আত্মানামা
এমাদুজ্জামান তাহসিন (অনির্বান)
‘খিওরি’
নবজাতকের আত্মা যেন এক নির্ভেজাল পবিত্র পাত্র। —যেখানে স্রষ্টা নিজে বাস করেন। ঠিক যেন শিশুর হৃদয়ে জ্যোতির্ময় এক আলোকবিন্দু।
এই আলোকই মানব বিবেকের জন্মদাতা।—
যা স্রষ্টার এক ক্ষীন দৈববানী। অনর্গত নির্দেশ।
কিন্তু, সময়ের স্রোতে, মানুষ যখন বারবার পাপের পথে পা বাড়ায়, অথচ স্রষ্টার স্বরনে ফিরে আসেনা –তখন সেই অন্তর্গত আলো ধীরে ধীরে নিভে যেতে থাকে।
আত্মা হয়ে পড়ে অপবিত্র, আর স্রষ্টা? যিনি আছেন নিকটেই – তিনিও ধীরে ধীরে অন্তর থেকে সরে যেতে থাকেন।
এই দূরত্বের শুরুতেই মানুষ তার বিবেককে হারাতে থাকে
কেননা, বিবেক হলো সেই সূক্ষ্ম সেতু, যা আত্মা আর স্রষ্টাকে যুক্ত রাখে।
যখন সে সেতু ভেঙে পড়ে, মানুষ আর বুঝতে পারেনা, ন্যায়-অন্যায়ের সূক্ষ্ম রেখা।
এই আধ্যাত্মিক অবক্ষয় জটিল চিন্তা, যুক্তি, আবেগ, সিদ্ধান্ত গ্রহনের কেন্দ্রবিন্দু ধংস করে।
আত্মীক দূষণ এবং বিবেকহীনতা ধীরে ধীরে মস্তিস্ক বিকৃত করে। নাফসের গোলাম হয়ে উঠে।
তার মন হয়ে উঠে শূষ্ক, দিশাহীন, দায়িত্যবর্জিত।
আত্মশুদ্ধির পথই একমাত্র উপায়, যাতে আমরা আবার স্রষ্টাকে অন্তরে ফিরাতে পারি।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।