আপনি কি হকের উপর আছেন?
প্রথমে এই হাদীসটা দেখুন -
৪২৫২। সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ (অথবা) আমার রব পৃথিবীকে আমার জন্য সংকুচিত করে দিয়েছেন এবং আমাকে এর পূর্ব ও পশ্চিম সীমানা দেখানো হয়েছে। আর যুতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছে, ততটুকুতে অচিরেই আমার উম্মাতের রাজত্ব বিস্তার লাভ করবে। আমাকে লাল ও সাদা (স্বর্ণ ও রূপার) দু’টি ধনভান্ডার দেয়া হয়েছে। আর আমি আমার মহান প্রতিপালকের নিকট আমার উম্মাতের জন্য এই কথার আবেদন করছি যে, তিনি তাদের সবাইকে যেন দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না করেন এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত কোনো শত্রু যেন তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে না পারে যারা তাদের ধ্বংস করে দিবে।
নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যা ফায়সালা করি, তা বাতিল হয় না। তবে আমি তাদের সবাইকে একসঙ্গে দুর্ভিক্ষে ধ্বংস করবো না এবং তাদের নিজেদের ছাড়া দিকবিদিক থেকে আগত তাদের সমূলে বিনাশকারী বিধর্মী শত্রুকে তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে দিবো না, তবে তাদের কতক অপরদের ধ্বংস করবে এবং কতক অপরাধে বন্দী করবে।
আর আমি আমার উম্মাতের পথভ্রষ্ট নেতাদের ব্যাপারে শঙ্কিত। আমার উম্মত যখন পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হবে, তখন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা বিরত হবে না। আর আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক মুশরিকদের সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আমার উম্মাতের কতিপয় গোত্র মূর্তি পূজায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। অবিলম্বে আমার উম্মাতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নবী বলে দাবী করবে। অথচ আমিই সর্বশেষ নবী এবং আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না। তবে আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা সত্যের উপর অটল থাকবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, এমন কি এ অবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) এসে যাবে।
( আবু দাউদ -৪২৫২)
এই হাদীস থেকে আমরা অনেক বিষয় জানতে ও বুঝতে পারি।
এই হাদীসের প্রথম দিকে দেখতে পারি যে -
" হে মুহাম্মাদ! আমি যা ফায়সালা করি, তা বাতিল হয় না। তবে আমি তাদের সবাইকে একসঙ্গে দুর্ভিক্ষে ধ্বংস করবো না এবং তাদের নিজেদের ছাড়া দিকবিদিক থেকে আগত তাদের সমূলে বিনাশকারী বিধর্মী শত্রুকে তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে দিবো না, তবে তাদের কতক অপরদের ধ্বংস করবে এবং কতক অপরাধে বন্দী করবে "
এখান থেকে আমরা যেটা জানতে পারি সেটা হলো, " মুসলিমদের উপর কখনো বিধর্মী ( অমুসলিমরা) বিজয় লাভ করবে না। তাই আমরা গাজা, আরাকান, কাশ্মীর, উইঘুর সহ সকল জায়গায় দেখতে পায় যে মুসলিমদের উপর দুনিয়ার সকল বাতিল তাগুতেরা একত্র হয়ে ধ্বংস করার জন্য উঠে পরে লেগেছে কিন্তু তারা আমাদের ধ্বংস করতে পারছে না। ফিলিস্তিনের দিকে তাকান। ইজরায়েল তাদের উপর কি পরিমান আক্রমণ করছে, কিন্তু এত আক্রমণ সহ্য করেও তারা টিকে আছে। সাময়িক ভাবে আপনার মনে হতে পারে যে ইজরায়েল ফিলিস্তিন এর উপর বিজয় লাভ করেছে কিন্তু বাস্তবে ফিলিস্তিন তার বীরগাথা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফিলিস্তিনের উপর যে পরিমাণ আক্রমণ করা হচ্ছে সে আক্রমণ মুসলিম ব্যতিত অন্য কোনো জাতির উপর করলে তাদের নাম নিশান মিটে যাবে, আর ইতিহাসেরেও এর অনেক প্রমাণ আছে..... ।
অতীতের তাতারীদের কথাই চিন্তা করুন। দুনিয়া থেকে তাতারীরা মুসলিমদের নাম নিশান প্রায় মিটিয়ে দিয়েছিল কিন্তু আজ বর্তমানে তাতারীদের নাম নিশানও নেই, বিপরীতে আজ দুনিয়ার তাতারীদের সময় থেকেও কয়েকগুন বেশি মুসলিম।
শত্রুরা আমাদের ( মুসলিমদের) ধ্বংস করার কত চেষ্টাই না করেছে সেই খাইরুল কুরন থেকে বর্তমান পযন্ত , কিন্তু বিজয় ইতিহাসে বার বার গাজী ও শহীদ হিসাবে আমাদের নামটাই লেখা হয়েছে। আর এরকমটাই হবে কেননা রাসূল সাঃ এর হাদীসেই আছে শত্রু কখনো আমাদের উপর বিজয় হবে না ( ইনশাআল্লাহ ) । আর এই কারণেই দুনিয়ার সকল বাতিল ফেরকা এক হয়েও আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না.....
