#মহীয়সী_এক_মুসলিম_নারীর_জীবন_কথা
সিরিজ পর্ব-২
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আচ্ছা আপনাদের জন্য প্রশ্ন করি ' আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শহীদ বা স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেওয়া পুরুষ ব্যাক্তিটিকে?? উত্তরে হয় তো অনেকেই বলবেন শহীদ তিতুমীর ( আসল নাম ' সৈয়দ মীর নিসার আলি, তার নামকে বিকৃত করেছে ব্রিটিশরা মূলত ; মনে হয়) । এখন যদি প্রশ্ন করি প্রথম নারী স্বাধীনতাকামী কে?? তাহলে হয় তো ৯০% লোক নাম বলতে পারবেন না। অনেকে হয় তো বেগম রোকেয়ার কথা বলবেন। তবে সঠিক উত্তর হলো ' নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধূরাণী '। যিনি কিনা বেগম রোকেয়ারও ৪৬ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। নারী জাগরণের প্রথম অগ্রদূত হলেন তিনি বেগম রোকেয়া না ( বেগম রোকেয়া একজন সেক্যুলার আর ফয়জুন্নেছা ছিল ধার্মিক তাই তাকে প্রথম মুসলিম হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না ; মনে হয়) তিনি শিক্ষার প্রসার ও সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের জন্য বৃটিশ মহারাণী ভিক্টোরিয়া কৃর্তক ' নওয়াব ' উপাধি লাভ করেন। দক্ষিণ - পূর্ব এশিয়াতে একমাত্র নারী( বিশেষ করে মুসকিম নারী) হিসাবে এই স্বীকৃতি লাভ করেন। ১৮৩৪ এতে কুমিল্লা জেলাতে জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী জমিদার নারী। তার পিতা ছিলেন জমিদার। পিতার অর্থ সম্পত্তির থাকার জন্য তিনি সেগুলো মন খুলে দান করেন। তিনি নারীদের ইংরেজি শিক্ষার জন্য বিশ্বিদ্যালয় তৈরি করার মতোও দুঃসাহস দেখিয়ে ছিলেন ( সেই সময় নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ ছিল) । ছোট বেলায় কোনো প্রাষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন নি কিন্তু নিজ দক্ষতাতে, বাংলা, ফার্সি ও সংস্কৃত ভাষাতে পারদর্শীতা অর্জন করেন। তিনি নিজে প্রাষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও সর্বপ্রথম ভারতীয় উপমহাদেশে ( বিশেষ করে বাংলাদেশে) নারীদের প্রাটিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন নারীরা পিছিয়ে থাকলে সমাজ পিছিয়ে থাকবে। তিনি নারীদের চিকিৎসা সেবার জন্য ' ফয়জুন্নেছা ওয়ার্ড ' প্রতিষ্ঠা করেন সেই সময়। কুমিল্লাতে নারী শিক্ষার জন্য ' ফয়জুন্নেছা উচ্চ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয় '। এছাড়াও মসজিদ, পুল, ব্রিজ তিনি তৈরি করেন। তার জীবনে তিনি একজন দানশীল নারী হিসাবে পরিচিত লাভ করেন। ফয়জুন্নেছা ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে ' জমিদার খেতাব ' প্রাপ্ত প্রথম মুসলিম নারী। কিন্তু অতি আফসোসের সাথে বলতে হচ্ছে যে তাকে কোনো রাষ্ট্রীও সম্মাননা দেওয়া হয় নি। যা অতি দুঃখের বিষয়। সমাজে এই নারীকে বাঙ্গীদের মধ্যে হাজারে একজনও চিনে নাকি আমার সন্দেহ হয়। জুবাইদার মতো হয় তো এই মহীয়সী নারীকেও অনেক কম মানুষি চিনেন। এই হলো আমার মুসলিম মা- বোনের অবস্থা । যারা আদর্শ হওয়ার কথা, তারা আদর্শ না হয়ে বর্তমান ধর্মহীন নায়েকা, গায়িকা তাদের আইডল হয়।
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।