রমজান_মাসে_মৃত্যু_বরণ_করলে_কি_সব_গুনাহ_বা_কবরের_আজাব_কি_মাফ???
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আমাদের আশে-পাশে অনেক ভিত্তিহীন কথা পাওয়া যায়। যেগুলোর ব্যাপারে কোরআন হাদীস এতে কোনো বক্তব্য আসে নি ; তবুও সেগুলো হাদীস এর কথা হিসাবে প্রচারিত হয়। এরকম একটা কথা হলো
" রমজান মাসে মৃত্যু হলে তার কবরের আজাব ( বা সকল গুনাহ) মাফ করে দেওয়া হবে। অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে সমগ্র হাদীস শাস্ত্র তন্ন তন্ন করে খুজলেও এরকম কোনো হাদীস সহীহ সনদ ও মতন এতে পাওয়া যাবে না যেখানে বলা হয়েছে যে
" রমজান মাসে মৃত্যু বরণ করলে তার কবরের আজাব ও গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে "
তবুও এটা মসজিদে, ওয়াজে ও বিভিন্ন তালিমে এই কথাটা জোড় গলাতে বলা হয়।
এই কথাটি যারা বলে থাকেন, তারা খুব সম্ভবত এই হাদিসের ভিত্তিতে এটা বলেন- ‘আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন রমজান মাস আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৩২৭৭)
কিন্তু এই হাদিসে কবরের আজাব মাফ হওয়ার বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। উপরন্তু এর ব্যাখ্যায় 'ফাতহুল বারি'তে বলা হয়েছে,
জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার মর্ম হচ্ছে- এই মাসে আল্লাহতায়ালা বান্দাকে নেক কাজের তাওফিক দেন, যেমন রোজা, কিয়ামুল লাইল ও অন্যান্য কাজ; পাশাপাশি নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দেন।
কেননা এই নেক কাজগুলো করা আর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা-ই তো জান্নাতে প্রবেশ করা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ।
এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ হজরত আনাস (রা.) এর একটি বক্তব্যকে দলিল হিসেবে পেশ করে থাকেন- ‘আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রমজান মাসে মৃত ব্যক্তি থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হয়।’
কিন্তু এর সনদ নিতান্তই দুর্বল। এটি ইমাম রজব হাম্বলি তার ‘আহলুল কুবুর ওয়া আহওয়ালু আহলিহা ইলান নুশুর’ গ্রন্থে (পৃ. ১০৫) উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এর কোনো সনদ কিংবা হাদিসগ্রন্থের নাম তিনি উল্লেখ করেননি। তাই এটি জাল না জয়িফ কিছুই নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ( প্লেজারিজম)
কেউ কেউ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.)-এর হাদিসটি দলিল হিসেবে পেশ করে থাকেন— ‘রমজান সমাপ্তির সময়ে যার মৃত্যু সংঘটিত হয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’। (হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/২৩) ( সংগৃহীত)
কিন্তু এটি দলিল হিসেবে সঠিক নয়। কারণ প্রথমত এর সনদ নিতান্তই দুর্বল। দ্বিতীয়ত এখানে জান্নাতে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে— কবরের আজাব সংক্রান্ত কিছুই বলা হয়নি। অর্থাৎ এটি সহিহ বুখারির প্রথমোক্ত হাদিসটির মতোই।
তাই এসব বানোয়াট কথা প্রচার থেকে দূরে থাকবেন। এখন হয় তো কেও বলতে পারেন যে
" ফজিলতের হাদীস প্রচার করা জায়েজ হাদীস দুর্বল হলেও"
তো এরকম কথা যারা বলবেন তাদের বলতে চাই যে " এটা আপনাদের মতো মূর্খের বানানো উসূল। এর কোনো ভিত্তি নেই। আর যদি ধরেও নেই যে
" ফজিলতের হাদীস বর্ণনা করা যাবে " তাহলে আমার দুটো কথা আছে এই বিষয়ে
প্রথম কথা
রমজান মাস সম্পর্কিত অনেক হাদীস আছে তো সহীহ হাদীস থাকতে কেন এসব বানোয়াট কথা প্রচার করব। আর " রমজান মাসে মৃত্যু বরণ করলে কবরের আজাব মাফ " এটা কোনো হাদীসও না বরং লোক মুখে প্রচলিত কথা। তাই জাল যঈফ হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। অতএব এটা প্রচার করাও যাবে না
দ্বিতীয় কথা
এটা মোটেও ফজিলত এর সাথে সম্পর্কিত না বরং আকিদা ও ইমান এর সাথে সম্পর্কিত। আর মানুষ যদি এরকম ইমান ধ্বংসকারী থা প্রচার করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত??? । আবার এমনও অনেক লোক আছে যারা বিশেষ কিছু প্রচলিত জাল হাদীসকে সহীহ হাদীস মনে করে তার ফজিলতের উপর ভিত্তি করে নামায রোজা না করে শুধু ওই বিশেষ আমলটা করে। উদাহরণস্বরূপ এই বানোয়াট কথাটা ধরা যাবে। এক শ্রেণির লোক আছে যারা সারা বছর নামায পড়বে না আর শুক্রবারে গিয়ে দোয়া করবে রমজানে যেন মৃত্যু হয়। অতএব এরকম ভিত্তিহীন কথা প্রচার না করাটা সবচেয়ে ভালো।
আশা করি কথা ক্লিয়ার
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
উপস্থাপক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।