#অসত্যের_কালো_ছায়া
কিস্তি -১
#কোরআন_অনুসারে_পৃথিবী_স্থির_নাকি_গতিশীল?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
বর্তমানে কিছু আধুনিক আকিদা প্রো মাক্স ওয়ালা ল্যাংটা পোলাপান আবির্ভাব হয়েছে যারা, পৃথিবীর আকার - আকৃতি চাঁদ সূর্য কে আকিদার অংশ বানিয়ে নিয়েছে এবং বিজ্ঞানের চূড়ান্ত সত্য কে তারা তুরি মেরে উড়িয়ে দিতে চাইছে। এছাড়াও তারা কোরআন হাদীস ও সালাফদের অবিছন্ন কিছু আছার নিয়ে এসে প্রমাণ করতে ব্যস্ত যে পৃথিবী গোল না সমতল, পৃথিবী গতিশীল না স্থির ইত্যাদি ইত্যাদি.... ।
লেখাটা দু - ভাগে বিভক্ত করছি ইনশাআল্লাহ । প্রথম ভাগে গতিশীলতার প্রমাণ পেশ করা হবে বিজ্ঞান আর ইসলামের আলোকে। পরবর্তী পয়েন্ট এতে কোরআন এর যে আয়াত দিয়ে পৃথিবী স্থির প্রমাণ করা হয় তা রদ করা হবে....
তো চলুন শুরু করা যাক।
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান-
___________________
নিছের screenshots লক্ষ্য করুন, সেকানে কয়েকটা দাবি করা হয়, তার মধ্যে প্রতম দাবি হলো " পৃথিবী গতিশীল না স্থির! " । এখন কথা হলো পৃথিবী কি সত্যিই স্থির? উত্তর হলো না, একদমই না..... বরং পৃথিবী গতিশীল।
ভিডিও লিংক-
https://youtu.be/l64YwNl1wr0?feature=shared
এখন আসি কোরআন কি বলে! এই বিষয় এতে?
আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেন-
وَ هُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ الَّیۡلَ وَ النَّهَارَ وَ الشَّمۡسَ وَ الۡقَمَرَ ؕ كُلٌّ فِیۡ فَلَكٍ یَّسۡبَحُوۡنَ ﴿۳۳﴾
و هو الذی خلق الیل و النهار و الشمس و القمر كل فی فلك یسبحون ﴿۳۳﴾
আর তিনিই রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন; সবাই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে। আল-বায়ান
তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন, সূর্য আর চন্দ্র, প্রত্যেকেই তার চক্রাকার পথে সাঁতার কাটছে। তাইসিরুল
(আল্লাহই) সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে। মুজিবুর রহমান
And it is He who created the night and the day and the sun and the moon; all [heavenly bodies] in an orbit are swimming. Sahih International
( আম্বিয়া-৩৩)
এখানে চারটা অনুবাদ আছে এবং চার অনুবাদেই দেখতে পাচ্ছি যে " সূর্য ও চন্দ্র সহ সব গ্রহই নিজ নিজ কক্ষপতে ঘুড়ার কথা উল্লেখ আছে। আর অনুবাদ গুলো আমি নিজে করে নি । আরবি বিশারদরাই করেছেন। এখানে আয়াতে শুধুমাত্র চন্দ্র- সূর্যের ঘুরার কথাই বলা হচ্ছে, তাহলেও সেটা সম্ভব নয়। কারণ আরবি ব্যাকারণে একবচন, বহুবচনের সাথে সাথে দ্বিবচনও রয়েছে, ।
সুতরাং এখানে যদি শুধু চন্দ্র-সূর্যের কথা বলা হতো তাহলে বহুবচন শব্দ (يسبحون) ব্যবহৃত হতো না। বরং দ্বিবচন শব্দ (يسبحان) হতো। অথচ কোরআনে বহুবচন শব্দ (يسبحون) ব্যবহৃত হয়েছে। অতএব চন্দ্র-সূর্যের সাথে পৃথিবীর ঘূর্ণনও মেনে নেওয়া হচ্ছে ব্যাকরণগত দিক থেকে।
আর এখন এই আয়াত এর তাফসীর দেখেন-
