একটা মজার বিষয় বলি। আজকে আমি আমার গাইড বুক থেকে রবীন্দ্রনাথের " অপরিচিতা " গল্পটা পড়লাম। এই গল্পটা পড়ার সময় আমি উনবিংশ শতাব্দীর বাঙ্গালী সমাজের বিয়ের সময়কার দৃশ্যপটটা বুঝতে পারলাম। এখন আমি সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু কথা বলছি -
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার অপরিচিতা গল্পে লেখেছে যে অনুপমের সাথে যখন কল্যাণী এর বিয়ে ঠিক হলো তখন কল্যাণীর বয়স ছিল ১৫ এবং অনুপমের ২৭ বছর বয়স।
এখানে লক্ষণীও বিষয় হলো -
"যখন অনুপমের মামা জানতে পারে যে তার ভাগিনার জন্য যে পাত্রী দেখা হয়েছে তার বয়স১৫ বছর তখন তার মন ভার হইল "
এই মন ভার হওয়ার কারণ কি জানেন? কারণ সে সময়ে ১৫ বছর একটা মেয়েকটা বয়স্ক ভাবা হতো এবং সে সময় পুরুষদের বিয়ের জন্য অল্প বয়স্ক পাত্রী দেখা হতো। বর্তমান যুগে ১৫ বছর একটা ছেলে মেয়েকা আমরা নাবালক নাবালিকা বললেই সে সময়ে ১৫ বছর মেয়েক নাবালক ভাবা হতো না এই কথাটা যেমন এই গল্প থেকে স্পষ্ট ঠিক একই ভাবে সে সময় অন্তত ১৫ বছরের নিচে ১০ বা ১২ বছরের মেয়ে বিয়ে করানো হতো তা তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই " অপরিচিতা" গল্প পড়লেই আমরা বুঝতে পারি।
এখানে আরেকটা মজার ব্যাপার হলো -
" অনুপমের বয়স কিন্তু ২৭ ছিল। তো ২৭ বছর বয়সের পুরুষের জন্য মেয়ে দেখা হচ্ছে ১৫ বছর বা এর নিচে "
এখন আমি একটা বিষয়ের জবাব দিচ্ছি যে কেন অনুপমের মামা মেয়ের বয়স ১৫ শোনে মন ভার করেছিল!
হিন্দু শাস্ত্রগ্রন্থে কিন্তু বলা আছে যে ঋতুমতী হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে দিতে হবে আর যদি এরকমটা না করা হয় তাহলে অনেক অমঙ্গলের কথা শাস্ত্রে বলা আছে... " ( কেও চাইলে আমি এই বিষয়ে রেফারেন্সও দিতে পারব...)
আমরা জানি যে সাধারণ তো একটা মেয়ে ১২ বা এর আশেপাশে ঋতুবতী হয়। ১৫ বছরের মেয়ে কিন্তু ঋতুবতী থাকে। তো অনুপমের মামা ১৫ বছর বয়সের এক ঋতুবতী মেয়ের সাথে বিয়ে দিতেই একটু মন ভারী করেছিল... কারণ শাস্ত্র মোতাবেক....
আশা করি বুঝতে পারছেন যে কেন অনুপমের মামার মন ভারি হয়েছিল।
এখন আপনাদের বলি যে আমি কেন এই বিষয়টা নিয়ে বকবক করলাম।
অনেক নাস্তিক রাসূল সাঃ এবং মা আয়েশা এর বিয়ের বয়স নিয়ে নানান উল্টাপাল্টা কথা বলে।
তো তাদের বলতে চাই যে -
অপরিচিতা গল্পটি প্রথম সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।সবুজপত্র পত্রিকায় ১৯১৪ সালে প্রকাশ হয়।
মানে রবীন্দ্রনাথ তার সময়কার অর্থাৎ আজ থেকে ১০০ বছর আগে ভারতীয় বাঙ্গালীদের বিয়ের সময় মেয়েদের ও পুরুষের বয়সের একটা তুলে ধরেছে যেখানে দেখতে পারছি যে সাতাশ বছর বয়সের এক যুবকের জন্য তার মামা ১৫ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়েও ইতস্ততবোধ করছে। এর মানে সে সময় ( আজ থেকে মাত্র ১০০ বছর আগে! ) একজন ত্রিশ বছর বয়সের পুরুষ ১০-১২ বছর মেয়ে বিয়ে করত এবং তা সমাজের চোখে একেবারে ন্যাচারাল বা স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল।
আমার প্রশ্ন হলো এটা যদি হয় মাত্র ১০০ বছর আগের ভারতের দৃশ্যপট তাহলে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে আরব ভূমিতে রাসূল সাঃ এর জামানাতে মা আয়েশাকে বিয়ে করাটা কোন আঙ্গেল থেকে তা বর্বর নিয়ম মনে হয়? নাস্তিক আাষাতে কি তাহলে পুরো দুনিয়া হাজার বছর দরে বিয়ের এই বর্বর প্রথার উপর ছিল আর এই ২০০০ বছর পরে এসে নাস্তিকরাই সহীহ বিয়ের প্রথা ফলো করে? ওহহ আমি তো ভুলেই গিয়েছি যে এরা তো বিয়েই করে না বরং দু- জন ব্যক্তির মৌন সম্মতি থাকলেই সেক্স করতে পারে....
তো যেসব নাস্তিকরা মৌন সম্মতি থাকলেই সেক্স করতে পারে সেসব নাস্তিকদের থেকে কি এখন আমাদের নীতি নৈতিকতা শিখতে হবে? বিশেষ করে কখন কোন পুরুষ কত বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে করবে তা কি শিকতে হবে?
হুমায়ন আজাদ তার আমার অবিশ্বাস বই এতে বলেছে যে দু- জনের সম্মতি থাকলেই তা নৈতিক। তো রাসূল সাঃ এর মা আয়েশার বিয়ের সময় দু- জনের সম্মতিতে হলেও কেন নাস্তিকরা তা নৈতিক হিসাবে মানতে পারে না কেন?
বাস্তবে এই নাস্তিকরা হলো বাটপার, ধান্দাবাজ জাহেল। এরা নিজেরাই নিচু মনের, আর এই নিকৃষ্ট নিচু মনের আবালগুলোর থেকে বলে আমাদের এখন নীতি নৈতিকতার জ্ঞান নিতে হবে যা হাস্যকর.......
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।