#নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব
সিরিজ পর্ব-২০০
#নবীজি_কি_মিরাজের_রাতে_উম্মে_হানীর_ঘরে_ছিল
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
পবিত্র মেরাজ হলো হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর সেরা মোজেযার একটা। অলৌকিক ও বিস্ময়কর এই ভ্রমণ নবীজির আগে আর কোনো নবী রাসূল করার সুযোগ পান নি। দুঃখের ব্যাপার হলো কোনো মূর্খ কান্ডজ্ঞানহীন.... । তাই আজকে একটু পর্যালোচনা করে দেখব যে নাস্তিকদের দাবি কতটুকু সত্য।
তো চলুন শুরু করা যাক।
আলোচনাটাকে দুটো পয়েন্ট এতে ভাগ করলাম
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান
_____________________
প্রথমেই বলে রাখি যে উম্মে হানীর ঘরে শায়িত অবস্থায় ছিল এই বর্ণনায় দুটো রেওয়াত পাওয়া যায়, তো আমি সুবিধার জন্য একটা দিয়ে কাজ চালাচ্ছি, না হলে লেখাটা অনেক দীর্ঘ হবে, আর হ্যা বর্ণনা প্রায় একই শুধু রাবী আলাদা। চলুন হাদীসটা দেখে আসি " মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, মুহাম্মদ ইবন সাইব কালবী.... উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ(ﷺ)-এর মিরাজ সম্পর্কে বলেন, যেই রাত্রে রাসুলুল্লাহ(ﷺ)-এর মিরাজ সংঘটিত হয় সেই রাতে তিনি আমার বাড়ীতে শায়িত ছিলেন। ঈশার সলাত শেষে তিনি ঘুমিয়ে যান। আমরাও ঘুমিয়ে যাই। ফজরের সামান্য আগে তিনি আমাদেরকে জাগালেন। তিনি সালাত পড়লেন এবং আমরাও তাঁর সাথে [ফজরের] সালাত পড়লাম তখন তিনি বললেনঃ হে উম্মে হানী, তোমরা তো দেখেছো আমি তোমাদের সাথে ঈশার সালাত পড়ে তোমাদের এখানেই শুয়ে পড়ি। কিন্তু এরপরে আমি বাইতুল মুকাদ্দাস গমন করি এবং সেখানে সলাত আদায় করি। এখন ফজরের সলাত তোমাদের সাথে পড়লাম যা তোমরা দেখলে। উম্মে হানী বলেন, এই বলে তিনি চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাঁর চাদরের কিনারা ধরে ফেললাম। ফলে তাঁর পেট থেকে কাপড় সরে গেল। তা দেখতে ভাঁজ করা কিবতী বস্ত্রের মত স্বচ্ছ ও মসৃণ। আমি বললাম : হে আল্লাহর নবী! আপনি এ কথা লোকদের কাছে প্রকাশ করবেন না। অন্যথায় তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলবে এবং আপনাকে কষ্ট দেবে। কিন্তু তিনি বললেন : আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাদের কাছে এ ঘটনা ব্যক্ত করব। তখন আমি আমার এক হাবশী দাসীকে বললাম ; বসে আছো কেন, জলদি, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)-এর সঙ্গে যাও, তিনি লোকদের কি বলেন তা শোনো, আর দেখো তারা কী মন্তব্য করে"।
এই হলো সেই কুখ্যাত হাদীস। যেটা দিয়ে তাঁরা প্রমাণ করতে চাই যে নবীজি উম্মে হানীর ঘরে ছিল। প্রথমেই বলে রাখি যে কোনো হাদীস থেকে দলীল নিতে হলে অবশ্যই তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা বিবেচনা করতে হবে। এই হাদীসটা গ্রহণযোগ্য না, কারণ এখানে কালবী নামক একজন বর্জনীয় রাবী আছেন, যার হাদীস অগ্রহনযোগ্য। এটা ইবনে কাসীর এর মত, আমি মোঃ মেহেদী হাসান আমার না। এছাড়াও দ্বিতীয় যে হাদীসটা আছে, যা ইমাম তাবারানি নিজের মুজামুল