এই হাদীসে আরও বলা হয়েছে যে -
"এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত কোনো শত্রু যেন তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে না পারে "
রাসূল সাঃ এর এই কথাও কিন্তু ইতিহাসের আলোকে বার বার সত্য প্রমাণ হয়েছে। আমাদের বর্তমান মুসলিমদের কথা চিন্তা করুন। আজ আমরা নানা দল মতে বিভক্ত, মানহাজ, মাযহাব এর নাম করে এক দল আরপক দলকে কাফের মুরতাদ বলে ঘোষণা দিয়ে থাকি। একদল আরেক দলকে কিতাল করি। এক মুসলিম দেশ আরেক মুসলিম দেশকে আক্রমণ করে। নিজেরাই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লিপ্ত হয়েছি । রাসূল সাঃ এর কথা মতো আমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ফেতনাতে লিপ্ত হয়ে এক দল আরেক দলের উপর বিজয় লাভ করছি যদিও তা আমাদের পরাজয়...... ।
হাদীসে আরও বলা হয়েছে যে -
" আর আমি আমার উম্মাতের পথভ্রষ্ট নেতাদের ব্যাপারে শঙ্কিত। আমার উম্মত যখন পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হবে, তখন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা বিরত হবে না। আর আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক মুশরিকদের সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আমার উম্মাতের কতিপয় গোত্র মূর্তি পূজায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না "
যুগ যুগ ধরে কিন্তু আমরা এক মুসলিম আরেক মুসলিমের সাথে ঠিকই যুদ্ধ করে যাচ্ছি এবং এই যুদ্ধ কিয়ামত পযন্ত চলবে যেমনটা রাসূল সাঃ বলেছেন।
বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্চি যে আমাদের মুসলিম নেতারা কিভাবে মুশরিকদের সাথে মিত্রতা করছে যেখানে কোরআন তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছে, এই সম্পর্কে আল্লাহ বলেন -
" হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু (আউলিয়া) হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধু বানাবে, সে অবশ্যই তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" (সূরা আল-মায়েদা -৫১)
আজ আমাদের মুসলিম নেতারা কূটনীতি, রাজনীতির নামে এসব ইহুদি নাসারার সাথে মিত্রতা গড়ে তুলছে যা আমরা নিজ চোখেই দেখতে পাচ্ছি...... ।
রাসূল হাদীসে আরও বলেছেন যে " আমাদের এক অংশ মূর্তি পূজাতে লিপ্ত হবে " আর আমরা বাস্তবেই দেখতে পাচ্ছি যে মুসলিমরা আজ মূর্তি পূজাতেও লিপ্ত হচ্ছে । আজ মুসলিমরা হিন্দুদের দূর্গা পূজা সরস্বতী পূজাতে যাচ্ছে তাদের পূজার শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আজ মুসলিমরা শহীদ মিনার নামক ভাষ্কর্য দাঁড় করিয়ে কথিত শহীদের স্মরণ করার নামে সেখানে হিন্দুদের মতো ফুল দিয়ে তাদের স্মরন করছে যারা মূর্তি পূজা রীতির নামান্তর। মুসলিমদের বৃহৎ দল আজ মাজার পূজাতে লিপ্ত হয়েছে.... । এসবের রাসূল সাঃ এর বলা মূর্তি পূজার সামিল এতে কোনো সন্দেহ নেই .... .।
রাসূল সাঃ আরও বলেন " এই উম্মতে ভন্ড নবীর আবির্ভাব হবে কিন্তু তিনি ( রাসূল সাঃ) শেষ নবী! "
আজ আমরা মুসলিম নামে এক বাতিল ফেরকা দেখতে পাচ্ছি যাদের শেষ নবী গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নামক এক কাফের। যুগে যুগে এরকম আরও ভন্ড নবীর আবির্ভাব হয়েছে।
সর্বশেষ রাসূল সাঃ যে কথাটা বলেছেন তা হলো -
" যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, এমন কি এ অবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) এসে যাবে"
অর্থাৎ এই হাদীসে বর্ণিত যেসব ফেতনার ( যেমন মূর্তি পূজা) কথা বলা হয়েছে তার বিরোধীতা করবে তারাই হকপ্রাপ্ত দল।
এখন আপনি নিজেই যাচাই করুন আপনি হকের উপর আছেন নাকি বাতিলের উপর.....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।