Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অহংকারের নীল পদ্ম

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
21 বার প্রদর্শিত
করেছেন (304 পয়েন্ট)   04 ফেব্রুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

গল্পের নাম:অহংকারের নীল পদ্ম

লেখকঃ হিমানী হিমাদ্রি
(
প্রথম পর্ব)

ভার্সিটির করিডোরে তখন গুঞ্জন—নতুন এক স্যার জয়েন করেছেন। নাম অনিন্দ্য। সবাই বলাবলি করছে তিনি নাকি দারুণ হ্যান্ডসাম, কিন্তু মেজাজটা বড্ড চড়া। ইশিতা এসব শুনে মুখ বাঁকাল। তার কাছে এধরণের 'অ্যাটিটিউড' দেখানো মানুষগুলো বরাবরই অসহ্য।

ক্লাসের প্রথম দিন। ইশিতা বন্ধুদের সাথে পেছনের বেঞ্চে বসে হাসাহাসি করছিল। ঠিক তখনই ক্লাসে ঢুকলেন অনিন্দ্য। পরনে গাঢ় নীল শার্ট, চোখে মেটালিক ফ্রেমের চশমা। তাঁর হাঁটার ছন্দে একটা রাজকীয় অহংকার ছিল। ক্লাসে ঢুকেই তিনি কোনো ভূমিকা ছাড়া বোর্ডে মার্কার দিয়ে খসখস করে লিখতে শুরু করলেন। পুরো রুম এক নিমিষেই কবরের মতো নিস্তব্ধ।

ইশিতা ভাবল, "ইশ! এতো দেমাগ কিসের?" সে ইচ্ছা করেই একটু জোরে একটা মন্তব্য করল পাশের বন্ধুকে। অনিন্দ্যর কান এড়ালো না সেটা। তিনি ঘুরে তাকালেন। তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যেন চশমা ভেদ করে ইশিতার ওপর আছড়ে পড়ল।

"আপনি কি এখানে আড্ডা দিতে এসেছেন, নাকি পড়তে?"—অনিন্দ্যর কণ্ঠস্বর ছিল বরফের মতো শীতল।

ইশিতা অপ্রস্তুত হয়ে আমতা-আমতা করে বলল, "না স্যার, আমি আসলে..."

"অজুহাত নয়। পরের বার এমন হলে আপনি আমার ক্লাসের বাইরে থাকবেন।"

ইশিতার জেদ চেপে গেল। মনে মনে ভাবল, "দেখে নেব আপনাকে। এতো বড় সাহস!" সেই দিন থেকেই অনিন্দ্যর ওপর এক ধরণের চাপা রাগ আর বিরক্তি দানা বাঁধল ইশিতার মনে। সে শপথ করল, এই মানুষের ছায়াও মাড়াবে না।


কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। একদিন ক্লাসের একটা কঠিন অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে ইশিতা খুব বিপাকে পড়ল। বাধ্য হয়ে তাকে ক্লাসের পর অনিন্দ্যর ডেস্কে যেতে হলো। অনিন্দ্য তখন কপালে ভাঁজ ফেলে কিছু ল্যাপটপে টাইপ করছিলেন। ইশিতাকে দেখে চশমাটা টেবিলের ওপর রাখলেন।

"বলুন, কী সমস্যা?"

ইশিতা জড়োসড়ো হয়ে তার খাতাটা এগিয়ে দিল। অনিন্দ্য খাতাটা দেখতে দেখতে বললেন, "আপনার লেখায় বুদ্ধি আছে ইশিতা, কিন্তু মনোযোগের বড্ড অভাব। আপনি কি সব সময় এতো অস্থির থাকেন?"