কাবির এতে উল্লেখ করেছেন সেখানে যে রাবী আছে আব্দুল আলা ইবন আবু মুসাওয়ির নামক, সে হলো একজন কাযযাব। কাযযাব অর্থ মিথ্যাবাদী। অতএব দুটো হাদীসকে পর্যালোচনা করে দেখলাম যে একটাও সহীহ না। দুইটা হাদীস ধরেই অগ্রহণযোগ্য । এখন বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা বলবে যে তাহলে৷ তিনি কোথায় ছিলন। সহীহ রেওয়াত অনুসারে মালেক ইবনে সা'দ থেকে বর্ণিত তিনি মক্কার হাতীম নামক জায়গায় ছিলেন। আবার সাহাবা কাতাদাহ আরও নিদিষ্ট করে বলেন যে তিনি হাতিম এর হাজির নামক জায়গায় শুয়ে ছিলেন। আশা করি কথা ক্লিয়ার�। দাড়ান সবে তো পয়েন্ট ওয়ান, দুই নাম্বার পয়েন্টাও পড়ে যান। ( প্লেজারিজম)
পয়েন্ট নাম্বার টু
________________
আপাতত আমরা দরে নিচ্ছি হাদীসটা সহীহ । এখন প্রশ্ন হলো এই হাদীসের কোন দিকটা বা কোন অংশটা পড়ে মনে হয় যে এখানে খারাপ কোনো বিষয় আছে। আপনারা যদিআরবিতে হাদীসটা পড়েন তাহলে খেয়াল করবেন যে প্রত্যেক যায়গায় বহুবচন শব্দ ব্যবহার হয়েছে। মানে হুম শব্দ ব্যবহার হয়েছে, যেটা দিয়ে বুঝায় তিন বা তাঁর অধিক, আরবিতে 'হু' মানে সে, 'হুমা ' মানে তারা আর হুম মানে তাদের / তাঁরা । অর্থাৎ ওই ঘরে আরও কয়েক জন লোক ছিল, এখন নবীজি কি ওই মানুষ গুলোর সামনে..... ( আল্লাহ রব্বুল আলামিন মাফ করুক)। আর সেই ঘরে যে তাঁরা ( উম্মে হানী আর নবীজি) ছাড়াও যে আরেকজন ছিল তার তিনটা প্রমাণ হলো সেই হাদীসি
প্রমাণ১. উম্মে হানী হাদীস বর্ণনা করার সময় বলছেন যে ' নবীজি ঘুমিয়ে যান আর আমরাও ঘুমিয়ে যায়, এখানে তিনি আমরা শব্দ ব্যবহার করেছে, যার আরবি প্রতিশব্দ হলো নাহনু, তিনি আর নবীজি যদি এই ঘরে থাকতেন তাহলে বলতেন নবীজিও ঘুমিয়ে যান আর আমিও।
প্রমাণ২. নবীজি ফজেরের সালাত আদায় করার পর বললেন যে " তোমরা তো দেখলেই আমি তোমাদের...." এখানে তুমি না বলে তোমরা বলেছেন, তোমরা শব্দের আরবি প্রতিশব্দ হলো أنت ( ant) ওইখানে যদি শুধু উম্মে হানী আর নবীজি থাকতেন তাহলে উম্মে হানীকে উল্লেখ করে বলতে গেলে একবচন ব্যবহার হ তো, কিন্তু তা করেন নি,
প্রমাণ ৩. সর্বশেষ প্রমাণ হলো উম্মে হানীর বলা সেই কথাটা, যখন নবীজি বাহিরে বেড়িয়ে আসলেন তখন উম্মে হানী তার হাবশী দাসিকে বললেন যে তার পিছু নাও। এখান থেকেও প্রমাণ হয় যে তারা একা ছিল না।
নাস্তিক লে নাস্তিক।
আর হ্যা আপনাদের যদি হাদীস সম্পর্কে পরিমাপ করার কোমো গভীর জ্ঞান না থাকে তাহলেও একটু কমন সেন্স লাগালেই বুজতে পারবেন যে এই হাদীসটাসহীহ না, চলুন পয়েন্ট গুলল দেখা যাক।
★ হাদীসে বলা হচ্ছে এশারের নামায পড়ে তারা শুয়েছে, কথা হলো মেরাজের পর এশার নামায ফরজ হয়, তাহলে মেরাজের আগে নামায পড়লেন কি করে এশারের�
★ উম্মে হানী মুসলিম হোন মক্কা বিজয়ের পর, তাহলে তিনি প্রায় এক দশক আগে নামায পড়ছেন মেরাজের রাতে এশারের, এটা কিভাবে সম্ভব
ইত্যাদি ইত্যাদি।
তো বুঝতেই পারছেন যে গলদ আছে।
তো সবকিছু বিবেচনা করে দেখতে পারলাম যে উম্মে হানীর ঘরে থাকা দাবীটা মিথ্যা, আশা করি তা বুঝতে পেরেছেন।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।