সূরা_কাহাফে_বলা_সূর্য_সমুদ্রে_অস্ত_যাওয়া_সম্পর্কিত_এর_দৃষ্টি_ভঙ্গিটা_কার_আল্লাহর_নাকি_জুলকারনাইনের?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
একজন লোক অভিযোগ করল যে " সূর্য কদমাক্ত পানিতে.... দৃষ্টিভঙ্গি ( কথার ভাব) নাকি আল্লাহর। কিন্তু এটা জুলকারনাইন একন সেটাই শাব্দিক ব্যাকরণ এর আলোকে প্রমাণ করে দেখাব ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক
প্রথমে সূরা কাহাফ এর একটা আয়াত লক্ষ্য করুন। আয়াতটা হলো-
قَالَ سَتَجِدُنِیۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ صَابِرًا وَّ لَاۤ اَعۡصِیۡ لَکَ اَمۡرًا ﴿۶۹﴾
মূসা বললঃ আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করবনা।
( কোরআন-১৮/৬৯)
এটা বিখ্যাত খিজির এবং মূসা এর ঘটনা, এখানে মূসা খিজির কে বলছে " আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন..." এইখানে আরবি শব্দ এসেছে
" ছাতাজিদুনীইন"
এর root letter হলো - "ওয়াও, জিম, দাল "
[ আল-কাহাফ : 18:69:2
Main Arabic Word : سَتَجِدُنِىٓ
Grammar : * Future particle - حرف استقبال - ভবিষ্যতবাচক পদ
* Verb - فعل - ক্রিয়া
* Personal pronoun - ضمير - ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
Bangla Meaning : অচিরেই আপনি পাবেন আমাকে ]
এখানে سَتَجِدُنِىٓ শব্দের রুট লেটার " ওয়াও, জিম, দাল " ব্যবহার করা হয়েছে এই বিষয়টা মাথাতে রাখুন।
এখন আসি সূরা কাহাফ এর ৮৬ নাম্বার আয়াতে যেখানে বলা হয়েছে সূর্য... । আয়াতটা হলো-
" حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ مَغۡرِبَ الشَّمۡسِ وَجَدَہَا تَغۡرُبُ فِیۡ عَیۡنٍ حَمِئَۃٍ وَّ وَجَدَ عِنۡدَہَا قَوۡمًا ۬ؕ قُلۡنَا یٰذَا الۡقَرۡنَیۡنِ اِمَّاۤ اَنۡ تُعَذِّبَ وَ اِمَّاۤ اَنۡ تَتَّخِذَ فِیۡہِمۡ حُسۡنًا ﴿۸۶﴾
চলতে চলতে যখন সে সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছল তখন সে সূর্যকে এক পংকিল পানিতে অস্ত যেতে দেখল এবং সে সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেল; আমি বললামঃ হে যুলকারনাইন! তুমি তাদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।
( কোরআন-১৮/৮৬)
এখানে " তখন সে সূর্যকে..." এর জন্য আরবিতে এসেছে " ওয়াজাদা" শব্দটা। এর Root letter হলো - "ওয়া, জিম, দাল "
[ আল-কাহাফ : 18:86:11
Main Arabic Word : وَوَجَدَ
Grammar : * Coordinating Cojunction - حرف عطف - সম্বন্ধসূচক অব্যয়
* Verb - فعل - ক্রিয়া
Bangla Meaning : এবং সেপেলো ]
এখন আসি মূল পয়েন্টে।
সূরা কাহাফ-৬৯ এতে মূসা নিজেকে ধৈর্যয়শীল হিসাবে বলেছে, মানে সে খিজির এর সাথে ধৈর্য্য ধারন করতে পারবে । কিন্তু আমরা পরবর্তী আয়াত গুলোতে দেখতে পাই যে সে ধৈর্য্য ধারন করতে পারে নি। এইখানে মূসা নিজেকে " দেখতে..." শব্দটার জন্য যে শব্দ ব্যবহার করা হইছে সেটার রুট লেটার" ওয়াও, জিম, দাল " ঠিক একই রকম কাহাফ-৮৬ এতে " সে দেখতে পেলো.." এর জন্য যে শব্দটা বয়বহার করা হয়েছে তার রুট লেটারও " ওয়াও, জিম, দাল"
এর দ্বারা সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণ হয় যে এই আয়াতে বলা দৃষ্টি ভঙ্গি আল্লাহর না বরং জুলকারনাইন এর ঠিক যেভাবে
আমরা মূসার উদাহরণ থেকে দেখলাম যে তার দৃষ্টি ভঙ্গি ( অর্থাৎ সে মনে করেছিল সে ধৈর্য্য ধারন করতে পারবে- যেটা মূসার দৃশ্টিভঙ্গি..) ছিল।
আশা করছি কথাটা ক্লিয়ার। এছাড়াও তাফসীরকারকরা এই ( সূরা কাহাফ-৮৬) এর তাফসীর করতে গিয়ে বলেছেন যে " সূর্য কদমাক্ত জলাশয়ে অস্ত যায় " এটা জুলকারনাইন এর সাপেক্ষে , তিনি এটা দেখেছিলেন আর আল্লাহ সেটাই উল্লেখ করছেন কোরআনে, সরাসরি নিজে জোর দিয়ে বলেন নি..( দেখুনঃ উক্ত আয়াতের তাফসীর : তাফসীরে ফাতহুল মাজিদ, তাফসীরে আহসানুল বয়ান,, তাফসীরে মাআরিফুল কোরআন, তাফসীরেইবনে কাছীর...)
অতএব এই আয়াত থেকে যারা বৈজ্ঞানিক ভুল দাবি করে তাদের দাবি সম্পূর্ণ বাতিল বাতিল বাতিল
আশা করি বিষয়টা বুঝেছেন...
লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
Md Mehedi Hasan
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।