হঠাৎ মন খারাপ! পরিকল্পনা ছাড়াই। কি যে এক জ্বালা! ধুর..কিসের জ্বালা— এটা বলার ভাষাটাও পাচ্ছিনা! কেমন্ডা লাগে?!
ওহ,নো..! লেখতে শুরু করা মাত্রই এটা ভালো হয়ে গেল। লেখাটা শুরু করলাম মন খারাপের জন্য, অথচ মন ভালো হয়ে গেল। আহ.. আরো বড় জ্বালা!
এখন তাহলে কি লিখব?! কী লেখব..কী লেখব..!
হুম পাইছি। অসাধারণ একটা বিষয় পাইছি। 'একটা বুক রিভিউ' হ্যাঁ একটা বুক রিভিউ লেখা...তাহলে শুরু করা যাক।
বইয়ের নাম 'হিউম্যান বিয়িং'। এর রচয়িতা— বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গবেষক Iftekhar Sifat (হাফিঃ)।
তাঁর আরো অনেক বই আছে। সেগুলোর মধ্য থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই হলো 'হিউম্যান বিয়িং'। বইটি লেখা হয়েছে বিভিন্ন মতবাদ,কৃষ্টি কালচার, পশ্চিমা সভ্যতা- সংস্কৃতি, সেগুলোর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য,পরিকল্পনাসহ আরো নানান বিষয়ে।
লেখক বইটিতে যুক্ত করেছে গ্রিক সভ্যতা ও দর্শন, রোমান সভ্যতা,গণতান্ত্রিক সিস্টেমের সূচনা,রেনেসাঁ,ঊনবিংশ শতাব্দীতে সূচনা হওয়া কিছু দর্শন নিয়ে সমূহ আলোচনা।
বিভিন্ন মতবাদ উল্লেখ করতে গিয়ে লেখক সংক্ষিপ্ত আকারে ইতিহাসও তুলে এনেছেন। যা না জানলেই নয়। বিভিন্ন সভ্যতার গোড়াপত্তন, তার প্রতিষ্ঠাতা,প্রতিষ্ঠাকাল উঠে এসেছে এই বইয়ে।
মানুষকে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন থেকে তুলে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন লেখক।
বইটাতে যেসব মতবাদ নিয়ে লেখা হয়ে তার মধ্য থেকে বিশেষ কিছু মতবাদ হলো— সেকুলারিজম, ফেমিনিজম, ইন্টারফেইথ,হিউম্যানিজম,লিবারেলিজম, পাশ্চাত্যবাদ ও মুক্তচিন্তা( free thought)।
লেখা হয়েছে মডারেট মুসলিম, ট্রেডিশনাল মুসলিম, ফান্ডামেন্টালিস্ট মুসলিমসহ আরো কিছু বিষয়ে।
আমার মতে বর্তমান সময়ের প্রতিটা মুসলমানের এই বইটি পড়া উচিত। অন্তত নিজের ঈমানের হেফাজতের জন্য হলেও বইটি পড়া উচিত। কারণ,এই বইটি পড়লে একজন সাধারণ নব পাঠক অনুমান করতে পারবে— সে কোন পথে আছে। কোন জালে আবদ্ধ। আর কার শেকলে বন্দি। তাকে বন্দি করার পেছনে কার কার হাত রয়েছে।
সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পড়ুয়া নব পাঠকের জন্য বিভিন্ন পরিভাষা বুঝতে, এই বইটি সহায়ক হবে।
আমাদের অনেকেই আছে— যখন সমসাময়িক কোনো লেখা পড়ে,তো সে বুঝতে পারে না যে— এই মতবাদটা কী। তার গোড়াপত্তন কোথায়। কে প্রতিষ্ঠা করল। আর কেনই বা করল। এসব প্রশ্নের উত্তরের জন্য সহজ হবে তাদের জন্য। জানতে পারবে তাদের নানান প্রশ্নের উত্তর।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের ঈমানকে হেফাজত করুক।
ভ্রান্ত মতবাদ থেকে দূরে রাখুক। আমরা যেন নিজেদেরকে, নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে পশ্চিমা আয়নায় না দেখি, সেই তাওফিক দান করুক। লেখকের হায়াতে বরকত দান করুক। সমস্ত পাঠককে সহীহ বুঝ দান করুক। আমীন।
__________________________
পাঠক: আবু বকর সিদ্দিক
পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখন কাল: ২৫-৫-২০২৬ থেকে ১-৬-২০২৬ তারিখের মধ্য থেকে কোন এক রাতে।
Abu Bokkor Siddik
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।