এসব জাহমি মুরজিয়া গুলো কতটা গোমরাহ হলে এরকম পোস্ট করতে পারে তা ভাবনার বিষয়!
সালাফি আকিদাকে বানিয়ে দিলো হিন্দু আকিদা!
এই জাহেল যে যুক্তি পেশ করেছে তার ভিত্তিতেই গলদ আছে। আমাদের বুঝতে হবে যে আকিদা নসকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে। আর নসকে আমরা ঠিক সে ভাবে বুঝব যে ভাবে আমাদের সালাফরা বুঝেছেন। আবু আমি হানিফা রহিমাহুল্লাহ এর বক্তব্য দিয়েই চলশুরু করছি। আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ বলেন-
> “وَلَهُ يَدٌ وَوَجْهٌ وَنَفْسٌ كَمَا ذَكَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ، فَمَا ذَكَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ مِنَ الْوَجْهِ وَالْيَدِ وَالنَّفْسِ فَهُوَ لَهُ صِفَةٌ بِلا كَيْفٍ، وَلَا يُقَالُ إِنَّ يَدَهُ قُوَّتُهُ أَوْ نِعْمَتُهُ، لِأَنَّ فِيهَا إِبْطَالَ الصِّفَةِ، وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْقَدَرِ وَالْمُعْتَزِلَةِ.”
অর্থাৎ: আল্লাহর হাত, মুখ, নফস—এসব কুরআনে যেমন এসেছে, এগুলো আল্লাহর সিফাত, কিন্তু কিভাবে—তা অজানা। এগুলোকে “শক্তি” বা “নিয়ামত” বলা যাবে না, কারণ এতে সিফাত অস্বীকার হয়, আর এটা হলো মুতাযিলা-কদারিয়াদের মত।সুতরাং যারা বলেন—“আবু হানিফা রূপক তাবীল করেছেন”—তারা নিজেরাই তাঁর বিরোধিতা করছেন।
(আল-ফিকহুল আকবর, পৃ. ৩০/ প্লেজারিজম )
আমরা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছি যে আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ এর দিকে নিসবত করা তার জগৎ বিখ্যাত কিতাব আল ফিকহুল আকবারে তিনি নিজেই " আল্লাহর সিফাত ( ইয়াদ, আইন..) সাব্যস্ত করেছেন কিন্তু সেগুলোর কাইফ ( ধরন) কি রকম তা অজানা বলেছেন.....
যেখানে হানাফি মাযহাবের ইমাম আল্লাহর হাত পা এগুলো আছে বলেন তখন এসব নামধারী হানাফি জাহমি মুরজিয়া গুলো কি বলল তা আমাদের দেখার বিষয় না......।
এই বেলাল বিন আলি খাইরুল কুরন থেকে একজন ইমামের বক্তব্য নিয়ে আসুক যে আল্লাহর হাত পা সিফাতগুলোর অর্থ নাকচ করেছে এবং হাত পা এসবের তাতীল করে বলেছে হাত মানে শক্তি, মুখমন্ডল মানে সত্তা, পা মানে কুদরতি পা ইত্যাদি ইত্যাদি... ।
এরা নিজেরাই আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ এর আকিদার উপর নেই বরং ফিকহ নিয়েছে আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ এর কাছ থেকে আর আকিদা নিয়েছে মাতুরিদি ইমাম থেকে....
তার কাছে আমার ছোট প্রশ্ন, আল্লাহর হাত পা আছে বললেই যদি তা হিন্দুয়ানী আকিদা হয়ে যায় তাহলে কি আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহও হিন্দু ছিল? কারণ সেও তা নস থেকে তা সাবিত করছেন....
এখন আরেকটা পয়েন্ট এতে আসি, আল্লাহর হাত পা চোখ মুখ আছে বললে কি তা হিন্দুয়ানি আকিদা হয়ে যাবে?
আমার জবাব হলো ' না' একদমই না! হিন্দুরা যে হাত পা এসব দিয়ে মূর্তি বানাই তা মানুষের সাদৃশ্য দিয়ে বানাশ, আর হিন্দু শাস্ত্র এর কোনো জায়গাতে বলা হয় নি যে ইশ্বরের মানুষের মতো হাত পা আছে, বরং হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে " ইশ্বরের দেহ বা রুপ নেই এবং তিনি নিরাকার "( কঠ উপনিষদ- ১/২/২২; যজুর্বেদ -৪০/৮...)
