শ্রী কৃষ্ণ কি সত্যিই ইশ্বর❓❔
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আজকে খন্ডন করব বৈষ্ণব সম্প্রদায়দের একটা মিথ্যাদাবী। সাথে এটাও প্রমাণ করব যে ইসকন যে বলে থাকে যীশু যে ইশ্বরের কথা বলেছেন সেই নাকি শ্রী কৃষ্ণ। আজকে সনাতনিদের ধর্মগ্রন্থ থেকেই প্রমাণ করে দিব যে শ্রী কৃষ্ণ কোনো ইশ্বর না ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রথমেই লেখার আগে আপনাদের গীতার একটা শ্লোক দেখায়, এই তথ্যটা পাবেন " গীতার ১৮ এবং শ্লোক ৬১, যেখানে বলা হয়েছে যে " হে অর্জুন, পরমেশ্বর ভগবান সমস্ত জীবকে দেহরুপ যন্ত্রে আরোহণ করিয়ে মায়ার দ্বারা ভ্রমণ করান"
এই শ্লোকটা থেকে সুস্পষ্ট ভাবে বুঝা যাচ্ছে যে শ্রী কৃষ্ণ ইশ্বর না, যদি তিনি ইশ্বর হতেন তাহলে এখানে" তাঁর " শব্দ না বলে " আমি " বলা উচিত ছিল। এই পুরো বাক্যটা পড়লে বুঝবেন যে এখানে ফাস্ট পারসন এর ব্যবহার হয় নি। যদি শ্রী কৃষ্ণ ইশ্বর হতেন, তাহলে এখানে ফাস্ট পারসন এর ব্যবহার করা হ তো। অথ্যাৎ শ্লোকটা হ তো এরকম " হে অর্জুন, আমি সকলকে আমার মায়ার দ্বারা যন্ত্রের সকল জীব জগতের ভ্রমণ করাইতাছি, তাই তুমি শুধু আমারই উপাসনা কর, আমি সকলের মোক্ষদাতা তাই আমার উপাসনা করে তুমি পরমপদ মোক্ষ প্রাপ্ত হইবে "
কিন্তু শ্লোকটা এরকম না, তাই এই শ্লোক থেকে বুঝা যাচ্ছে যে শ্রী কৃষ্ণ ইশ্বর না৷
এখন হয় তো আপনারা বলতে পারেন যে, আরে মেহেদী ভাই, তাহলে ইশ্বরটা কে ❓❔
তো এই প্রশ্নের উত্তরটা চলুন সনাতনিদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ থেকেই দিচ্ছি। পবিত্র বেদ এতে বলা হচ্ছে যে " ' ওঁ' ই একমাত্র ইশ্বর"
এই মন্তটা পাবেন প্রিয় বন্ধুরা যজুর্বেদ এর ৪০/১৭ তে।
এখানে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হচ্ছে যে "ওঁ " হল ইশ্বর, শ্রী কৃষ্ণ না। অনেকে হয় তো এখন আমাকে বলবেন যে, বিশেষ করে সনাতনিরা, আরে মেহেদী তুমি/ আপনি হয় তো জানেন না যে ওঁ এতে বুঝায় বহ্মা, বিষ্ণু, শিব, তো যারা এই কথা বলবেন, তাদেরকে শুধু একটা কথায় বলতে চায়, আর সেটা হল " ন্য তস্য প্রতিমা অস্তি" আশা করি এর কিছু আর বলতে হবে না, কথায় আছে জ্ঞানীদের জন্য ইশারায় যথেষ্ট।
আর যদি না বুঝেন তাহলে বুঝিয়ে দিচ্ছি, এই যে পড়ুন
এক জনেই বিশ্বের প্রভু " ( ঋকবেদ, ১০/১২১/৩)
" সে একজন তাঁর মতো দ্বিতীয় কেও নেয় " ( ঋকবেদ ১/২/৩
এখানে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হচ্ছে যে ইশ্বর একজন, কিন্তু আমরা যদি" ওঁ " শাব্দিক বিশ্লেষণ করি তাহলে ইশ্বর আসছে তিনজন৷ তাই এখান থেকে" ওঁ " এর প্রচলিত ধারনা ভ্রান্ত প্রমাণ হল।
এখন আসি সনাতদিদের একটা কমন প্রশ্নে, অনেকে হয় তো বলবেন যে" শ্রী কৃষ্ণ তো গীতার অনেক জায়গায় নিজেকে " আমার শরন লও" বলেছে, মানে ফাস্ট পারসন এর ব্যবহার করেছে, যা প্রমাণ করে শ্রী কৃষ্ণই ইশ্বর। এখানে আমি একটা কথা বলি, যদি এই কথা সত্যি হয় তাহলে বুজতে হবে যে গীতা পরস্পর বিরোধী কথা বলেছে, আর ইশ্বর কখনো এক মুখে দুই কথা বলতে পারে না, তাই প্রমাণ হচ্ছে যে গীতা ভূয়া। কিন্তু আমি মোঃ মেহেদী হাসান তো এই কথা বলব না।
চলুন এই বিষয়টা ক্লিয়ার করি।
গীতায় বলা হচ্ছে যে
" সর্ব ধর্ম পরিত্যাগ করিয়া কেবল আমারি শরন লও, আমি তোমাকে সকল পাপ হতে মুক্ত প্রদান করিব "
( গীতা. ১৮/১৬)
এখানে কিন্তু শ্রী কৃষ্ণ একবারও বলে নায় যে সে ইশ্বর। এবং আগের মতো ( গীতা ১৮/৬১) এর মতো কিন্তু উপাসনাও করতে বলে নায়, যিনি নিজের উপাসনার কথা বল তো তাহলে শ্রী কৃষ্ণ ইশ্বর হ তো। মূলত শ্রী কৃষ্ণ যখন ধ্যান মগ্ন অবস্থায় ছিল তখন এই শ্লোকটা উচ্চারণ করেন।
অতএব সর্বশেষ এতে এই কথা বলতে চায় যে " বেদ ও গীতার যুক্তি অনুসারে শ্রী কৃষ্ণ কখনই ইশ্বর নন নন নন, কোনো দিনই শ্রী কৃষ্ণ ইশ্বর ছিলেন না।
আর এই বিষয়টা আমরা কমন সেন্স দিয়েও বুঝতে পারব। খেয়াল করুন
ইশ্বরের কি কোনো পিতা মাতা আছে❓❔
ইশ্বরের কি বউ আর সতান আছে❓❔
ইশ্বর কি যুদ্ধ করে❓❔
ইশ্বর কি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয় ❓❔
ইশ্বর কি আহার করে ❓❔
ইশ্বর কি তন্দ্রা অথবা নিদ্রা যায় ❓❔
উত্তর হবে, এক কথায় না।
কিন্তু আমরা দেখতে পায় যে শ্রী কৃষ্ণ এইসব কর্ম করেছেন, তাহলে তিনি ইশ্বর হল কীভাবে❓❔
আশা করি আমার কথাগুলো বুঝেছেন
এই টপিক এর লেখা এখানেই শেষ ।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
[ যদি কোনো নাস্তিক আমার লেখার বিরোধী করে তাহলে বুঝবেন, সে হল হিন্দু ]
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।