হঠাৎ কেমন যেন লাগছে। একা—খুব একা!
বাতাসের স্পর্শে কেবলই একটা হিম বিষাদ ধেয়ে আসছে। নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে হয়। মনে হয়, কতকালের শ্যাওলাময় বিষাদ আমার দুয়ারে উঁকি দিচ্ছে। মনপ্রাঙ্গণে যেন এক বিশাল মহাসমাবেশ বসেছে—একান্নবর্তী ব্যথাদের। সেখানে ব্যথারা একের পর এক হুংকার ছাড়ছে, বক্তব্য দিচ্ছে, নিঃশব্দে আমাকে ঘিরে ধরছে।
চিটাগাংগামী একটি ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে চলে গেল। ট্রেনের পাত ও লৌহচাকার সংঘর্ষের শব্দ আমার মনের নগরে যেন তুমুল ঝড় তোলে। প্রতিটি মুহূর্ত অপর্যাপ্ত ব্যথায় নির্লস শোষণ ও নির্দয় উৎপীড়নে আমাকে পিষে যাচ্ছে। আর আমি—নিতান্তই এক অবহেলিত মূর্তি; যার কিছু বলার নেই, কিছু করার নেই। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, মিছিল–মিটিং, আন্দোলন—কিছুরই সামর্থ্য বা সাহস আর অবশিষ্ট নেই।
তবু এই নীরবতার ভেতরেও কোথাও যেন ক্ষীণ এক শ্বাস টিকে থাকে। ব্যথাদের ভিড়ের ফাঁকে ফাঁকে একফোঁটা অব্যক্ত আকুতি জমে ওঠে—যা এখনো ভাষা পায়নি, আলো পায়নি। হয়তো কোনো এক ভোরে, কোনো অচেনা আলোর স্পর্শে, এই স্থবির মূর্তিটাও একদিন কাঁপবে। হয়তো তখনই ভাঙবে শ্যাওলা, সরে যাবে বিষাদ। অথবা নাও যাবে—তবু এই অপেক্ষাটুকুই এখন আমার শেষ সম্বল।
—রফিক আতা—
চৌদ্দ, এক , ছাব্বিশ ইং
#WeAreOsmanHadi
#JusticeForHadi
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।