#নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব
সিরিজ পর্ব-৩৯৯
সূর্য কি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে?
মুতাসিম ফুয়াদ নামক একজন অজ্ঞ নাস্তিক নতুন আরেকটা কপি পেস্ট লেখা নিয়ে হাজির হয়েছে। এই লোকটা নিজের জ্ঞানে কোনো কিছু লেখে না বরং তার সব লেখা পেস্ট লেখা। আমার screenshots এতে যে লেখাটা দেখছেন সেটাও কপি পেস্ট এবং এটা আজ থেকে ৮ বছর আগেকার একটা লেকা, যেটা " সুষুপ্ত পাঠক " নামে একজন নাস্তিক তার ব্লগ সাইটে প্রকাশ করেছিল। আপনারা বলতে পারেন আমি এটা কি করে জানলাম? তো এর জবাব হলো অনলাইনে দীর্ঘ সময় নাস্তিকদের নিয়ে কাজ করার দরুন আমি তার প্রায় মোটামুটি জেনে গিয়েছি যে এদের কপি পেস্ট লেখার উৎসগুলো কি এবং কোন ব্যাঙ্গু নাস্তিক প্রচারণা ও লেখালেখির দিক দিয়ে োন লেভেলে আছে... ।
যাইহেক পয়েন্ট এতে আসি,
আমার screenshots এতে নেওয়া লেখার মূল দাবি হলো পৃথিবী স্থির এবং সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে। তো সে তার দাবির পক্ষে একটা প্রমাণও পেশ করেচে, যা সূরা বাকাার -২৫৮ নং আয়াত। তো আমি এখানে সম্পূর্ণ আয়াতটা পেশ করছি। আল্লাহ রব্বুল আলামিন কোরআনে বলেন -
তুমি কি সে ব্যক্তিকে দেখনি, যে ইবরাহীমের সাথে তার রবের ব্যাপারে বিতর্ক করেছে যে, আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছেন? যখন ইবরাহীম বলল, ‘আমার রব তিনিই’ যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সে বলল, আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই। ইবরাহীম বলল, নিশ্চয় আল্লাহ পূর্বদিক থেকে সূর্য আনেন। অতএব তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে আন। ফলে কাফির ব্যক্তি হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। ( বাকারা-২৫৮)
এই আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে আল্লাহ নিজে সরাসরি বলেন নি যে " হে লোক সকল তোমরা জেনে নাও যে পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘুরে " বা এরকম কোনো কথা এখানে উল্লেখ নেই । এখানে ইব্রাহিম নদীর ঘটনা বর্ণনার প্রেক্ষিতে একটা উক্তি নিয়ে আসা হয়েছে যেটা ইব্রাহিম নবী নমরুদকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল।
নবী ইব্রাহিম নমরুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন " পূর্ব দিক থেকে আল্লাহ সূর্য উদিত করেন "
এই কথাটা বলার কারণ হলো নবী ইব্রাহিমের দৈনিক দেখা অভিজ্ঞতা । আর আমরা প্রতিদিন এটাই দেখি যে সূর্য উদিত ও অস্ত যায়। পদার্থ বিজ্ঞানে " ফ্রেম অফ রেফারেন্স " বলেও একটা বিষয় আছে। ফ্রেম অফ রেফারেন্স হলো স্থানাঙ্ক বা দৃষ্টিকোণের একটি সেট যা কোনো বস্তুর অবস্থান এবং গতি বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি পটভূমি বা গ্রিডের মতো কাজ করে যা পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর গতি বা পরিবর্তনকে সংজ্ঞায়িত করে। যেমন, একটি টেবিলের উপর রাখা বলের অবস্থান বর্ণনা করার জন্য টেবিলটি একটি ফ্রেম অফ রেফারেন্স হতে পারে।
ঠিক একই রকম ভাবে মানুষদের ক্ষেত্রে বা ইব্রাহিম নবীর ক্ষেত্রে তিনি পৃথিবীবাসি দর্শক, আর তার বা আমাদের ফ্রেম অফ রেফারেন্স অনুসারে সূর্য গতিশীল এবং নরমালি তা আমাদের পৃথিবীতে বসবাসরত মানুষের সাপেক্ষে উদয় ও অস্ত হয়......।
অতএব কোরআনের যে আয়াতটা তারা দলীল নিয়ে এসে বলে যে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে বকে প্রমাণ করতে চায় তা মূর্খামি বৈ কিছুই না!
হ্যা কোরআন ভুল হতো যদি তা ইব্রাহিম নবীর উক্তিগত বচন না হয়ে সরাসরি আল্লাহ এই ভাবে বলতে যে " সূর্য পৃথিবীর পাশে ঘুরে বা উদয় অস্ত হয়.. " আল্লাহ যদি নিজের ফ্রেম অফ রেফারেন্স ব্যবহার করতেন তাহলে ভুল হতো, কিন্তু এখানে ফ্রেম অফ রেফারেন্স এসেছে ইব্রাহিম নবীর দ্বারা.... । তাই এখানে কোরআন বৈজ্ঞানিক ভুল বা " পৃথিবী সূর্যের পাশে ঘুরে না বরং সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে এটা বলাটা সম্পূর্ণ ভুল..... ।
মূলত সুষুপ্ত পাটক নিজেও বিষয়টা জানত যার কারণে সে পুরো আয়াত উল্লেখ না করে সংক্ষিপ্ত আয়াত নিয়ে এসেচে যাতে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়..... আর সে অনেকটা সফলও হয়েছে..... ।
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।