ইজতিহাদ
২. মুজতাহিদ কে মান্য করার ( বা তার মাযহাব ফলো করার)
৩. মুকাল্লিদ মুজতাহিদকে ফলো করার
আশা করি মাযহাব নিয়ে আর উল্টা- উল্টা কথা বলবেন না। যতটুকু সম্ভব সংক্ষিপ্ত আকারে বুজানোর চেষ্টা করলাম। জাযাকাল্লাহ খাইরান। এছাড়াও
আপনি কি জানেন সিহাহ সিত্তাহ হাদীস এর লেখকগন কে কোন মাযহাব ফলো করতেন? না জানলে জেনে নিন-
ইমাম বুখারী- শাফেয়ী ( আল ইনসাফ-৬৭)
ইমাম মুসলিম ( শাফেয়ী- আল হিত্তাহ- ১৮৬)
ইমাম নাসায়ী ও ইমাম দাউদ এই দু- ইমাম ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের ( ফয়জুল বারী-১/৫৮ ; আবজাদুল উলুম-৮১০ ; ইলাউল মুয়াক্কিয়ীন-১/২৩৬)
ইমাম তিরমিজি হানাফি / হাম্বলী ( আল ইনসাফ-৭৯)
ইমাম ইবনে মাজাহ শাফেয়ী ( ফয়জুল বারী-১/৫৮)
[ সংগৃহীত রেফারেন্স ; উল্লেখ্য যে ইমাম বুখারী এবং তিরমিজি তারা দু - জনে মুজতাহিদ পর্যায়ের ছিলেন তবুও তারা উক্ত মাযহাবগুলোর উসূল ফলো করতেন বা আকৃষ্ট ছিলেন ]
ওরা কারা যারা বলে মাযহাব মানা হারাম, বেদআত ইত্যাদি ইত্যাদি । তারা যে সিহাহ সিত্তাহ হাদীস নিয়ে লাফালাফি করে তারাও মাযহাবি ছিল। শুধু তারা কেন যুগের সব শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসরাই কোনো না কোনো মাযহাব ফলো করত। মিশকাত শরীফ এর প্রণেতা, ইমাম নববী, ইমাম ত্বহাবী এরাও ছিল মাযহাবি। এমনকি আহলে হাদীসদের কথিত আদি বাব ইবনে তাইয়িমাও হাম্বলী ছিলেন ( দেখুনঃ আল- হিত্তাহ-১৬৮)। এখন আমার প্রশ্ন মাযহাব মানা যদি মূর্খামি + বেদআতি হয় তাহলে এরা সবাই ভুল ছিল,??? আর বর্তমানে সব আহলে হাদীসরাই সহীহ??
লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।