#একটি_নিরপেক্ষ_ও_যুক্তিসঙ্গত_আলোচনা
#কাফের_মুশরিকদের_ভাই_বলা_যাবে_কি?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আমি অবাক হয়, আমি সত্যিই অবাক হয় তাদের দেখে, যারা ইসলামের দুশমনদের বলে তারা নাকি আমাদের ভাই! কথিত বাতিল মানহাজ বিভ্রান্ত শায়েখ আগে বলল হিন্দুরা নাকি আমাদের ভাই, আবার আরেক জাহেল বাতিল মাতুরিদি আশআরি আকিদার পথভষ্ট বিভ্রান্ত বক্তা বলল যে মুশরিকসহ নাস্তিকরাও নাকি আমাদের ভাই"। আর এসব সেলিব্রেটি বক্তা নামক তক্তাদের অন্ধ পূজারী জাহেলগুলো তাদের শায়েখদের পক্ষে সাফাই গাইছে এবং খাসকে আম বানিয়ে ফেলছে! । যাইহোক এসব আগাছা গুলোকে রদ করার জন্য বেশি লেখার প্রয়োজন পড়বে না..... ।
আমি প্রথমেই আমি এমন একটা আয়াত পেশ করতে চাই, যা তাদের পুরে বিভ্রান্ত মানহাজ এর জবাব দিয়ে দিবে...। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন-
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা কুফরকে ঈমানের উপর প্রাধান্য দেয়। তোমাদের মধ্য হতে যারা তাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, তারাই হবে যালেম’’। (সূরা তাওবা-৯/ ২৩)
এই একটা আয়াতই যথেষ্ট ওইসব বাতিলদের জবাব দেওয়ার জন্য, যারা বলে কাফের মুশরিকরা( হিন্দু , খিস্টান, বৌদ্ধ, নাস্তিক..) নাকি আমাদের ভ্রাতৃত্ব , গোত্রীয় বা মানবতার ভাই!।
আয়াতটা লক্ষ্য করুন, আল্লাহ আমাদের বলছেন যে " যদি কেও ইমান ছেড়ে কুফরের দিকে ধাবিত হয়, তাহলে তার সাথে ভ্রাতৃত্ব ছিন্ন করা হবে" অর্থাৎ আপনার বা আমার, পিতা বা ভাই যদি কুফরকে গ্রহণ করে তাহলে তারা আর আমাদের সাথে কোনো সম্পর্ক থাকবে না, তারপরও যদি কেও তাদের সম্পর্ক বজায় রাখে তাহলে সে যালেম, যালেম, যালেম! ।
একবার চিন্তা করুন তো! আপনার যে পিতা আপনাকে জন্ম দিয়েছে , সে পিতা কুফর গ্রহণ করার কারনে তারা আর আপনার অভিভাবক থাকবে না, সেখানে কোথাকার কোন কাফের, মুশরিক, যারা প্রকাশ্যে জন্ম থেকে মৃত্যু পযন্ত শিরক কুফর এতে জড়িত! তারা কি ভাবে আপনার ভ্রাতৃপ্রেমী ভাই হয়?
যেসব জাহেলগুলো অমুসলিমদের ভাই বলার পক্ষে , তারা আমার ভাই বিষয়টাকে দুইটা ভাগে ভাগ করছে ( নিছের screenshots লক্ষ্য করুন)
১. ধর্মীও ভাই
২. বংশীও / আদম সন্তান হিসাবে মানবতার / ভ্রাতৃদ্বয় ভাই!
