আমি একটা পোস্ট করি কালকে একটা প্রশ্নের জবাবে। একজন সংশয়বাদী ( অথবা নাস্তিক টাইপের) ভাই ৩ বছর আগে আমার এক পোস্ট কমেন্ট এতে বলে যে " কোরআনে কি ডাইনাসোরের কথা আছে ? আম, কাঠাল, নারিকেল এগুলো? তো আমি সেটার জবাব সেদিনিই আমি কমেন্টে বক্সে রেপলাই করে জানিয়ে দেয়। কালকে আবার আমি সেটা নিয়ে পোস্ট করেছিলাম।
আমার সেই পোস্ট কমেন্টে আরেক বালপাকনা নাস্তিক এসে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো ঘেউ ঘেউ করল যেমনটা বেওয়ারিশ কুকুরগুলো করে থাকে। আমি যার প্রশ্নের জবাব দিয়ে ছিলাম সেই প্রশ্নের মাধ্যমে প্রশ্নকারী কি বুঝাইছে সেটা প্রশ্নকারী নিজে না জানলেও এই বালপাকনা তা জেনে গেছে।
এই জাহেলের পুরো কথার সারনির্যাস হলো " কুরআনে শুধু আরব অঞ্চলের প্রাণী, ফল-ফলাদি ও জিনিসপত্রের নাম আছে। তাই মুহাম্মাদ (সা.) নিজের দেখা জিনিস দিয়েই কুরআন বানিয়েছেন... "।
এসব জাহেলদের জানা দরকার যে কুরআন নিজেকে হিদায়াতের কিতাব হিসেবে পরিচয় দেয়, প্রাণীবিদ্যা বা উদ্ভিদবিদ্যার বিশ্বকোষ হিসেবে নয়। তাই এতে যে উদাহরণগুলো এসেছে, সেগুলো মূলত প্রথম শ্রোতাদের কাছে বোধগম্য করার জন্য এসেছে। যদি আল্লাহ কোরআনে এমন সব প্রাণীর কথা বলত যা আরবরা কখনো চোখেই দেখে নি তাহলে কোরআন নিজের উপমা বুঝাতে ব্যর্থ হতো।
আর কোনো শিক্ষক গ্রামের ছাত্রদের বোঝাতে ধান, নদী, নৌকার উদাহরণ দেন, তাহলে কি প্রমাণ হয় যে তিনি পাহাড় বা সমুদ্র সম্পর্কে কিছু জানেন না? জবাব হলো না একদমই না, কেননা শিক্ষক ছাত্রদের ওইসব বিষয়ের উদাহরণ - উপমা দিবে যেগুলো তারা বুঝে। এখন কোনো গ্রামের বাচ্চাকে যদি শহরের গার্মেন্ট এর কোনো মেশিন এর কথা বলে কোনো উপমা উদাহরণ দিত তাহলে ওই ছাত্রের মাথাতে কোনো কিছুই ঢুকত না কেননা ছাত্র সেগুলোর সাথে পরিচিতই না...... । ঠিক একই ভাবে আল্লাহ কোরআনে এমন সব প্রাণীর নাম বলেছে যোগুলোর সাথে মোটামুটি তারা পরিচিত যেগুলোর দ্বারা লোনো উপমা পেশ করলে তাদের বোধগম্য হবে! । আশা করি এতটুকু পয়েন্ট ক্লিয়ার..... ।
আর মজার ব্যাপার হলো কোরআনে এমন অনেক কথায় এসেছে যেগুলোর ব্যাপারে রাসূল সাঃ নিজে তো জানত খোদ আরবের লোকরাও জানত না, এমনি এমন সব বিষয়বস্তুর কথা বলা হয়েছে যেগুলো আরবের মূল কোনো বস্তু ছিল না। উদাহরণস্বরূপ -
কুরআনে মিসর, রোমানদের , ফেরাউন, মূসা (আ.), ইউসুফ (আ.), মারইয়াম (আ.) ইত্যাদি বহু অ-আরব জাতি ও অঞ্চলের আলোচনা রয়েছে। আর রাসূল সাঃ কখনো মিশর জাননি এবং না তিনি পড়ালেখা জানতেন যার মাধ্যমে তিনি এগুলোর চর্চা করতে পারতেন। অতএব "কুরআন শুধু আরবের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ" অথবা " রাসূল ( সা:) এর জ্ঞান শুধু আরবের ভিতরের জিনিস সম্পর্কে জানা ছিল তাই সে সেগুলোর কথা উল্লেখ করে কোরআন রচনা করেছে এই কথা " বলা তথ্যগতভাবেই ভুল।
আর হ্যা কোরআনে এমন প্রাণীর কথাও আছে যা আরবে এক্সিটই করে না, যেমন কোরআনে তিমির কথা আছে ( আস-সাফফাত ৩৭:১৪২ / এখানে বড় সামুদ্রিক মাছ এর কথা বলা আছে, তাফসীরকারকরা যার দ্বারা তিমি উদ্দেশ্য নিয়েছে..) এখন প্রশ্ন হলো রাসূল সাঃ কি তার জীবনদশাতে কখনো সমুদ্রে গিয়েছে? আর না সে কখনো কোনো বড় মাছের কথা শুনেছে, যদি এর কোনোটাই না হয় তাহলে সে এর কথা বলল কি করে? এর থেকে প্রমাণ হয় না যে এগুলো তার কথা না? .... । এছাড়াও কোরআনে ফিল বা হাতির কথাও বলা হয়েছে যা আরবের কোনো প্রাণী না। আর আমার এই পয়েন্ট থেকেই নাস্তিকের করা দাবির ভ্রান্ততা প্রমাণ হয়ে যায়....।
এরকম করে তার প্রত্যেকটা কথাকে ( বাক্যকে) ধরে ধরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট রদ করা যেত.... তবে আমি মনে করি জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট .....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।