*আমার গ্রাম - ফেকনী*
_থানা: মদন | জেলা: নেত্রকোনা | পোস্ট অফিস: মদন | ইউনিয়ন: ৩নং মদন_
হাওর আর নদীর দেশ নেত্রকোনার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আমার গ্রাম ফেকনী। মদন থানার ৩নং মদন ইউনিয়নের এক টুকরো শান্তি। এখানকার বাতাসে মিশে থাকে মাটির গন্ধ, আর সকালে ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে। স্বাধীনতারও বহু আগে থেকে এ মাটিতে মানুষের বসবাস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই গ্রাম আগলে রেখেছে তার মানুষগুলো।
*অবস্থান আর প্রতিবেশী*
আমার পাশের গ্রাম পরশকিলা। আমাদের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে একটা নদী। নদীর এপার ফেকনী, ওপার পরশকিলা। বর্ষায় নদী যখন যৌবন ফিরে পায়, তখন ওপারের গ্রামটা মনে হয় মেঘের আড়ালে লুকানো স্বপ্নের মতো। পূর্ব দিকে মনোহরপুর গ্রাম, পশ্চিমে বাগজান গ্রাম, আর ঠিক সামনেই চানগাও গ্রাম। চারপাশের গ্রামগুলো মিলে যেন একটা মালার মতো গাঁথা। হাট-বাজারে, মাঠে-ঘাটে সবার সাথে সবার আত্মার সম্পর্ক।
*ফেকনী পার্ক - প্রকৃতির ডাকঘর*
আমাদের গ্রামের ফেকনী রোডটা শুধু একটা রাস্তা না, এটা এক টুকরো স্বর্গ। রোডের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ, বাঁশঝাড় আর বর্ষায় পানিতে ভাসা ধানক্ষেত। বিকেল হলেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করে এই সৌন্দর্য দেখতে। সবাই আদর করে জায়গাটার নাম দিয়েছে "ফেকনী পার্ক"। নদীর বাতাস, খোলা আকাশ আর সবুজের সমারোহ দেখতে এখানে কেউ আসে ছবি তুলতে, কেউ আসে মন জুড়াতে। গোধূলির আলো যখন ধানক্ষেতে পড়ে, মনে হয় কেউ যেন সোনা গলিয়ে ঢেলে দিয়েছে।
*প্রকৃতি আর পাখির গ্রাম*
একসময় ফেকনী "পাখির গ্রাম" নামে পরিচিত ছিল। শীত নামলেই হাওর ভরে যেত অতিথি পাখিতে। বালিহাঁস, পানকৌড়ি, বক - হাজারে হাজারে এসে ভিড় করতো। সকাল-সন্ধ্যায় তাদের কলকাকলিতে মুখর থাকতো পুরো গ্রাম। এখনো শীতকালে নদীর পাড়ে, হাওরের জলে সেই দৃশ্য চোখে পড়ে।
বর্ষাকালে হাওরের পানি যখন গ্রামের কাছাকাছি চলে আসে, তখন ফেকনী হয়ে ওঠে একটা দ্বীপ। নৌকা হয় তখন মানুষের প্রধান বাহন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কলার ভেলায় চড়ে খেলা করে। আর শীতকালে সেই হাওরই রূপ নেয় পাখির রাজ্যে।
*গ্রামের গঠন আর মানুষের জীবিকা*
আমাদের গ্রামটা চারটি পাড়া নিয়ে গঠিত। পূর্ব পাড়া, পশ্চিম পাড়া, পিছে পাড়া - আর কিছু দূরে মাদুপুর নামের আরেকটি পাড়া। প্রতিটি পাড়ার মানুষ মিলেমিশে থাকে এক পরিবারের মতো।
এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি আর পশুপালন। বৈশাখে কৃষক মাঠে নামে, আষাঢ়ে বীজ বোনে, অগ্রহায়ণে সোনার ফসল ঘরে তোলে। গোয়ালঘরে গরু-ছাগলের ডাক, মাঠে হালের গরুর কষ্ট - এগুলোই ফেকনীর নিত্যদিনের ছবি। মাটির সাথেই এখানকার মানুষের নাড়ির টান।
*শেষ কথা*
আমার গ্রাম ফেকনী কোনো শহরের মতো জাঁকজমকপূর্ণ না। এখানে নেই উঁচু দালান, নেই কোলাহল। আছে শুধু খোলা আকাশ, সবুজ মাঠ, কলকল করা নদী, "ফেকনী পার্ক" এর মায়া, আর মাটির গন্ধ মাখা মানুষ। এই মাটি, এই বাতাস, এই নদী - সবকিছু মিলেই আমার শিকড়। শহরের যতই আলো-ঝলমল থাকুক, মনটা পড়ে থাকে সেই ফেকনী গ্রামেই।
*আপনিও আসুন আমাদের ফেকনী গ্রামে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।