এরা কোরআনের ওইসব আয়াতগুলোর অর্থ নাকচ করে যেগুলোকে কাফের মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক ছেদ করার কথা বলা হয়েছে, এবং এসব আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা হিসাবে বলে যে " এখানে নাকি ধর্মীও ভাই, বন্ধু উদ্দেশ্য!" কিন্তু কাফেরদের আমরা ধর্মীও ভাই বলি না, বরং বংশীও বা আদম সন্তান হিসাবে ভাই বলি!। তো যারা এরকম দাবি করে তাদের উক্ত দাবিটাকেও সূরা তাওবার ২৩ নং আয়াত বাতিল বলে খন্ডন করে। যারা কাফের মুশরিকদের বংশীও বা আদম সন্তান হিসাবে ভাই বলার পক্ষে তারা একটু বলেন তো " বংশীও ভাই হওয়ার দিক থেকে কে আপনার সবচেয়ে বেশি হকদার? উত্তর হলো " অবশ্যই আপনার নিজ মায়ের পেটের ভাই, যার সাথে আপনার নিজ রক্তের সম্পর্ক রয়েছে! । কোরআন যেখানে আমাদের নিজ আপন ভাইকেই কুফর গ্রহণ করার কারণে সম্পর্কছেদ করার নির্দেশ প্রদান করেছে, সেখানে আপনি কাফেরদের ঘড়ে জন্ম নেওয়া কাফেরদের বলছেন বংশীয় ভাই! ব্যাপারটা অনেক হাস্যকর নয় কি? । তাই আমি প্রথমেই বলে ছিলাম যে এই একটা আয়াতই যথেষ্ট তাদের দাবিগুলো নাকচ করার জন্য । আর এইসব জাহেলগুলোর প্রতি লক্ষ্য করেই ফকিহে মিল্লাত, যুগশ্রেষ্ঠ মহান সালাফি স্কলার বলেছেন যে, " যে বলবে, ইহুদি খ্রিস্টান ( কাফের- মুশরিকরা) আমাদের ভাই, তারাও দ্বীন ত্যাগকারী মুরতাদ "( আল শাহরু আল মুমতি -১৪/৪১৫) ।
আমরা সূরা তাওবা -২৩ আয়াত থেকে এই উসূল নির্ধারণ করছি যে " ভাই, হোক সেটা বংশীও বা ধর্মগত সেটা নিড়ভর করবে ইমান ও কুফর এর আলোকে.."
আপনি যদি ইমানদার হোন বা আল্লাহ উপর ইমান আনেন, তাহলে আপনার মতো অন্যান্য মুসলিমরাও আপনার ধর্মীও ভাই এবং বংশীয় ভাই। আপনি মুসলিম ঘড়ে জন্ম নেওয়ার কারণে বংশগত ভাবে মুসলিমরাই আপনার ভাই হবে, কোনো কাফের মুশরিক কখনো বংশীও ভাই হবে না! ।
এখন কোরআনের আরও কিছু আয়াত লক্ষ্য করুন -
যারা আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তাদেরকে তুমি আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবে না। হোক না এই বিরুদ্ধাচরণকারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা তাদের জাতি-গোত্র’’। (সূরা মুজাদালা-৫৮/২২)
এই আয়াতও আমাদের বুঝাচ্ছে যে, যারা আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধচারণ করে ( অর্থাৎ, মুশরিক কাফেরগণ) তাদের সাথে কোনো ভাবেই বন্ধুত্ব করা যাবে না কোনো বিষয় এতে, আর সে যদি আমাদের পিতা ভাই বা নিজ গোত্রেও হয়! তাহলেও তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে নে ( যদি তওবা না করে..)। যেখানে নিজ গোত্রের আপন লোকদের সম্পর্ক এর পরিচয় দেওয়া যাবে না,সেখানে কাফের- মুশরিক ঘড়ে জন্ম নেওয়া মুসলিম বিদ্বেষী কাফেরদের ভাই বলা তো বিলাসিতা! ।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আরও বলেন যে -
হে মুমিনগণ! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তোমাদের কাছে যে সত্য আগমন করেছে, তারা তা অস্বীকার করছে। তারা রসূলকে এবং তোমাদেরকে বহিস্কার করে, এই অপরাধে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখ। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং আমার পথে জেহাদ করার জন্যে বের হয়ে থাক, তবে কেন তাদের প্রতি গোপনে বন্ধুত্বের পয়গাম প্রেরণ করছ? তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব জানি। তোমাদের মধ্যে যে এটা করে, সে সরল পথ হতে বিচ্যুত হয়ে যায়’’। (সূরা মুমতাহানাহ-৬০/ ১)
এই আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন আহমাদুল্লাহ, জাহেল বক্তা মিজানুর রহমান আজহারির মতো মুনাফিক এবং এদের সাংগো পাংগগুলোকেই উদ্দেশ্য করেই বলেছেন যে " যারা তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাই..."
