Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মায়া

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (254 পয়েন্ট)   8 ঘন্টা পূর্বে "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
*মায়া* 

পর্ব ১: স্টেশনের মেয়েটা

কমলাপুর রেলস্টেশন। রাত 12টা। লাস্ট ট্রেন চলে গেছে। প্ল্যাটফর্মে শুধু কুকুর আর পাগল।

একটা 6 বছরের মেয়ে বসে আছে। পরনে ছেঁড়া ফ্রক। সামনে আধা খাওয়া পাউরুটি। নাম জানে না। কেউ "মায়া" ডাকতো - তাই ও নিজেও নিজের নাম মায়া ভাবে।

পাশে বসে আছে একটা বুড়ি। পাগল। সারাদিন বিড়বিড় করে। রাতে মায়ার মাথায় হাত বুলায়। বলে, "ঘুমা মা। দুনিয়াটা খারাপ। ঘুমাইলে খারাপ লাগে না।"

মায়া ঘুমায় না। ওর চোখে ঘুম নাই। ওর চোখে শুধু প্রশ্ন - "মা কই?"

3 বছর বয়সে মা ওরে স্টেশনে রেখে গেছিলো। বলছিলো, "মা, একটু বসো। আমি চা কিনে আনি।" মা আর আসে নাই।

---

পর্ব ২: বাসার বড় মেয়ে

18 বছর পর। মায়া এখন 24। ঢাকার একটা বস্তিতে থাকে। 3টা বাসায় কাজ করে। সকালে 5টায় উঠে, রাতে 12টায় ঘুমায়।

যে বাসায় কাজ করে, ওই বাসার আন্টির একটা মেয়ে আছে - তিতলি। 8 বছর। সেরিব্রাল পালসি। হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না। শুধু মায়ার দিকে তাকায় থাকে।

আন্টি মাসে 4000 টাকা দেয়। মায়া 3000 টাকা গ্রামে মায়ের কাছে পাঠায়। মা মানে ওই পাগল বুড়ি। স্টেশনেই থাকে এখনো। মায়া প্রতি মাসে গিয়ে দেখে আসে। বুড়ি মায়ারে চেনে না। শুধু বলে, "মা রে, তোর মতো একটা মেয়ে ছিলো। হারায় গেছে।"

মায়া হাসে। "আমি হারাই নাই খালা। আমি তোমার কাছেই আছি।"

---

পর্ব ৩: মায়ার পরীক্ষা

একদিন তিতলির জ্বর 105। আন্টি-আংকেল দুইজনই দেশের বাইরে। মায়া তিতলিরে কোলে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়ায়। ডাক্তার বলে, "ভর্তি দেন। 20 হাজার টাকা লাগবে।"

মায়ার কাছে 2 হাজার টাকা। নিজের 3 মাসের জমানো টাকা। মায়ের জন্য রাখছিলো।

নার্স বলে, "টাকা ছাড়া বেড দিবো না।"

মায়া তিতলিরে বুকে জড়ায় ধরে। তিতলি কাঁপতেছে। মায়া কাঁপতেছে। ওই মুহূর্তে মায়ার মায়ের কথা মনে পড়লো। 18 বছর আগে যে মা ওরে স্টেশনে রেখে গেছিলো।

মায়া ডাক্তারকে বললো, "স্যার, টাকা কাল দিবো। আজ বাচ্চাটারে বাঁচান। ও কথা বলতে পারে না। কিন্তু ওর চোখ দিয়ে কাঁদে। আমারও মা ছিলো। উনিও আমারে এভাবে বুকে নিতো... মনে হয়।"

ডাক্তার রাজি হলো না। নিয়ম, নিয়ম।

মায়া তখন নিজের গলার চেইন খুললো। ওটা ওর মায়ের। স্টেশনে কুড়ায় পাইছিলো। সোনা না, ইমিটেশন। তবুও মায়ার কাছে জান। বললো, "স্যার, এটা রাখেন। আমার মায়ের স্মৃতি। 20 হাজার না, 20 লাখ দাম। টাকা জোগাড় করে আমি নিয়ে যাবো।"

ডাক্তার চেইনটা হাতে নিলো। কিছু বললো না। শুধু বেডের ব্যবস্থা করলো।

---

পর্ব ৪: মায়ের খোঁজ

তিতলি সুস্থ হলো 7 দিনে। আন্টি-আংকেল ফিরে এসে সব শুনলো। মায়ার পায়ে ধরে কাঁদলো। 20 হাজার টাকা দিলো। সাথে চেইনটাও ফেরত দিলো।

