#গণতন্ত্র_এক_কুফরি_মতবাদ_ও_ইসলামিক_দৃষ্টিভঙ্গি
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রথমেই একটা কথা বলে রাখি সেটা হলো আপনি গণতন্ত্র করবেন নাকি করবেন না সেটা আপনার ব্যাপার আপনার পাপের বুঝা আমি মোঃ মেহেদী হাসান বহন করব না আর আপনিও আমার পাপের বুঝা বহন করবেন না ( আনআম-১৬৪) আমার কাজ হলো শুদু সত্যটা জানিয়ে দেওয়া। বর্তমানে কিছু জাহেল আছে নিল ইসলামের মতো। যাদের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান শূন্যের কোঠায়। এরা শুধু পারে সাহাবি, তাবেইন ও মহান আলেমদের নিয়ে কটুক্তি করতে। অনেকে তো আবার বিশ্বাসি করতে চাই না গণতন্ত্র হারাম ও কুফরি মতবাদ। তাই আজকে এই বিষয়টা ক্লিয়ার করব গণতন্ত্র কেন ও কিভাবে হারাম।
তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রথমেই একটু শব্দ বিশ্লেষণ করা যাক। বাংলা গণতন্ত্র এর গণ মানে হলো জনগণ বা সাধারণ । পারিভাষিক অর্থে সাধারণ জনগন দ্বারা নির্বাচিত ব্যাক্তির শাসন। গণতন্ত্র এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ডেমোক্রেসি যদিও এটা একটা গ্রিক শব্দ ( তবে ইংরেজি প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহিত হয়) । ডেমোক্রেসি মূলত দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত।
১. ডেমো ( Demos)
২. ক্রেসি ( KHATIA)
ডেমো অর্থ অর্থ সাধারণ মানুষ আর ক্রেসি অর্থ শাসন। দুই শব্দ যুগল এক করলে হয় সাধারণ মানুষ এর শাসন।
অর্থাৎ মানব রচিত শাসন। যে শাসন ব্যবস্থায় মানুষ তার নাম জের আকল ব্যবহার করে সংবিধান তৈরি করবে এবংতার আিন বাস্তবায়ন করবে তাই গণতন্ত্র । এই গণতন্ত্র ব্যবস্থ্যায় সম্পূর্ণ আইন এর ধারক বাহক মানুষ । মানুষ তার নিজ ইচ্ছেতেই সব করবে। কোনো দেশযদি তাই তাহলে গণতন্ত্র এর ব্যবহারে হারাম বস্তু গুলোকেও হালাল করে ফেলবে। উদাহরণস্বরূপ সমকামিতা। আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত এতে যে সমকাবিতা রাষ্টীয় আইন দ্বারা বৈধ সেটা তো সবাই জানেন। মেডিকেল সাইন্স এর মতে এটা সম্পূর্ণ বিকৃত মস্তিষ্কের একটা সমস্যা । সাধারণ বিবেক সম্পূর্ণ মানুষের দৃষ্টিতে সমকামিতা জঘন্য কাজ। তবুও এই সমকামিতাকে গণতন্ত্র এর প্রয়োগে হালাল করা হয়েছে। এরকম ভাবে গণতন্ত্র এর প্রয়োগে হারামকে হালাল ও হালালকে হারাম করে ফেলা হয়। আর এটা হওয়া স্বাভাবিক কারন এর ক্ষমতা থাকে মানুষ এর হাতে ( বিশেষ করে সংসদীয় সদস্যগণের হাতে) । তো আমরা গণতন্ত্র এর মানে সুন্দর করেই বুঝতে পারলাম যে এটার সম্পূর্ণ ক্ষমতা থাকে মানুষের কাছে আর এর আইন প্রণয়ন করে মানুষ স্বয়ং নিজে। এখন দেখি কোরআন আমাদের কি বলে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " একমাত্র হুকুম দেওয়ার মালিক ( অধিকার) সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর জন্য ( সূরা গাফের; আয়াত নং-১২) তিনি আরও বলেন " একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত বিধান দেওয়ার অধিকার কারো নেই ( সূরা ইউসুফ ; আয়াত নং-৪০) তিনি নিজ হুকুমে কাওকে অংশীদার করান না ( সূরা কাহাফ-২৬) আল্লাহ কি হুকুমদাতাদের শ্রেষ্ঠ নন ( সূরা ত্বীন-৮) তারা কি জাহেলিয়াত এর হুকুম চাই?! বিশ্বাসিদের জন্য আল্লাহর চেয়ে উত্তম হুকুমদাতা আর কে ( সূরা মায়েদাহ-৫০) "।