অর্থাৎ তাদের ( কাফের- মুশরিকদের) সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য, বাপ, দুলাভাই, বড় ভাই বলতেও দ্বিধাবোধ করে না তাদেরকেই আল্লাহ রব্বুল আলামিন সরল পথ ( সিরাতুল মুস্তাকিম) হতে খারিজ ঘোষণা করার রায় দিয়েছেন....। আর এসব আয়াতকেই সামনে রেখে আরেক মহান সালাফি স্কলার সালেহ আল ফাউজান বলেন
" এ ( সব) বিরাট মূলনীতিটি সম্পর্কে অনেক মানুষ অজ্ঞ রয়েছে। আমি আরবী ভাষায় প্রচারিত একটি রেডিও অনুষ্ঠানে একজন আলেম ও দাঈকে খৃষ্টানদের সম্পর্কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, খৃষ্টানরা আমাদের ভাই। এ রকম ভয়ঙ্কর কথা খুবই দুঃখজনক" ( আল ওয়ালা ওয়াল বারা, পৃষ্ঠা নল -২-৩ দ্রষ্টব্য!)
যাইহোক, আপনারা হয় তো এতটুকুতে বুঝে গেছেন যে " কাফের মুশরিক বা মুসলিম ব্যাতিত অমুসলিমদের ভাই বলা যাবে কি না!? "
এখন আসি তাদের ওইসব দলীল এর ব্যাপারে, যারা তাদের মত ও দাবির পক্ষে উল্লেখ করে।
কাফের মুশরিকদের ভাই বলা যাবে এই দাবির পক্ষে তারা দুটো আয়াত উল্লেখ করে, যা হলো
(১) যখন আদ জাতির নিক তাদের ভাই হুদকে পাঠিয়েছি ( আরাফ ৭/৬৫)
(২) যখন তাদের ভাই নূহ বললেন, তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না? "( সূরা শুআরা -২৬/১০৬)
তারা এই দুটো আয়াত দিয়ে প্রমাণ নেওয়ার চেষ্টা করে যে অমুসলিমদের ভাই বলা জায়েজ! এবল সেটা গোত্রীও ভাই, আর এইটার জন্য তাফসীরে কএরতবি এর হাওলাও পেশ করে! ।
এখন আসি পয়েন্ট এতে, ভালো করে বুঝার চয়েস করুন -
আদ জাতি ছিল আদ জাতির নিকট পাঠিয়েছে হুদকে এবং নূহকে পাঠিয়েছে তার নিজ জাতির কাছে। আর কোরআনে ভাই বলা হয়েছে এবং সেটা গোত্রীয়ও ভাই! যেমনটা তাফসীরকারকা বলেছেন! । ওকে ফাইন ( ভালো) এতটুকুতে আমিও একমত পোষণ করছি যে তারা গোত্রীও ভাই! কেননা তারা একই গোত্র ভুক্ত!, কিন্তু কিন্তু কিন্তু ! বর্তমানে যেসব কাফেররা দুনিয়াতে আছে এবং এদেরকে কিছু জাহেল শায়খ ও তার অনুসারীরা ভাই বলে পরিচয় দিচ্ছেন, যারা বাপ দাদা, এবং পরদাদা হতে মুসলিম এবং তার সব ভাই, চাচা মামারাও মুসলিম! তো তাদের সাথে আবার কাফেরদের সরাসরি রক্তের সম্পর্ক হলো কখন?। নূহ ও হুদের সাথে তো তাদের জাতির সরাসরি রক্তের ছিল সম্পর্ক, যাদের ভাই বলা হয়েছে, ওইখানে তো ৫০০ বছর আগেকার কাওকে ভাই বলা হয় নি, বরং যারা জীবিত ছিল তাদেরই তো ভাই বলা হয়েছে, তাই না! । তো এসব মুসলিমগুলো ( যারা কাফেরদের ভাই বলে..) যাদের বাপ দাদা যুগ যুগ দরে মুসলিম, তো তাদের সাথে তার চিনা- পরিচিতি মুশরিকরা আবার গোত্রীও ভাই হলো কখন?। যদি ওইসব মুশরিকরা তাদের আপন চাচার সন্তান হতো, বা মামার সন্তান হতো, তাহলে না হয় সেই খাতিরে বলা যেত তারা মুশরিক হলেও গোত্রীও ভাই! , কিন্তু এরা তো নিজ মামা চাচার সন্তান না, তাহলে ওরা গোত্রীও ভাই হলো কি করে?। