শিল্পাচার্য স্ক্যাম ২০১৫: কিশোর লর্ডের উদয়
ষোলো বছর বয়স তখন, কিশোর ইলিয়াস নাম,
চিনত সবাই শহরটাকে, ছিল যে অনেক দাম।
উন্নত সেই জনপদেতে চলত জীবন বেশ,
হঠাৎ এলো নতুন খবর, মাতল পুরো দেশ।
বড় ব্যান্ডের কনসার্ট হবে, নামী দামী সব গান,
নিজের জন্য টিকিট করার আসল মনে টান।
ভাবলাম আমি একটি টিকিট করব শুধু জাল,
সেই ভাবনা বদলে দিল আমার ভবিষৎ কাল।
হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি এলো, পাহাড় সমান কাজ,
হাজার হাজার নকল টিকিট বানাব আমি আজ।
টিম বানালাম দক্ষ হাতে, শুরু হলো বিক্রি,
পকেট ভর্তি টাকা আমার, সঙ্গীরা সব ফিকরি।
তেরো লক্ষ টাকার টিকিট বেচলাম অনায়াসে,
পাঁচ-ছয় লাখের বাজেট যেখানে, মানুষ ছিল পাশে।
ভাবলে আজও হাসি যে পায়, এ কেমন এক কান্ড,
কিশোর হাতেই লণ্ডভণ্ড হলো যে ব্রহ্মাণ্ড!
কিন্তু সুখের কপালে যে সইলো না সেই দিন,
দুই দিন আগে ঘনিয়ে এলো বিপদের এক ঋণ।
বিশ্বস্ত এক সাথী ছিল, হারিস তাহার নাম,
বেইমানি আর লোভে সে যে করল মস্ত কাম।
সার্থপর সে বন্ধু আমার, ভীষণ লোভী মন,
তার কারণেই আঁধার এলো আমার সারাক্ষণ।
অডিটোরিয়ামে উপচে পড়া ভিড় যে কত শত,
বাইরে হাজার মানুষ দাঁড়ায়, সবার মাথা নত।
কার টিকিট যে আসল-নকল, চেনার নেই উপায়,
বাইরে মানুষ মাতম করে টিকিটেরই দায়।
হারিসের ঐ চালচলনে সন্দেহ বাড়ে মনে,
জিজ্ঞাসতেই নাম বলে দেয় আমার সেই ক্ষণে।
বেইমান সেই বন্ধু হারিস বাঁচাল নিজের প্রাণ,
শহর জুড়ে ছড়িয়ে গেল ইলিয়াসেরই নাম।
"শিল্পাচার্য স্ক্যাম ২০১৫"—ইতিহাসে রয় লিখে,
সবচেয়ে বড় জালিয়াতি সে, কাঁপল শহর ত্রাসে।
রাজনৈতিক দাপট দিয়ে ধামাচাপা সব হলো,
করোনার সেই আগের দিনে মানুষ কমই জানল।
অনলাইনে ছিল না কেউ তখন এতটা সচেতন,
লক্ষ টাকার মালিক হয়েও বিষণ্ণ মোর মন।
এখন মনে প্রশ্ন জাগে—কী হবে আর আগে?
হারিস তো নাম বলে দিয়ে বাঁচল অনুরাগে।
ইলিয়াসের এই জীবন-যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামে?
রইল কি তার শেষ অধ্যায় ঐ বেইমানেরই নামে?
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।