অর্থাৎ ইশ্বর নিজেও বলে নি তার মানুসের মতো হাত পা আছে, কিন্তু হিন্দুরা নিজেদের ধারণামত তাদের ইশ্বরের হাত পা মানুষের সাথে সাদৃশ্য দিয়ে মূর্তি বানিয়েছে।
বিপরীতে আমরা আছারিরা বলি যে আল্লাহর হাত ( যুমার -৬৭) পা ( কলম-৪২ / বুখারী-৭৩৮৪ ) মুখমন্ডল ( বাকারা -১১৫) আছে যেমনটা আল্লাহ কোরআনে নিজের ব্যাপারে এসব বলেছেন। নস ( কোরআন হাদীস) থেকে আমরা আল্লাহর হাত, পা, মুখমন্ডল সম্পর্কে জানতে পারি আর আমরাও সেগুলো বিশ্বাস করি যেমনটা আল্লাহ নিজের সম্পর্কে বলেছে। আর আমরা যখন আল্লাহর হাত পা সিফাত অর্থে নেই তখন আমরা এটাও বলি যে আল্লাহর ইয়াদ আইন আল্লাহর শান মতো, আমরা এর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদান করি না, যেমনটা আল্লাহ নিজেই বলেছেন তার কোনো সাদৃশ্য নেই ( কোরআন-৪২/১১)
আমরা যদি এখন এখানে হিন্দুদের আকিদা আর আমাদের আকিদাতে পার্থক্য নিয়ে আসি তাহলে তিনটা বড় পার্থক্য পাবো -
১. হিন্দুরা তাদের ইশ্বরের যে হা পা আছে বলে সেগুলোর বিপরীতে তাদের শাস্ত্রে ইশ্বর নিজেই বিরোধীতা করেছে..
*আর আমাদের নস এতে আল্লাহ এবং তার রাসূল সাঃ নিজেই হাত পা এসব সিফাত থাকার কথা সাবিত করেছেন..
২. হিন্দুরা মানুষের মতো সাদৃশ্য দিয়ে থাকে, তারা মানুষের মতো হাত পা কল্পনা করে
*বিপরীতে আমরা আছারিরা কোনো সাদৃশ্য প্রদান করি না..
৩. হিন্দুরা তাদের ইশ্বরের মূর্তি বানিয়ে পূজা করে
* বিপরীতে আমরা আছারি/ সালাফি সহ কোনো মুসলিম তা করি না.... কেননা মূর্তি বানানো এবং তার পূজা করা হারাম ইসলামে... ( আনকাবুত-১৭..)
তো আমরা নিজেরাই নিজেরাই দেখতে পাচ্ছি যে আল্লাহর সিফাত সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে শরয়ী বা শাস্ত্রীও ভাবে হিন্দুদের সাথে আমাদের মিল না বরং অমিল আছে
হিন্দুদের সাথে আমাদের আছারিদের পার্থক্য থাকা সত্যেও এই জাহেল বলে যে আমাদের আকিদা নাকি হিন্দুয়ানি আকিদা নাউজুবিল্লাহ
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের হেফাকত করুক এসব জাহমি মুরজিয়া থেকে.....
সবশেষে একজন ইমাম এর বক্তব্য দিয়ে লেখা সমাপ্ত করছি।
ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ এর ওস্তাদ নুয়াইম ইবন হাম্মাদ আল খুযায়ী রহিমাহুল্লাহ বলেন-
"যে আল্লাহকে মাখলুকের সাথে সাদৃশ্য দিল সে কাফের হয়ে গেলো। আবার যা আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন সেটা যে অস্বীকার করল সেও কাফের হয়ে গেলো। আর আল্লাহ নিজের জন্য যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং আল্লাহর রাসূল সাঃ যা বর্ণনা করেছেন তার সম্পর্কে তা বর্ণনা করা সাদৃশ্য দেওয়া নয়"
( শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলুল সুন্নাহ ওয়াল জামআহ লিল লালাকাঈ- (২/৫৩২) নং-৯৩৬.. সংগৃহীত )
আলহামদুলিল্লাহ আমরাও ইমাম বুখারী এর আকিদা লালন করি আর এটাই আমাদের সালফে সালেহীন সহ আহলুল সুন্নাহ ওয়াল জামআত এর আকিদা এবং যে এই আকিদা লালন করে না সেই গোমরাহ.....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।