#শর্ট_কাউন্টার_পোস্ট_by_muslim
সিরিজ পর্ব-২
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
কিছু সল্প জ্ঞানী বুঝে কম চিল্লায় বেশি, তারা মুমতাহিনা-৮ আর ৯ নং আয়াত দিয়ে প্রমাণ করতে চাইতাছে যে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে।
তাই এখন এই সল্প জ্ঞানীদের কাউন্টার দিবো।
তো আয়াত দুটো লক্ষ্য করুন
প্রথম আয়াত-
"দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের স্বদেশ হতে বহিস্কৃত করেনি তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহতো ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন" ( কোরআন-৬০/৮)
এই আয়াতে কোথায় বলা আছে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব কর? আয়াতে কাফেরদের সাথে কিভাবে ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। ব্যাস এতটুকুই, এই আয়াতে একবারের জন্যও বলা হয় নি যে বন্ধুত্ব কর কাফেরদের সাথে...
দ্বিতীয় আয়াত-
اِنَّمَا یَنۡہٰىکُمُ اللّٰہُ عَنِ الَّذِیۡنَ قٰتَلُوۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَ اَخۡرَجُوۡکُمۡ مِّنۡ دِیَارِکُمۡ وَ ظٰہَرُوۡا عَلٰۤی اِخۡرَاجِکُمۡ اَنۡ تَوَلَّوۡہُمۡ ۚ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّہُمۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ﴿۹﴾
আল্লাহ শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তোমাদের বহিষ্করণে সহযোগিতা করেছে। তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে,[১] তারাই তো অত্যাচারী।[২] [১] অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার বাণী ও তাঁর নির্দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। [২] কেননা, তারা এমন লোকের সাথে ভালবাসা রাখে, যারা ভালবাসার পাত্র নয়। আর এইভাবে তারা নিজেদের নাফসের প্রতি যুলুম করে। কেননা, তাকে আল্লাহর আযাবের জন্য পেশ করে থাকে। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন গণ্য হবে। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা মাইদাহ ৫:৫১ আয়াত)
[ তাফসীরে আহসানুল বয়ান ]
আমি আয়াতের সাথে তাফসীরও উল্লেখ করলাম। প্রথমত আপনারা এখন বুঝতে পাচ্ছেন যে এই আয়াত দ্বারাও প্রমাণ হচ্ছে না যে কাফেরদের বন্ধু বানান যাবে, দ্বিতীয় তো লক্ষ্য করুন আয়াতে কাফের শব্দটা অনুপস্থিত বরং বলা হইছে " তাদের সাথে.." এখন প্রশ্ন হলো এই " তাদের.." টা কে? এই তাদেরটা হলো তারা যারা দ্বীন নিয়ে যুদ্ধ করে আমাদের সাথ এখন এটা কাফের মুশরিক হতে পারে বা মুসলিম ঘড়ে জন্ম নেওয়া মুনাফিকও হতে পারে, তৃতীয় তো কেও যদি বলে' তুই বড় আম গাছ থেকে আম চুরি করিস না..." এই কথা দ্বারা এটা বুঝায় না যে " ছোট গাছ থেকে আম খাওয়া যাবে..." ঠিক ওই রকম ভাবে এখানে " দ্বীন নিয়ে যারা যুদ্ধ করে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না... এর মানে এই না যে যারা দ্বীন নিয়ে যুদ্ধ করে ন তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে, আমরা মুমতাহিনা-৮ নং আয়াতের মাধ্যমে বিচার করলে বুঝতে পারব যে এই আয়াতেও একটা ইনসাফপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেওয়া হইছে আর তা হলো" যারা দ্বীন নিয়ে যুদ্ধ করে তাদের হুকুম কি আর যারা না করে তাদের হুকুম কি..."। মূল কথা হলো আ উক্ত আয়াত দারাও প্রমাণ হচ্ছে না যে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে, পারলে তারা যেন এমন একটা আয়াত নিয়ে আসে যেখানে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হইছে যে " কাফেরদের বন্ধু করা যাবে..." জানি পারবে না দেখাইতে, কিন্তু আমরা দেখাতে পারব যে সুস্পষ্ট বাবে বলা আছে বন্ধুত্ব করা যাবে না কাফেরদের সাথে। দেখুন-
لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰہِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡہُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُکُمُ اللّٰہُ نَفۡسَہٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ ﴿۲۸﴾
মু’মিনগণ যেন মু’মিনগণকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ না করে, এবং তাদের আশংকা হতে আত্মরক্ষা ব্যতীত যে এরূপ করে সে আল্লাহর নিকট সম্পর্কহীন; আর আল্লাহ তোমাদেরকে স্বীয় পবিত্র অস্তিত্বের ভয় প্রদর্শন করছেন এবং আল্লাহরই দিকে ফিরে যেতে হবে"( আলে ইমরান-২৮)
আয়াতে কাফিরীনা বা কাফের শব্দটা ডাইরেক্ট বলা উল্লেখ করা হইছে এবং বলা হিছে যে কাফেররা...
অতএব আমরা বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে রায় প্রদান করছি যে
" কোনো কাফেরের সাথে বন্ধুত্ব করা জায়েজ নেই... তবে ব্যবস্যা বানিজ্য বা চুক্তি করা যাবে...
আশা করি কথা ক্লিয়ার
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে মেহেদী হাসান ✍️
© #নাস্তিকদের_যুক্তি_খন্ডন
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।