তো আমরা কয়েকটা আয়াত দেখে নিলাম। উক্ত আয়াতগুলো সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে হুকুম ও বিধাণ এই দুই এর মালিক শুধু একমাত্র আল্লাহ । কোনো মানুষ কে আল্লাহ রব্বুল আলামিন কোনো বিধাণ প্রণয়ন করার ক্ষমতা দেন নি এবং কেও হুকুমজারীও করতে পারবে না। অর্থাৎ গণতন্ত্র এর সম্পূর্ণ বিপরূত। গণতন্ত্র বলে সব কিছুর ( বিদান, আেদ, ক্ষমতা ইত্যাদি ইত্যাদি) উৎস মানুষ আর কোরআন বলে এগুলোর উৎস আল্লাহ । এই দুনিয়ার জমিনে শুধু তারই হুকুম চলবে আর বিধাণ তারটাই বাস্তবায়ন হবে। কোনো মন্ত্রী এর আদেশ চলবে না কোনো দল এর প্রণয়ন আইন চলবে না। অতএব গণতন্ত্র নিঃসন্দেহে হারাম ও কুফরি। বর বড় সালাফি আলেমগণ এই বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠ করেছেন যে " গণতন্ত্র হারাম "। এসব আলেমদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে উসাইমিন, আব্দুল্লাহ আল-গুদাইয়্যান, আব্দুল্লাহ কুয়ুদ, আব্দুর রাজ্জাক আফিফি, সৌদি আরবের বয়োজ্যেষ্ঠ আলেমগণঃ গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ আশ-শাইখ, শায়খ আবদুল মুহসিন আল-আবাদ, শায়খ ওয়াসিউল্লাহ আব্বাস ( Hider, James (২০০৭-১০-১২)। "Islamist leader hints at Hamas pull-out from Gaza"। The Times Online। London। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০১-২৮।; Collect by "BD Wikipedia" ) এছাড়াও অনেক জনপ্রিয় ইসলামিক ফতোয়া বোর্ড ফতোয়া হলো গণতন্র হারাম। আমাদের বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামিক মাসিক পত্রিকা হলো মাসিক আত- তাহরিক। এই মাসিক আত- তাহরিক এর ফতোয়া অনুসারেও গণতন্ত্র হারাম।
[ তবে হ্যা বিজ্ঞ উলামায়েগণ ইসলামের স্বাড়থে ভোট প্রদান করে বৈধ বলেছে। তাই ভোট প্রদান করা যাবে। তবে শর্ত হলো ভোট একজন যোগ্য নেতাকে দিতে হবে যে তাগুত এর গোলামি করবে না আর শরিয়ত কঠোরভাবে মানবে এবং কোরআন ও হাদীস দ্বারা রাষ্ট্র গড়বে ]
। তাই যারা গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম কায়েম করতে চাই তাদের দশা মদ খেয়ে মাতাল হওয়া লোকের মতো যারা কিনা মদ খেয়ে মাতলামি করে আবার..... । একটা কথা মনে রাকবেন সব সময় যা হারাম তা হারাম। আর এই হারামকে যদি হারাম হিসাবে না মানেন তাহলে আপনি নিঃসন্দেহে কাফের কাফের কাফের। অতএব এটা থেকে সাবধান।
[ উল্লেখ্য নিল ইসলাম নামে স্টুপিড বলে যে " খলিফা নির্বাচিত হয়েছে গণতন্ত্রের মাধ্যমে " এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। জাহেল মূর্খ গণতন্ত্র কি সেটা হয় তো জানে না আর শূরা কি সেটা তো আরও জানে না। আবু বকর খলিফা নির্বাচিত হয়েছিল শূরা এর মাধ্যমে Not গণতন্ত্র এর মাধ্যমে। ]
তো আশা করি কথা ক্লিয়ার।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।