ইশিতা এবার আর নিজেকে দমাতে পারল না। সে ঝট করে বলে বসল, "সবাই আপনার মতো এতো গম্ভীর আর পারফেক্ট হতে পারে না স্যার। আমরা মানুষ, রোবট নই।"

অনিন্দ্য অবাক হয়ে ইশিতার দিকে তাকালেন। তাঁর ঠোঁটের কোণে খুব হালকা একটা হাসি ফুটে উঠল—যেটা ইশিতা আগে কোনোদিন দেখেনি। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, "রোবট হওয়ার কোনো ইচ্ছা আমারও নেই। কিন্তু এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায় নিজেকে আড়াল করতে মাঝে মাঝে রোবট সাজতে হয়।"

সেই মুহূর্তে ইশিতার রাগটা কেন জানি এক নিমিষেই জল হয়ে গেল। সে দেখল, এই কঠোর মানুষটার চোখের গভীরতা অনেক বেশি। সেখান থেকেই ইশিতার মনের মোড় ঘুরতে শুরু করল। বিরক্তিটা কখন যে মুগ্ধতায় পাল্টে গেল, সে নিজেও টের পেল না।


সেই ঘটনার কয়েকদিন পর। রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। ইশিতা বিছানায় শুয়ে ডায়েরি লিখছিল। হুট করেই তার ফোনে একটা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এল। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে সেই পরিচিত মায়াবী কণ্ঠ।

"ঘুমালে?"—অনিন্দ্যর গলা।

ইশিতা স্তম্ভিত। "স্যার? আপনি এই সময়ে ফোন দিয়েছেন?"

"জানি সময়টা অদ্ভূত। আজ ক্লাসে তোমাকে খুব মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখলাম। শরীর ঠিক আছে তো?"

ইশিতা অবাক হলো। সে তো ভেবেছিল অনিন্দ্য তাকে লক্ষ্যই করেন না। সে কাঁপা গলায় বলল, "না স্যার, এমনিই। আপনি আমার খোঁজ নিচ্ছেন দেখে অবাক হচ্ছি।"

অনিন্দ্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "আসলে ক্লাসে আমি যা দেখাই, সেটা আমি নই ইশিতা। সারাদিন শিক্ষকতার এই মুখোশটা পরে থাকতে থাকতে আমি হাঁপিয়ে উঠি। শুধু ভাবলাম, তোমার মতো এমন একটা প্রাণবন্ত মেয়ের সাথে কথা বললে হয়তো আমার বিষণ্ণতাটা একটু কমবে।"

শুরু হলো সেই জাদুকরী অধ্যায়। যে মানুষটাকে ইশিতা অপছন্দ করত, তাঁর সাথেই সে রাত জেগে কথা বলতে শুরু করল। অনিন্দ্য ধীরে ধীরে সহজ হলেন। তিনি এখন আর শুধু লেকচার দেন না, বরং নিজের একাকীত্ব আর অন্ধকারের কথা শোনান। ইশিতা বুঝল, এই মানুষটা আসলে বাইরে থেকে পাথর হলেও ভেতরে ভীষণ নিঃসঙ্গ।

অনিন্দ্য একবার হেসে বললেন, "শুরুতে তো আমাকে একদম সহ্য করতে পারতে না, তাই না?"

ইশিতা লজ্জা পেয়ে বলল, "আপনিই তো এমন খিটখিটে ছিলেন। আমার কী দোষ?"

"হয়তো তোমার মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্যই ওটা আমার চাল ছিল।"—অনিন্দ্যর এই অগোছালো স্বীকারোক্তি ইশিতার ঘুম কেড়ে নিল।

এভাবেই বন্ধুত্বটা প্রেমে গড়াতে শুরু করল। কিন্তু ইশিতা জানত না, এই মানুষটা নিজের ইগো আর ইমেজের কাছে কতোটা অসহায়। ঝড়ের আগে সমুদ্র যেমন শান্ত থাকে, তাঁদের এই সম্পর্কটাও তখন তেমনই ছিল। 

সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3358
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
‎কে জানে কতখানি পাপ মুছলো? ‎কতখানি শুদ্ধির সমীরণ হৃদয়-নগরে বইলো? ‎কতখানি মুক্তির ö[...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বড়ত্বের অহংকারের ছায়া  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরণঃ বিশ্লেষণধর্মী পোস্টে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
80 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পদ্মপাতার জল আমি জল থেকে বিশাল জলাশয় হইয়া তোমারে আমার বুকে জায়গা দিলাম, কিন্তু তোমা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
27 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

তুমি জলে ভাসা পদ্ম      রফিক আতা  তুমি জলে-ভাসা পদ্ম! হ্যাঁ, এটা ঠিক—আমিও পদ্মের মতোই[...] বিস্তারিত পড়ুন...
40 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

টাকার আত্মকাহিনী। মুহাম্মদ শাহজাহান। আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রবর[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    973 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    48 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...