আজনবি ইলিয়াস: আড়ালের এক সম্রাট
নামটি আমার ইলিয়াস আজ, এক রহস্যের খনি,
সিগারেট কভু ছুঁইনি আমি, তবুও পাপের ধ্বনি।
ভালো ছেলে আমি ছিলাম না কভু, ভিন্ন মনের গড়ন,
অল্প বয়সে মেহতার মতো করেছি স্ক্যাম বরণ।
বিভাগীয় সেই জালিয়াতি ছিল নিজের বুদ্ধির জোরে,
মন যা চেয়েছে করেছি তা-ই, অভাবের কোনো ঘোরে।
বাবা-মা ভাবল অচেনা শহরে ভালো হয়ে যাবে ছেলে,
পড়ালেখা করে মানুষ হবে সে, পুরনো জঞ্জাল ফেলে।
কিন্তু শহর চেনে না আমায়, চেনে না মনের বিষ,
আমি যে রাবণ, ধ্বংসের গানে দিয়েছি মরণ শিস।
অচেনা শহর হাতছানি দিয়ে বানাল স্মাগ্লার এক,
মহা পাপী হয়ে রক্তে মেখেছি ড্রাগের নীল অভিষেক।
এমন এক সিন্ডিকেট গড়লাম, খবর পায় না কেউ,
তলে তলে আমি তুলেছি শান্ত নদীতে প্রলয় ঢেউ।
রাজনীতিবিদ আর লোকাল গুন্ডা দেখাতো বড়ই তেজ,
বুঝতেই পারেনি কার হাতে বাঁধা তাদের মরণ-পেজ!
যাদের সাথে পথ চলেছি, আমি এক বোকা ছেলে,
বোকা সেজে আমি দেখেছি সবটা নিজের দুচোখ মেলে।
আসলে তো আমি আড়ালে বসেছি ড্রাগ লর্ডের বেশে,
আমার জরিপে শহরটা আজ ধ্বংস হতো গো শেষে।
ছেড়ে দিয়ে শহর এলাম নতুন এক অজানায়,
পুরনো চাল খাটিয়ে আবার লর্ড হলাম এ পাড়ায়।
অস্ত্র-মাদক যত বিক্রেতা, তারা তো আমারই দাস,
ছদ্মবেশে আড়ালে থেকেই ঘটিয়েছি সর্বনাশ।
সাধারণ হয়ে পথে হেঁটে চলি, কেই-বা আমায় চেনে?
শহরকে আমি শেষ করে দিই নিজের নিয়ম মেনে।
ইচ্ছে করেই থামলাম আজ, শুরু করি নতুন পথ,
কিন্তু বাঘের কি সাজে কখনো শাক-আহারের রথ?
রাবণ কি পারে ভুলতে লঙ্কা? বাঘ কি হারায় তেজ?
আবার হয়তো আসবে ফিরে আমার নতুন পেজ।
মানুষের ভীড়ে আমি সাধারণ, আড়ালে ভয়ংকর ত্রাস,
আমি আজনবি, আমিই গোপন— নামটি ইলিয়াস।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।