#দোয়া_নাকি_আমাদের_কর্ম?
اَمۡ لِلۡاِنۡسَانِ مَا تَمَنّٰی ﴿۫ۖ۲۴﴾
আম লিলইনছা-নি মা-তামান্না-।
মানুষ যা চায় তাই কি সে পায়?
Or shall man have what he wishes?
( নাজম-২৪)
একটা কথা কি কখনও চিন্তা করেছেন? ধরুন একটা বাঘ এবং হরিণ এর কথা। বাঘ চাই রিজিক হিসাবে হরিণকে। আর হরিণ চাই প্রাণে বাঁচতে আর এই কারণে সে আল্লাহর কাছে দোয়া করে যেন বাঘ থেকে সে রক্ষা পেতে পারে... । এখন কথা হলো আল্লাহ কার কথাটা শুনবেন? আমরা জানি আল্লাহ রক্ষাকর্তা+ রিজিকদাতা । তো আল্লাহকে একানে রিজিক কর্তা হিসাবে বাঘকে আহার এর জন্য হরিণকে ধরিয়ে দিবে? নাকি রক্ষাকর্তা হিসাবে হরিণকে বাঁচিয়ে বাঘের আহার কেঁড়ে নিবে??
ক্লাস নাইন এতে যখন পরতাম তখন পাক্কা নাস্তিক ছিলাম আমি এটা হয় তো অনেকেই জানেন। আমি তখন এই বিষয়টা+ তাকদির নিয়ে আস্তিকদের সাথে তর্কে লাগতাম বেশি। তবে তকদির নিয়ে ভালো উত্তর দিতে পারলেও কেও আমাকে সন্তুষ্টজনক উত্তর দিতে পারে নি বাঘ হরিণ এর এই বিষয়টা নিয়ে। তবে সমস্যা কি? যখন কোরআন আছে আমাদের কাছে! । পবিত্র কোরআন এর জবাব ১৪০০ বছর আগেই প্রদান করেচে আলহামদুলিল্লাহ । আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
" وَ اَنۡ لَّیۡسَ لِلۡاِنۡسَانِ اِلَّا مَا سَعٰی ﴿ۙ۳۹﴾
ওয়াআল লাইছা লিলইনছা-নি ইল্লা-মা-ছা‘আ-।
আর এই যে, মানুষ তা’ই পায় যা সে করে,
And that man can have nothing but what he does (good or bad).
( নাজম-৩৯)
কি! কিছু বুঝেছেন কি?
আমি প্রথমে কোরআন-৫৩/২৪ নং আয়াত উল্লেখ করেছি যেখানে বলা হয়েছে যে " মানুষ কি সেটা পায় যেটা সে চাই?" এখানে আমাদের দিকে লক্ষ্য করে প্রশ্নবোধক আয়াতটা ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি আমরা যেটা দোয়াতে চাবো সেটা হয় তো পাবো। কিন্তু বিষয়টা আসলে তা নয়। পৃথিবীর সকল জীবকে কর্ম করতে হবে। আর এই কর্মের সাথে জড়িত থাকতে হবে দুটো জিনিস
১. তাওয়াক্কুল অর্থাৎ সম্পূর্ণ রুপে আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা
২. সব সময় চেষ্টা করা...
হরিণ অথবা বাঘ এই দুটো প্রাণীর মধ্যে তার দোয়াটাই বা চাওয়াটা বাস্তবে রুপ নিবে যে আল্লাহর উপর ভরসা করেছে এবং সাধ্যনুযায়ী চেষ্টা করেছে। ধরুন বাঘ শুধু আল্লাহক বলল যে " হে আল্লাহ আমাকে হরিণটাকে কাছে নিয়ে আসো?" তো আল্লাহ কি বাঘের কথা শুনবেন? না সেটা শুনবেন না বরং বাঘকে শিকার করতে হবে হরিণটাকে। যদি সে দোয়া করে বসে থাকে তাহলে না খেয়ে মরতে হবে। বিপরীতে হরিণও যদি দোয়া করে বসে থাকে আর যদি বলে আল্লাহ রক্ষাকর্তা আর তিনি আমাকে রক্ষা করবেন তাই চুপ করে বসে থাকলে আমার চলবে.. আর এই কথা মনে করে সে যদি বাঘ দেখার পরেও দৌড়ে না পালায় তা হলে কি হরিণ এর রক্ষা আছে? উত্তর হলো না নেই। বাঘকে যেমন এক থাবাতে হরিণকে কাবু করার শক্তি দিয়েছে তেমনি হরিণকেও বাঘের চেয়ে অধিক গতি প্রদান করা হয়েছে যেটার মাধ্যমে সে দ্রুত দৌড়িয়ে বাঘের হাত থেকে বাঁচতে পারে.. । এখন দেখার বিষয় হলো কে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগায়। যদি হরিণ চুপ করে বসে থাকে তাহলে বাঘ থাবা মেরে হরিণকে আহার করবে আর যদি সে দৌড়ে পালায় তাহলে প্রাণে বেঁচে যাবে.... এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে বাঘ + হরিণ এর কর্ম এর উপর। আল্লাহ রিজিক এর ব্যবস্থা করে রেখেছেন সেটা আমাদের তালাশ করতে হবে আর তালাশ করার সামর্থ্য আমাদের প্রদান করা হয়েছে, তাই কর্ম করতে হবে রিজিক এর জন্য। একইভাবে আল্লাহ আত্নরক্ষা করার কলা- কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন, যে এটার প্রয়োগ করবে সে বেঁচে যাবে আর হরিণ যদি সে কলা- কৌশল ব্যবহার না করে তাহলে সে.... । মূল কথা হলে যদি চাইলে বা দোয়া করলে হবে না বরল সাধ্যনুযায়ী চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ যেমন রিজিকদাতা এবং রক্ষাকর্তা ঠিক এইরকম ভাবে তিনি ভারসম্য রক্ষাকর্তা এবং ন্যায় বিচারক। আল্লাহ তার ইচ্ছে পূরণ করবে যে চেষ্টা করেছে। বাঘ যদি চেষ্টা করে তাহলে সে তার রিজিক পাবে আর আল্লাহ এই ক্ষেত্রে রক্ষাকর্তা হবেন বিপরীতে হরিণ যদি বাঘ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে তাহলে এই ক্ষেত্রে আল্লাহ রক্ষাকর্তা হবেন......
আর এই পুরো বিষয়টাকে আল্লাহ রব্বুল আলামীন সংক্ষিপ্ত আকারে সূরা নাজম এর ৩৯ আয়াতে বলে দিয়েছেন....
লেখক : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
ফলো মাই পেজ : নাস্তিকদের যুক্তি খন্ডন
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।