#নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
কোরআনের আয়াত লেখা সম্পর্কিত কোনো কপি কি ছাগলে খেয়েছিল?
প্রথমে হাদীসটা দেখুন -
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রজম সম্পর্কিত আয়াত এবং বয়স্ক লোকেরও দশ ঢোক দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা একটি সহীফায় (লিখিত) আমার খাটের নিচে সংরক্ষিত ছিল। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এবং আমরা তাঁর ইন্তিকালে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে। ( ইবনে মাজাহ -১৯৪৪)
এখন আরবি ইবারতে এর সনদ দেখুন -
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ و عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَقَدْ نَزَلَتْ آيَةُ الرَّجْمِ وَرَضَاعَةُ الْكَبِيرِ عَشْرًا وَلَقَدْ كَانَ فِي صَحِيفَةٍ تَحْتَ سَرِيرِي فَلَمَّا مَاتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَتَشَاغَلْنَا بِمَوْتِهِ دَخَلَ دَاجِنٌ فَأَكَلَهَا.
সনদের শুরুর দিকে দেখুন, মুহাম্মদ বিন ইসহাক রাবী আন শব্দে হাদীস বর্ণনা করেছে আর উসূল হলো এই যে কেনো মুয়াল্লিস রাবী যদি আন শব্দে হাদীস বর্ণনা করে তাহলে সে হাদীস যঈফ হয় (মুকাদ্দামাহ ইবনু সালাহ ; আল কিফায়া, পৃষ্ঠা নং-৩৬৪ ) তবে হ্যা মুদাল্লিস রাবীর আন শব্দের যদি সামা পাওয়া যায় তাহলে তা সহীহ হয় ( উমদাতুল কারী শরহে বুখারী- ৩/১১২)
আর এই হাদীসে যেহেতু ইসহাক রাবী মুদাল্লিস+ আন শব্দে রেওয়ায়েত করেচে অতএব এটা যঈফ সহীহ না।
তবে বাংলাতে হাদীসবিডিতে একে হাসান ( হাসান লি গাইরিহি হবে সম্ভবত! আল্লাহ আলাম) বলা হয়েছে । আর এর তাহকীক নেওয়া হয়েছে আলবানি থেকে। আলবানির সংক্ষিপ্ত তাহকিক আমি হাদীসবিডিতে চেক করলাম ইবনে মাজাহ ১৯৪৪ এতে। তো আলবানি সেখানে শুধু ইসহাক এর সিকাহ হওয়ার প্রমাণ দিয়েছে।
এর জবাবে আমরা বলি যে " সওকাহ রাবীও মুদাদ্দিস হয় " তাই সিকাহ হলেই যে হাদীস সহীহ বা হাসান হবে এরকম কোনো কথা নেই, সুফিয়ান সাওরীও বিখ্যাত হাফেজে হাদীস +সিকাহ মুদাল্লিস রাবী, কিন্তু সে সিকাহ হওয়া সত্যেও খুদ সালাফিরাই তার আন হাদীস বর্জন করে ( যদি সামা না হয় বা শাহেদ না পয়...) যেমনটা আমি যুবাঈর আলি যাঈ রহিমাহুল্লাহ এর " নূরল আইনাইন ফি ইসবাতি রফউল ইয়াদাইন " বইটাতে দেখেছি। অতএব আন শব্দে রেওয়ায়তেত যঈফ এটা সাবিত হয়ে গেলো সালাফি উসূলেতে...
আমার ধারণা আলবাটি রহিমাহুল্লাহ হয় তো এর শাহেদের কারণে এটাকে হাসান বলেছে। তো এর শাহেদটাও যঈফ যেমনটা আমি এই বিষয়ক একটা লেখাতে পড়ে ছিলাম " নাস্তিকদের বিরুদ্ধে লেখা ওয়েবসাইট এতে......।
আর আলবানি রহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে যুবাঈর আলি যাঈ এর একটা প্রবন্ধ আছে যেটা " জাল হাদীস কেন বর্জনীও " বইটাতে আছে, তো সেখানে যুবাঈর আলি যাঈ বলেন " আলবানি রহিমাহুল্লাহ তাদলিস বা মুদাল্লিস এর ক্ষেত্রে কোনো নিদিষ্ট উসূল ব্যবহার করতেন না... "( আমার ঠিক মনে আসছে না, এরকম একটা কথা বলেছিলেন হয় তো! আল্লাহ আলাম) তো বাস্তবেই আলবানি রহিমাহুল্লাহ অনেক হাদীসের ক্ষেত্রে মুদাল্লিস রাবীর হাদীসকেও সহীহ বলেছে যেমনটা আবু দাউদের " বুকে হাত বাধা নামক হাদীসের তাহকিকে দেখতে পাবেন..... "
মূল কথা হলো হাদীসটা সহীহ না বরং যঈফ! অতএব একটা যঈফ হাদীসকে সহীহ নামে চালানোর কোনো মানেই হয় না.....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।