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এই আয়াত থেকে কখনো এই দলীল নেওয়াই যাবে না যে " কাফেরদের ভাই বলা যাবে, কেননা কোরআনকে নবীর জাতির প্রতিও ভাই বলা হয়েছে..."। কেননা কোরআন এই ক্ষেত্রে ভাই বলেছে সত্য, কিন্তু এই ভাই বলাটুকু শুধু তাদের প্রতি সীমাবদ্ধ ! অর্থাৎ বিধানটা খাস, আম না... । বর আর খাস দিয়ে কখনো আম এর উপর হুকুম বা রায় প্রদান করা যায় না... । একটা উদাহরণ লক্ষ্য করুন! , সাধারণ মুসলিমরা সবোচ্ছ কয়টা বিয়ে বৈধ হিসাবে করতে পারবে? উত্তর চারটা, তো কোনো গাধা যদি এসে বলে যে ১০ টা ১১ টা বা তারও অধিক বিয়ে করবে এবং সেগুলোকে বৈধ বলেও রায় প্রদান করে, এবং এই দলীল ও যুক্তি পেশ করে যে " আমাদের রাসূল সাঃ চারটার উপরে ১১/১৩/১৪ টা বিয়ে করেছিল, তাই আমরাও করব, কেননা এতগুলো বিয়ে করা নবীজির সুন্নত, আর যা সুন্নত হয় তা হারাম হয় না! ... " সো আমার এতগুলো বিয়ে বৈধ ", তো আপনারাই বলুন তার দাবি, যুক্তি, কথাগুলো কি সঠিক হবে?। উত্তর হলো না একদমই না, কেননা ৪ এর অধিক বিয়ে করাটা শুধু নবীজি সাঃ এর জন্য বৈধ এবং তার জন্য খাস, আর আমাদের জন্য সবোচ্ছ ৪ বিয়ে করা বৈধ, আর এটা আম! । তাই নবীজির খাস বিধান দিয়ে আমকে রায় দেওয়া যাবে না.....। ঠিক একই রকম ভাবে হুদ, নূহ এদের জাতিকে ভাই বলা দ্বারা কখনো এটা প্রমাণিত হয় না যে সব কাফেরদের ভাই বলা বৈধ! । আর যদি দরেও নেই যে আরাফ ও শুআরা এর আয়াতদ্বয় কাফেরদের ভাই বলা সাবিত করে, তাহলেও এটা মুহাম্মাদীর শরীয়তে না বরং তার পূর্ববর্তী নবীর ( এখানে নূহ ও হুদ) শরীয়তে বৈধ। মানে ওই শরীয়ত মানসূখ হয়ে গিয়েছে। আর মানসূখ শরীয়তের দলীল কখনো নাসেখ শরীয়তের উপর প্রাধন্য পাবে না......। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
তবুও যদি কেও না বুঝেন তাহলে লাল সালাম। আপনি আপনার পথে আর আমি প্রিন্স ফ্রেরাসে আমার পথে....
তো সবাই ভালে থালবেন, সুস্থ থাকবেন
লেখক : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ, আল্লাহ হাফেজ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।