#_তাকদীর_সম্পর্কিত_হাদীস_ও_আয়াত_নিয়ে_সংশয়_নিরসন
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
সিরিজ পর্ব-১
আমরা এই সিরিজ এতে এমন সব হাদীসগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করব ইনশাআল্লাহ যেগুলো দেখলে তাকদীর সম্পর্কে ভুল ধারণাই সৃষ্টি হতে পারে আর এটা মনে হতে পারে যে আমাদের কর্মের জন্য না বরং আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজ ইচ্ছাতেই আমাদের তাকদির এতে পাপ পূণ্য সেট আপ করেছে আর সেই মতাবেক আমরা চলি ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এরকম কনফিউশান হাদীসগুলোই.... ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রথমেই একটা হাদীস দেখে নিন
" তোমাদের কেউ জান্নাতীদের ‘আমাল করে এতটুকু এগিয়ে যায় যে, তার ও জান্নাতের মাঝে কেবল এক গজের দূরত্ব থাকতেই তার ওপর লিখিত তাক্দীর প্রবল হয়ে যায়। তখন সে জাহান্নামীদের ‘আমাল করে। শেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত ‘আমাল করে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক গজের দূরত্ব থাকতে তার উপর তাকদীরের লেখা প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতীদের মত ‘আমাল করে, শেষে জান্নাতেই প্রবেশ করে। (৩২০৮) (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৪৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) "
হাদীসটা সাধারণ মানুষ দেখলে মনে করবে যে আল্লাহর কারণেই... তা না হলে আমরা এক হাত দূরত্ব.. জান্নাত হওয়া সত্যেও কেনো জাহান্নামি হলাম ইত্যাদি ইত্যাদি ???
তো বিষয়টা একটু উদাহরণ এর মাধ্যমে বুঝি
আমরা সাধারণ তো জানি যে ওই স্টুডেন্ট পাস করবে যেই স্টুডেন্ট এক বছর ভালো করে লেখা- পড়া করেছে। আর ওই স্টুডেন্ট ফেল করবে যেই স্টুডেন্ট সারা বছর বই খুলে দেখে নি শুধু পরীক্ষার রাত ছাড়া ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এটাই মূলত আমাদের মাঝে পাস আর ফেল করার একটা ফর্মুলা। আমরা পাস ফেল কে করবে আর কে করবে না এই মাধ্যমেই বুঝি। কেও যদি সারা বছর না পড়ে তাহলে আমরা সহজেই বুঝে যায় যে ওই স্টুডেন্ট ফেল করবে। কিন্তু এই ধারণা সব সময় সঠিক হয় না। অনেক সময় দেখা যায় যে কিছু এমন বখাটে ছেলে আছে যারা কোনো না কোনো ভাবে পাস করে যায় সারা বছর না পড়েই। আবার কিছু ভালো স্টুডেন্ট ও ফেল করে যায়। এটা সাধারণ তো হয় অন্য কারণে।
যে খারাপ স্টুডেন্ট সে কিভাবে পাস করেছে তা আর বলে দিতে হবে না। হয় তো নকল নিয়েছিল না হয় ভালো কোনো স্টুডেন্ট এর টা দেখে পাস করেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো যে ভালো সে ফেল করল কি করে?? উত্তর খুজার জন্য বুঝতে হবে যে পড়া দু - ধরণের
১. গাধার মতো মুখস্থ করা
২. বুঝে বুঝে পড়া
এখন যে স্টুডেন্ট ২ নাম্বার ক্যাটাগরির সেও পড়া- লেখা করেছে এক বছর আর যে ১ নাম্বার ক্যাটাগরির সেও পড়েছে এক বছর। তবুও এদের দু- জনের
মধ্যে মূল পার্থক্য হলো
"বুঝে পড়ার মধ্যে "
