#মহীয়সী_এক_মুসলিম_নারীর_জীবন_কথা
সিরিজ পর্ব-১
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
খলিফা হারুনুর রশীদ এর নাম তো সবাই জানেন। ইতিহাসে তাকে মহান শাসক হিসাবে গণ্য করা হয়। আপনারা কি জানেন তার স্ত্রী কে? অথবা তার নাম কি? তার স্ত্রীর নাম হলো আমাতুল আজিজ। তবে ইতিহাসে তাকে সবাই জুবাইদা নামে চিনে। হারুনুর রশীদ এর চেয়েও বড় দানবীর তিনি। তার সময়ে ( ৮ ম শতাব্দী ) তে ১৪০০ কিলোমিটার পানির সুড়ঙ্গ খনন করেন মাটির নিছ দিয়ে। একটা শাখা খনন করা হয় ওয়াদি নোমান থেকে আরাফাত ময়দান পযন্ত । আরেকটা খনন করা হয় হুনাইন থেকে মক্কা পযন্ত । ছোট একটা ঘটনা বলি। প্রাসাদে একজন আগুন্তক আসলেন, তিনি একটা ঘড়ে বসলেন। পদ্মার ওপার থেকে এক নারী সালাম দিলেন আগুন্তক উত্তর নিলেন। পরে পর্দার উপারে থাকা নারীটা বললেন যে খনন কাজ কতদূর? আগুন্তক বললেন ' ওয়াদি নোমান থেকে আরাফাত ময়দান পযন্ত খনন শেষ একন হুনাইন থেকে মক্কা পযন্ত করা হবে '। কিন্তু এখানে একটা সমস্যা আছে! প্রচুর অর্থ খরচ হবে। র্দার আড়াল থেকে নারীটা বললেন করচ নিয়ে ভাববেন না দরার হলে শ্রমিকদের হাতুড়ির পটতিটি পাথরের আঘাতের জন্য এক দেনার করে দিবো। আগুন্তকঃ বললেন ' করছ এক শাখাতেই ১০০ লক্ষ দেনার হয়েচে এটাতে আরও বেশি লাগবে! । পর্দার আড়াল থেকে বললেন মহীয়সী নারীটা ' লাগলে লাগুগ মহাহিসাব ( হাশরের ময়দান) এর জন্য এই দুনিয়ার সল্প টাকার হিসাব ছাড়তে রাজি আছি। তো আগুন্তকঃ কথা বলা শেষ করে চলে গেলেন। অনেক দিন পর হুনাইন থেকে মক্কা পযন্ত পানির সেই সুড়ঙ্গ পানির তল দিয়ে খনন করা শেষ হলো যার খরচ সেই সময়ে ১৭ লক্ষ দিনার ( দিনার সোনার কয়েন, চিন্তা করুন আমাদের বাংলাতে ১৪ শতাব্দীতে ১ টাকাতে আট মুন চাল পাওয়া যেতো। আর দিনার হলো সেই সোনার টাকার কয়েন, তাহলে সেই সময় তার কত মূল্য ছিল? ভাবা যায়!) ওই মহীয়সী নারীটা ছিলেন হারনুর রশীদ এর স্ত্রী জুবাইদা। তিনি হজে গিয়ে দেখেন যে হাজীরা পানির জন্য কষ্ট করছে। মক্কাতে তখন জমজম কূপ ছাড়া কোনো পানির উৎস ছিল না। তাই তিনি মাটির নিছ দিয়ে টার্নেল করে দেন। বলতে গেলে মানব সভ্যতাতে ওটাই ছিল প্রথম আধুনিক টানেল যা আজ থেকে ১২০০ বছর আগে তৈরি তাও আবার বর্তমানের মতো কোনো টেকনোলজি ছিল না। মাটির তল দিয়ে খনন করার কারণ হলো ' মক্কার মাটি শুষ্ক আর উত্তাপ এর কারণে শুকিয়ে যায় তাই নিছ দিয়ে খনন করেছে আর কিছু দূর দূর স্টেশন তৈরি করেছে। সমুদ্র থেকে পানির লাইন না নিয়ে বিভিন্ন বাহারের ঝড়না থেকে নিয়েছে কারণ সমুদ্রের পানি নুনা আর পাহাড়ের ঝর্ণার পানি মিঠা। তিনি ৬০ দিনের এক সফরে ( হজে) গিয়ে পাঁচ কোটি চল্লিশ লক্ষ দিনার গরীব মিসকিনকে দান করেন। তিনি ছিলেন যেমন দানবীর তেমন চিলেন জ্ঞানী , ধার্মিক একজন মহীয়সী নারী। জুবাইদা এর সাধান তো দুটো অর্থ করা হয়
১. নরম/ মাখনের মতো নরম
২. উচ্চ পাহাড়
তার নামের অর্থের সাথে তার কর্মের পুরো মিল। পাহাড়ের মতো বড় মন ছিল তার, মাখনের মতো নরম হৃদয় ছিল তার। ইতিহাসে তাঁর পাহাড়ের মতো দানশীলতা মন আর মাখনের মতো নরম হৃদয়ের জন্য ইতিহাসে পরিচিত হয়ে আছেন। এই হলো আমাদের মুসলিম নারীদের গৌরবগাঁথা জীবন কাহিনী। আফসোস আমরা এদের মতো নারীকে চিনি না।
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।