#পবিত্র_আল_কোরআনে_বিতর্কিত_শব্দ_আইয়াম_এরপ্রকৃত_অর্থ_আসলে_কি???
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
অনেক দিন আগে আমার এক ভার্চুয়ালি ফেইসবুক ফ্রেন্ড আমাকে একটা প্রশ্ন করেছিল যে" আইয়াম" অর্থ যে ছয় টা যুগ ( এরকম কিছু একটা বলেছিল) তা সেটার পক্ষে কি কোনো ভিত্তি আছে? । তো অনেক সময় ভাবতে পারেন যে জাকির নায়েক স্যার প্রথম বলছেন আইয়াম অর্থ ছয়টা দীর্ঘ পর্যায় ( যুগ) । তাই আমরা যুক্তির মাধ্যমে বুঝার চেষ্টা করব যে আইয়াম এর প্রকৃত অর্থ কি আর এর প্রকৃত অর্থ যদি যুগ ( মানে দীর্ঘ সময় হয়) তাহলে এতকাল অনুবাদে কেন দিন শব্দ ব্যবহার করা হলো।
তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রাচীন তাফসীরসহ বিভিন্ন তাফসীরে কোরআনে বর্ণিত আইয়াম শব্দের বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। কেও আইয়াম শব্দের অর্থ করেছে ৬০০০ কাল আবার অন্যান্য মতও পাওয়া যায়। আইয়াম এর অধিকাংশ অর্থ নেওয়া হয়েছে অনিদিষ্ট কাল ( তাফসীরে Not ডিকশনার ) তবে কেও কেও এই অনিদিষ্ট শব্দকে নিদিষ্ট করতে গেছে যোটা তাদের ব্যাক্তিগত ; আর এর জন্য কোরআন কখনো দায়ি থাকবে না। শব্দের ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো যে হিব্রুতে ইয়ম বলতে একটা শব্দ আছে ( ইয়ম শব্দ দ্বারা ২৪ ঘন্টাও বুঝায় আবার অনিদিষ্ট একটা সময় বুঝায়) আর এই ইয়ম এর আরবি সমার্থক হলো আইয়াম। প্রাচীন সময় থেকে ইয়ম বলতে মানুষ ২৪ ঘন্টা থেকে সুদীর্ঘ একটা সময়কালও বুঝত। আর এই শব্দের মাধ্যমে আইয়াম শব্দ গৃহীত হয় আরবিতে। আর রাসূল সাঃ এর আগের আরবীয় সময়কে বলা হতো আইয়ামে জাহিলিয়াত । আইয়াম অর্থ যুগ ( একটা দীর্ঘ সময়) আর জাহিলিয়াত মানে অন্ধকার। আইয়ামে জাহিলিয়াত এর অর্থ দাড়াই অন্ধকার যুগ ( আর রাহীকুল মাখতূম পৃষ্ঠা -৭২ এতে অন্ধকার যুগ করা হয়েছে বাংলা ভার্সনে যেটার আরবি ভার্সন এতে আইয়ামে জাহিলিয়াত শব্দ আনা হয়েছে) অর্থাৎ প্রাচীন সময় থেকেই আইয়াম শব্দটা দীর্ঘ সময় বুঝাতে ব্যবহিত হতো। বর্তমানে কেও এই শব্দকে বিজ্ঞানের সাথে মিলাতে গিয়ে বর্তমানে কেও যে আইয়াম শব্দের অর্থ "দীর্ঘ যুগ" গ্রহণ করে না সেটা তো বুঝতে পারলেন। ,[ ফ্রম মুসলিম হতে ; বিখ্যাত ব্যকরণবিদ ইবনে আল খাবাজ (জন্ম ৬৩৯ হি.) বলেছেন, ‘যদিও দিন দ্বারা মানুষের ২৪ ঘন্টার একদিন বুঝানো হয় কিন্তু কোরআনে দিন দ্বারা নির্দিষ্ট সময়কালও বুঝাতে পারে।’ (কিতাবুত তাওজিহ আল লামি পৃষ্ঠা ১৮৮) সংগৃহীত ] অতএব ৬ আইয়াম বলতে ছয় সময় না বরং ৬ টা দীর্ঘ কালও হবে। তো এই ব্যাখ্যা প্রদান করার পর দুটো প্রশ্ন আমাকে করা হয়েছে
১. আইয়াম এর অর্থ যদি দীর্ঘ... হয় তাহলে বিভিন্ন অনুবাদে কেন দিন শব্দ আনা হয়?