আংকেল বললো, "মায়া, তুমি আমাদের মেয়েরে বাঁচাইছো। আমরা তোমার ঋণ শোধ করতে পারবো না। তুমি আমাদের বাসায় থাকো। তিতলির গার্জিয়ান হয়ে যাও।"

মায়া রাজি হলো না। বললো, "আমার মা স্টেশনে আছে। উনি পাগল। আমারে চেনে না। কিন্তু আমি ওনারে চিনি। উনি আমার মা।"

সেদিন রাতে মায়া স্টেশনে গেলো। বুড়িরে খুঁজলো। পাইলো না। স্টেশনের দারোয়ান বললো, "ওই পাগলি তো 2 মাস আগে মরে গেছে। শীতে। কেউ লাশও নেয় নাই। পুলিশ মাটি দিছে।"

মায়া স্টেশনের ওই জায়গাটায় বসে পড়লো। যেখানে 18 বছর আগে মা "চা কিনতে" গেছিলো। বুকের ভিতরটা ফাঁকা। চেইনটা শক্ত করে ধরলো।

হঠাৎ মনে হলো কেউ মাথায় হাত বুলাচ্ছে। পরিচিত গন্ধ। মায়ের গন্ধ। কেউ কানে ফিসফিস করলো, "মা রে, কাঁদিস না। আমি তোর কাছেই আছি। তুই যারে মা ডাকিস, সে-ই তোর মা। রক্ত লাগে না মা ডাকতে। মায়া লাগে।"

মায়া আকাশের দিকে তাকালো। তারা গুনলো না। শুধু বললো, "মা, আমি তোমারে খুঁজি নাই। আমি তোমারে বানাইছি। তিতলির মধ্যে, স্টেশনের বুড়ির মধ্যে, হাসপাতালের ডাক্তারের মধ্যে। দুনিয়া খারাপ না মা। দুনিয়ায় মায়া আছে। তুমিই আমারে মায়া শিখাইছো - চলে গিয়ে।"

---

শেষ পর্ব: মায়ার বাসা

আজ মায়া 30। ওর নিজের একটা "মায়া আশ্রম" আছে। স্টেশনের পাশে। রাস্তার এতিম, পাগল, অসুস্থ বাচ্চাদের জন্য।

তিতলি এখন 14। হুইলচেয়ারে বসে বাচ্চাদের পড়ায়। মায়ারে "আপু" ডাকে না। "আম্মু" ডাকে।

মায়া এখনো রাতে স্টেশনে যায়। ওই জায়গাটায় বসে। প্ল্যাটফর্মে শুয়ে থাকে। আকাশ দেখে। আর মনে বলে, "মা, দেখো। তুমি আমারে ফেলে গেছিলা। কিন্তু আমি হাজারটা মায়েরে কুড়ায় নিছি।"

মায়া মানে শুধু একটা নাম না। মায়া মানে - যার নিজের কেউ নাই, সে-ই সবার আপন হয়ে যায়।

*শেষ কথা:*  

দুনিয়ায় দুই ধরনের মানুষ আছে। একদল মায়া পায় না বলে পাথর হয়ে যায়। আরেকদল মায়া পায় না বলেই মায়া বিলায়। মায়া নিজেই মায়া হয়ে যায়।
আমি জামিনুল রেজা, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 বছর 8 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 12 টি লেখা ও 1 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 254। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4000
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


মরীচিকার মায়া ও আমাদের নগ্ন বাস্তব — হিমানী হিমাদ্রি মানুষের জীবনটা আসলে এক অদ্ভু&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
65 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

সংজ্ঞাহীন এক অনুভূতির চোরাবালিতে পা রাখা; সেখানে সুখ নেই, ব্যথা নেই— শুধু অমোঘ টানে ö[...] বিস্তারিত পড়ুন...
69 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
জগতের বড়ো ভ্রম মায়া মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ০৭, ২০২৬ কখনও ভ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
340 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
*আপন ঘর আঁধার কবর*  পর্ব ১: আলো নিভে যাওয়া ঘর একটা সময় ছিল - মাগরিবের পর ঘরটা গমগম করতো।[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

*সোশ্যাল মিডিয়ার শোক*  পর্ব ১: পোস্ট আর শোক রাত 2টা 17। নোটিফিকেশন - "Rafi is no more"।  কমেন্ট বক্স ভরে গেছে 3 মিনিটে।  "ভাই, বিশ্বাস করতে পারতেছি না"   "Rip Legend "   "ইন্না লিল্লাহি..."   "ভাই, আপনার সাথে শেষবার চা খা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    305 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    15 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    143 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    103 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    91 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...