আপনি যদি বুঝে কোনো পড়া পড়েন তাহলে ওই সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন আসলে আপনি উত্তর দিতে পারবেন। আর যদি মূর্খের মতো মুখস্থ করেন সব কিছু তাহলে আপনাকে আপনার মুখস্থ করা পড়ার বাহিরে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারবেন না।
তাই ওইসব স্টুডেন্ট ফেল করে যারা মূর্খের মতো মুখস্থ করে। আর যখন পরীক্ষাতে সেই মুখস্থ বিষয়টা না আসে তখন উত্তর না দেওয়ার কারণে ফেল করে।
এখন পুরো ঘটনাটাকে উক্ত হাদীসটার সাথে মিলানোর চেষ্টা করুন।
কিছু কিছু ব্যাক্তি আছে যারা আমল করে অবশ্যই। কিন্তু তাদের আমল ভেজালযুক্ত আমল। যেটা তাকে বিপদ- আপদ থেকে রক্ষা করলেও চূড়ান্ত সময় এতে কোনো সাহায্য প্রদান করবে না। যখন জান্নাতের সাথে আপনার দূরত্ব এক হাত তখন আপনি এমন কর্ম করে ফেলবেন যেটা আপনাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। আর ওই কর্মটা হতে পারে শিরক অথবা মানুষ হত্যা ইত্যাদি ইত্যাদি। লিথিয়াম এর তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে আমরা পারমাণবিক চল্লি থেকে বিদ্যুৎ পেলেও এক সময় কিন্তু ওই লিথিয়াম এর তেজস্ক্রিয়তা মারাত্মক ক্ষতিকর। ওই রকম ভাবে ওই ব্যাক্তিগুলোর দশাও ওরকম যারা আমল করেছে তো বটে কিন্তু শেষ সময়ে এসে বড় পাপ করে বসে। আর এটা সে নিজ কর্মগুনেই করে। যার কারণে জান্নাতের সাথে এক হাত দূরত্ব থাকা সত্যেও আপনি জাহান্নামি হয়ে যাবেন। বিপরীতে যে ব্যাক্তির সাথে জান্নামের এক হাত দূরত্ব থাকে কিন্তু সে জান্নাতি হয়ে যায় এমন কর্মের কারণে যেটা সে আগে করেনি। সেটা হতে পারে কোনো ব্যাক্তির জীবন বাঁচানো ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এখানেও বুঝতে পাচ্ছি যে উক্ত ব্যাক্তি জান্নাতে যাবে নিজ কর্মগুনে। অর্থাৎ দু- ক্ষেত্রেই আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর কোনো হাত নেই ( উল্লেখ্য যে আহলুল সুন্মাহ ওয়াল জামআত এর আকিদা মধ্যপন্থি! আকিদার ক্ষেত্রে আমার এই লেখাতে একটু অস্পষ্টতা আছে যেটা আপনারা সালাফদের আকিদার কিতাব পড়লেই বুঝতে পারবেন, আমি নাস্তিকদের ডিবাংক করার জন্য একটু অন্য রকম ভাবে লেখাটা লেখে বুঝাচ্ছি...)
যেটা হয় সেটা আমাদের কর্মের কারণেই হয়। আর এই বিষয়টা আল্লাহ রব্বুল আলামিন লিপিবদ্ধ করেছে। প্রশ্ন হতে পারে যে " তাহলে আমরা কর্ম করব কেন যদি সব লেখায় থাকে তাকদিরে ; যা হবার তা তো হবে??? "
তো এই বিষয়ে উত্তর সোজা
মনে রাখতে হবে আমরা পরীক্ষার্থী। আল্লাহ রব্বুল আলামিন না। তিনি জানেন তার বান্দা কে কি রকম আর কে কি করবে। কিন্তু আমরা এগুলো জানি না। জানি না বলেই কর্ম করতে হবে। শিক্ষক যেমন তাঁর ছাত্র সম্পর্কে জানেন কে পাস
করবে আর কে ফেল আল্লাহও জানে তবে নিয়ম অনুসারে পরীক্ষা দিতে হবে কারণ শিক্ষক জানে কিন্তু ছাত্র জানে না। তাই ছাত্রের পরীক্ষাটাই হলো তার চূড়ান্ত সনদ। ওই রকম ভাবে আমাদেরও দশা।
আশা করি কথা ক্লিয়ার
সিরিজ চলবে ইনশাআল্লাহ.........
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।