وَ ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ الَّیۡلَ وَ النَّہَارَ وَ الشَّمۡسَ وَ الۡقَمَرَ ؕ کُلٌّ فِیۡ فَلَکٍ یَّسۡبَحُوۡنَ ﴿۳۳﴾
আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিবস এবং সূর্য ও চন্দ্র; [১] প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তরণ করে। [২] [১] অর্থাৎ রাত্রিকে আরামের জন্য ও দিবসকে জীবিকা অর্জনের জন্য সৃষ্টি করেছি, সূর্যকে দিনের ও চাঁদকে রাতের নিদর্শন বানিয়েছি। যাতে মাস ও বছর গণনা সম্ভব হয়; যা মানুষের জন্য একটি জরুরী বিষয়। [২] যেরূপ একজন সাঁতারু পানির উপর সাঁতার কাটে, অনুরূপ চন্দ্র ও সূর্য নিজ নিজ কক্ষ পথে সন্তরণ অর্থাৎ, বিচরণ করে। ( তাফসীরে আহসানুল বয়ান,আম্বিয়া ৩৩ নং আয়াতের তাফসীর..) একই রকম কথা উক্ত আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে আরও অনেকে স্বীকার করেছে....
দেখুন-
তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়া
তাফসীরে ইবনে কাছীর
তাফসীরে মাআরিফুল কোরআন
তাফসীরে ফাতহুল মাজিদ ইত্যাদি ইত্যাদি....
সারাংশ : আমরা বুঝতে পারলাম যে শুধু পৃথিবী নয় বরং পৃথিবীর সাথে চাঁদ ও সূর্যও গতিশীল এমন কি সমগ্র গ্রহ উপগ্রহ গতিশীল যার প্রমাণ আমরা উক্ত আয়াত থেকে পরোক্ষভাবে পাচ্ছি..... । অতএব যারা দাবি করে পৃথিবী বা চন্দ্র সূর্য সব স্থির তাদের দাবি বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত..
আশা করি কথা ক্লিয়ার...
পয়েন্ট নাম্বার -২
_________________
বিশেষ খন্ডন
এখন আমরা ওই আয়াত দেখবো যেগুলো দেখিয়ে মাথা- মোটা গুলো দাবি করে পৃথিবীর স্থির। আয়াতটা হলো-
আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে স্থিতিশীল করেছেন এবং আসমানকে করেছেন ছাদ ( কোরআন-৪০/৬৪ বা মুমিন -৬৪)
এখন কথা হলো এই আয়াত কি পৃথিবীকে স্থির প্রমাণ করে? উত্তর হলো না, কেননা আয়াতে সুস্পষ্ট ভাবে " যিনি তোমাদের জন্য.."
এখানে তোমাদের বলতে কাদের? বুঝানো হয়েছে? উত্তর হলো " তোমাদের বলতে আমাদের, মানে মানুষদের বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের সাপেক্ষে পৃথিবীর উপরিভাগ স্থির। নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বই এর দ্বিতীয় অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং-৩৩ ও ৩৪ এতে " সাপেক্ষ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে উদাহরণ দিয়ে বুজানো হয়েচে যে ইউনিভার্স এতে পরম স্থির বা গতি বলতে কিছু নেই। আমাদের সাপেক্ষে যা স্থির তা অন্য বস্তুর সাপেক্ষে গতিশীল । পৃথিবীর ভিতর থেকে আমরা পৃথিবীকে স্তির মনে করি, আর আরা চাঁদ থেকে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করলে বুজব যে পৃথিবী গতিশীল । অর্থাৎ সাপেক্ষ অনুসারে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে গতিশীল নাকি স্থির। আর এই আয়াত আমাদের সাপেক্ষে বলা হয়েছে, তাই পৃথিবী স্থির বলা হয়েছে, আর এতে কোনো অবৈজ্ঞানিক কিছু নেই.....
আশা করি কথা ক্লিয়ার...
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।