" চাদর "
------ নাজাত মৃধা
শীতের আগমন ঘটেছে প্রকৃতিতে,
শীতল হিমেল স্পর্শ করে যাচ্ছে তনু।
চেতনা জুড়ে আছে একাকিত্বের ক্লেশ।
বসুন্ধরায় সম্পূর্ণ একা,
একটা আত্মা ঘোরাফেরা করছে,
একটু উষ্ণতার খোঁজে।
সে চায় তাকে অপবিত্র চিত্তকে পবিত্র করতে,
শীতের ঝরা পাতার মতো
তার পাপসমূহ ঝরে পড়ুক।
অনাবিল প্রশান্তির চাদরে,
ঢেকে থাকুক তার হৃদয়খানি।
তীব্র ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে অন্তরিন্দ্রিয়,
দরকার শুধু একটা বিশেষ উত্তরীয়,
এই চাদর সাধারণ কোনো চাদর নয়,
এ যেন রহমানের রহমতের চাদর।
মনে পড়ে যায় ১৪'শ বছর আগের,
ওহি নাযিলের কথা।
ধরণীর শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) বলেছিল,
তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে চাদরে আবৃত করতে।
মনে পড়ে যায় বিশ্ব জাহানের রবের,
তার হাবিবকে মুযাম্মিল (হে বস্ত্রাবৃত) সম্বোধন,
প্রতিপালকের তার বন্ধুকে দেওয়া নির্দেশ।
রূহের মালিকের কাছে তার মিনতি,
খলিকের সৃষ্ট মানবকূলের সাথে,
সে তাল মিলাতে পারছে না।
আর-রহিম যেন তাকে তার কাছে টেনে নেয়,
জরিয়ে নেন তার দয়া ও ভালোবাসার চাদরে।
আত্মা জান্নাতি কাফন ও সুগন্ধির অপেক্ষায়,
যখন মৃত্যুর ফেরেস্তা বলেবে-
হে পবিত্র আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এসো।
তখন আত্মা ফিরে পাবে,
চিরশান্তির আশ্রয়স্থল জান্নাতুল ফেরদৌস।
রবের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকার সুযোগ।
যেখানে রব আগলে রাখবেন,
মমতা ও যত্নের চাদরে।
রবের চাদরই তো সর্বোত্তম চাদর,
একটি আত্মা এই চাদরে নিজেকে
আবৃত করার অপেক্ষায় ইংশাআল্লহ।
[ বি:দ্র: "চাদর" - কবিতার মাধ্যমে কুরআনের ৭৩ নং সূরা মুযাম্মিল এর বাংলা অর্থ, তাফসির পাঠ করতে ও এর থেকে শিক্ষা নিতে অনুপ্রাণিত করতে ক্ষুদ্র প্রয়াস ]
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।