২. (২ নাম্বার প্রশ্ন এটা নিয়ে পরে বলছি)
তো আমি ১ নাম্বার প্রশ্নের উত্তরে বলব যে প্রত্যেক ভাষার একটা আলাদা ভাবধারা আছে। বিভিন্ন ভাষায় একটা শব্দ যে ভাব প্রকাশ করে সেটা অন্য ভাষায় তা প্রকাশ করে না। আরবি আইয়াম দ্বারা একটা অনিদিষ্ট সময়কাল বুঝায় এখন এই সময়টা হতে পারে এক ন্যানো সেকেন্ড থেকে ছোট আবার ১ হাজার বছরের সমান। এখন এই যে শব্দের একটা ভাব আমরা 'আইয়াম' শব্দে দেখতে পাচ্ছি সেটা কিন্তু বাংলা বা ইংরেজিতে কোনো শব্দে দেখতে পাবো না। বাংলাতে সময়কাল নির্দেশ এর জন্য দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর ইত্যাদি ইত্যাদি শব্দ আছে। দীন বলতে ২৪ ঘন্টা , সপ্তাহ বলতে ৭ দিন, বছর বলতে ১২ মাস এরকম বুঝায়। আপনি বাংলাতে এরকম কোনো শব্দ পাবেন না যেটা দ্বারা এমন ভাব প্রকাশ করে যেটা ন্যানো সেকেন্ড থেকে ছোট আবার গিগা সেকেন্ড এর বড় কোনো সময় কালকে বুঝিয়ে থাকে। একই কথা ইংরেজি সহ বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় প্রযোজ্য। যার কারণে আইয়াম এর প্রথম শাব্দিক অর্থটা ( অর্থাৎ দিন শব্দটা) গ্রহণ করা হয় দ্বিতীয় শব্দ ( অর্থাৎ দীর্ঘ সময় বা যুগ) অর্থটা ( বিজ্ঞান অনুসারে মহাবিশ্ব ছয়টা পর্যায়ে বর্তমান অবস্থাতে এসেছে) গ্রহণ করা হয় না। আর ছয় আইয়াম বলতে এই কারণেই মূলত ৬ দিন অর্থ করা হয়। আশা করছি কেন দিন অনুবাদ করা হয় তা ক্লিয়ার । তো এই ক্ষেত্রে আমাকে দ্বিতীয় আরেকটা প্রশ্ন করা হয় ; সেটা হলো বিজ্ঞানের অনেক ওয়েবসাইট এতে ১০ টা পর্যায়কাল এর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ মহাবিশ্ব ১০ টা পর্যায় এতে বর্তমান সময়ে এসেছে। তো আমরা যদি ধরেও নেই 'আইয়াম' মানে দীর্ঘ "পর্যায়কাল " তাহলে দেখা যাবে যে কোরআন বৈজ্ঞানিক ভুল করেছে কারণ কোরআনে ছয় আইয়াম এর কথা বলা হয়েছে Not ১০ আইয়াম। তো এই ক্ষেত্রে আমার জবাব হলো " কোরআনে কোনো ভুল এখনও হবে না কারণ আপনারা যদি জ্যোতিবিজ্ঞান পড়েন তাহলে দেখতে পাবেন যে ছয়টা পর্যায়কাল এর সময় দ্বারা মহাবিশ্ব এর টাইম স্কেলকে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে । অর্থাৎ ছয়টা পর্যায়কাল হলো মূল পর্যায়কাল আর অনেক ওয়েবসাইট এতে যে " ১০ টা পর্যায়কাল " এর কথা বলা হয়েছে সেখানে গেলে দেখতে পাবেন যে" বাকি চারটা মূলত ছয়টা পর্যায়কাল এর ভিতরেই পরেছে। মানে ৬ টা পর্যায়কাল এর ভিতর থেকে আলাদা করে অংশ নিয়ে চারটা পর্যায়কাল বাহির করা হয়েছে। আসলে ওগুলো আলাদা কোনো পর্যায় না বরং মূল পর্যায়কাল এর অংশ ( আমাদের দেহকে দুইটা অংশে ভাগ করা যায় : ১.বহিঃস্তর ২. অন্তঃস্তর ; আবার কেও কেও ভিতরের এই স্তরকে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করেছে। কিন্তু তাই বলে সেগুলো আলাদা কোনো স্তর না বরং অন্তঃস্থিত স্তর এর অংশ। ঠিক ওই রকম ভাবে ১০ টা পর্যায় এর মধ্যে যে চারটা পর্যায়কাল আছে সেগুলো মূল ৬ পর্যায়কাল এর অংশ আশা করি কথা ক্লিয়ার) । অতএব এই ক্ষেত্রেও আল- কোরআন এতে কোনো ভুল ধরা যাবে না। ( ওহহ আরেকটা কথ, পর্যায়কাল এর স্তর ১০ টা কেন ১০ হাজারটা হলেও সমস্যা নেই কারণ ওগুলো আপনি মূল ছয় পর্যায়কাল এর ভিতরে রেখে গণনা করতে হবে) তো এই ছিল আমার উত্তর ( এই প্রশ্নটা অনেক আগে এক হিন্দু ভাই করেছিল কমেন্ট বক্সে ) আমার কাছে দুটো প্রশ্ন ( যেগুলো আইয়াম শব্দকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল) গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তাই উত্তর দিয়ে দিলাম।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।